মুন্সীগঞ্জে বজ্রযোগিনীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী-পুরুষ আহত

161963868_1497383710611675_757869674174009909_nনিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে শালিসি বৈঠক চলাকালীন সময়ে ডেকরাপাড়া গ্রামে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে কমপক্ষে উভয় পক্ষের

নারী পুরুষসহ ২৩জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোতা মিয়া মুন্সী, স্থানীয় ওয়ার্ডের সকল মেম্বারগণ ও পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে।

জানা যায়, গ্রাম্য শালিসিতে ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে শুরু হয়। এ সময় হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির উদ্দিন শালিস বৈঠকে একজনের পক্ষ নেন বলে অভিযোগ উঠে। এ পক্ষ অবলম্বন করার পরিপ্রেক্ষিতে এখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে উপস্থিত মেম্বার ও চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন।

আহতদের মধ্যে সাইদ গ্রুপের শরীফ (৩২)। কামাল গ্রুপের কামাল (৪০), মজিবর (২২), রোমান (৫০), জয়নাল (৫০), দিপু (১৬), মিজানুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকী আহত অন্যদের নাম এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো সিয়াম (১৬), সাইদ (২০), সোহাগ (২৫)। অন্য আরো বাকীদের যাচাই বাছাই করে গ্রেফতারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্র মতে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এজমালি জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো কামাল ও সাইদ গ্রুপের মধ্যে। এর মধ্যে বিরোধ পূর্ণ জায়গায়ই আবার ওয়ার্কফ করে জায়গা লিখে দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ দিকের ৫ থেকে ৭টি পরিবারের বসবাস করছে।

বর্তমানে তাদের বের হওয়ার কোন রাস্তা নেই সেখানে। তাদের বের হওয়ার জন্য কিভাবে রাস্তা তৈরী করা যায় সে বিষয়ে সমাধান চেয়ে হাতিমারা ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন কামাল। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে বুধবার শালিস বৈঠক চলছিল।

বৈঠকের শেষ পর্যায় সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান তোতা মিয়া মুন্সী সিদ্ধান্ত দেন যে বিরোধপূর্ণ জায়গা বাদ দিয়ে বাকী জায়গা মাপ দিয়ে রাস্তা দেয়া হবে। দিন তারিখ নির্ধারণ করা হবে এমন সময় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথম পর্যায় চেয়ার নিয়ে মারামারি শুরু হয়।

এরপর পরে লাঠি সোটা নিয়ে মারামারি হয় বলে শোনা যাচ্ছে। এ সময় উভয় পক্ষের মহিলাদের লাঠি সোটা একে অপরকে আগাইয়া দিতে দেখা যায় বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ সময় বহিরাগত অনেক লোকজন উপস্থিত হয় বলে জানা যায়।

শালিসের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান তোতা মিয়া মুন্সীর সামনেই হাতিমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে করে বলেন রাস্তা কিভাবে দেয়া যায় সে বিষয়ে কথা না বলে আপনি কামালের কতটুকু জায়গা দখলে আছে এবং কাগজে কলমে কতটুকু আছে সে বিষয়ে কথা বলেন।

এ কথার পরিপেক্ষিতেই এখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কামালকে জেরা করে বলেন, জোর করে জায়গা দখল করার জন্য ঘর তুলতে গিয়ে তো ঘর তুলতে পারেননি। যেহেতু জায়গা দখলে নেই সেই জায়গার দাবীও আপনি করতে পারেন না।

কামাল ও সাইদ গ্রুপের মাঝে এভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। শালিস শেষ হতে না হতেই তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায় দুই পক্ষের মধ্যে। চেয়ারম্যান ও আইসির সামনেই একজন আরেক জনের মাথা ফাঁটিয়ে ফেলে। চেয়ার, লাঠি সোটা দিয়ে একে অপরের উপর হামলে পরে।

এ বিষয়ে হাতিমারার ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান, এক পক্ষের হয়ে তিনি উসকে দিয়েছেন অভিযোগ করলে তিনি অস্বীকার করেন এবং বলেন উভয় গ্রুপ থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে নিরহ লোক থাকলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here