টঙ্গীবাড়ীতে স্বামী হামলায় আহত গৃহবধূর মা,বাবা ও ফুফু

1616513371723মো.নাজির হোসেন:
মুন্সীগঞ্জে-যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন এক নেশাখোর স্বামী। পরে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকাল ৪ টার দিকে ওই নির্যাতিত গৃহবধূ রজনি আক্তারকে নিয়ে তার বাবা, মা ও ফুফু মারধরের কারণ জিজ্ঞাসা করতে স্বামীর বাড়ি গেলে স্বামী ও তার পরিবারের
লোকজন ওই গৃহবধূ রজনী আক্তার (২৩), তার পিতা- শামসুল হক, মা- নারগিস বেগম ও ফুফু আলেয়া বেগমকেও পূর্নরায় পিটিয়ে গুরুতর জখম করছে।
আহত অবস্থায় তাদের মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ব্যাথা নাশক ইনজেকশন দিয়ে তাদের টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলেছেন বলে আহত শামসুল হক জানান।
জানা গেছে, বিগত ৩ বছর আগে সদর উপজেলার খানকা দালালপাড়া গ্রামের শামসুল হক এর মেয়ে রজনি আক্তার এর সাথে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের বুড়ির বাড়ি এলাকার মৃত কাদির মিয়ার ছেলে দ্বীন ইসলামের (২৫) বিয়ে হয়। বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
1616513371734রজনির বাবা শামসুল হক আরোও জানান, বিয়ের পর জানতে পারি রজনির স্বামী মাদকাশক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে বিভিন্ন সময় নেশাকরার জন্য আমার মেয়েকে আমার বাড়ি হতে টাকা পয়সা নিয়ে দিতো বলতো।
গত ২১ মার্চ বিকালে আমার মেয়ে আমার বাড়ি হতে বেড়ানো শেষে তার স্বামীর বাড়ি গেলে তার স্বামী আমার বাড়ি হতে টাকা এনেছে কিনা জানতে চায় । রজনী টাকা নেয়নি বললে নিজঘরে রজনিকে আটকে ব্যাপক মারধর করে স্বামী দ্বীন ইসলাম।
রজনি জানান, আমাকে কাঠের দাসা দিয়ে পিটিয়ে প্রথমে মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে আমার দু-হাত বাঁধে। আমার গলার ওড়না পেঁচিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেস্টা করে। পরে আসে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী আমার বাবাকে খবর দিলে তিনি এসে প্রথমে আমাকে টঙ্গিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। পরে বাবা আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এনে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামকে আসামী করে টঙ্গিবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিতার বাবা সামছুল হক। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দ্বীন ইসলাম।
পরে আজ মঙ্গলবার রজনিকে মারার কারন জানতে দ্বীন ইসলামের বাড়িতে গেলে দ্বীন ইসলাম (২৫), আল আ‌মিন (৩০), আসলাম (২৯) সহ ১০/১২ জন রজনী আক্তার (২৩), তার পিতা- শামসুল হক, মা- নারগিস বেগম ও ফুফু আলেয়া বেগমকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
রজনীদের নিয়ে যাওয়া অটোরিকশা চালক জানান, মারধরের পর এরা আমার গাড়িতে চলে আসার জন্য ওঠে। তারপরেও ১০ থেকে ১২ জন এসে মেয়েকে কিল,ঘুষি মারে।আমার অটোরিকশায়ও লাঠি দিয়ে বারি দেয়।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি মোঃ হারুন আর রশিদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here