সিরাজদিখানে চাঞ্চল্যকর জনি হত্যা

Munshiganj-NEWS-PHOTO_JONIR MAA_BABA_-11-04-2021তুষার আহাম্মেদ:

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আইসা ভাত খামু মা। তুমি আমার জন্য চিন্তা কইরো না। আমি সন্ধ্যায় বাড়িতে আমু। একটা খেপ আছে। মা মিনারা বেগমের সঙ্গে এটি ছিলো মো: জনি মাদব্বরের শেষ কথা। সন্ধ্যায় আর বাড়ি ফেরা হয়নি জনি মাদব্বরের। ভাত ও খাওয়া হয়নি আর মায়ের সঙ্গে। বাড়ি ফেরার আগেই দুষ্কৃতিকারীরা নৃশংসভাবে

মো: জনি মাদব্বরকে (২২) হত্যা করে তার মৃতদেহ মধ্যম শিয়ালদি মনাই মোল্লার জমিতে ফেলে রাখে। পুলিশ খবর পেয়ে সেখান থেকে মো: জনি মাদব্বরের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ৩ বছর আগে ছেলের নৃশংস হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ মা মিনারা বেগম। ছেলের বিচারের দাবীতে মা ও বাবা আইনের কাছে আর্তনাদ করে ফিরছেন। তবু বিচার পাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে তার বুকে জমানো অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি এ সব কথা বলে। তিনি কান্না কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন,অটোরিক্্রার মালিক আফজালকে বলেছিলাম তুমি জনিকে গাড়ি দিওনা। তবুও সে জনিকে গাড়ি দিছে।

এ আফজাল শেখ ওই রাতে আমাদের বাড়িতে আসে। খবর দেয় জনির গলাকাটা লাশ মনাই মোল্লার জমিতে পরে আছে। আমার অটোরিক্্রা উদ্ধার করেছি। আমার ছেলে জনিকে হত্যা করার পেছনে আফজাল শেখের রহস্য রয়েছে।

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদি ইউনিয়নের ছোট পাউলদিয়া গ্রামের অটোরিক্্রা চালক মঞ্জু মাদব্বর ও মিনারা বেগমের ছেলে মো: জনি মাদব্বর দৃস্কৃতিকারীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন।

তার হাত পা গলাকাটা মৃতদেহ মধ্যম শিয়ালদি গ্রামের মনাই মোল্লার ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলের এ নির্মম নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনার পর থেকে মা মিনারা বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে পরেন। স্বামী মঞ্জু মাদব্বর। সন্তান হারিয়ে প্রায় এখন নি:সঙ্গ। ছেলের উপার্জনের টাকা দিয়ে সংসার চলতো তাদের ভালো মতোই।

কিন্তু ছেলের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর টেনে টোনে তাদের সংসার চলছে। তালতলা বাজারে ছোট দোকান বসিয়ে ফল বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মঞ্জু মাদব্বর।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনার ব্যাপারে মা মিনারা বেগম জানান, ওয়াসেক মাদব্বরের ছেলে সজল জনিকে সায়লাদের বাড়িতে যেতে নিষেধ করেছিলো। সায়লাদের বাড়িতে যদি জনি যায় তাহলে সজল মাদব্বর জনির হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলবো বলে হুমকি দিয়েছিলো।

তিনি কান্না কন্ঠে আরো বলেন, ওরা আমার ছেলে জনির ডান পায়ের রগ কাটছে, গলা কাটছে, বাম চোখে ছুরি বসাইছে, মুখের ভেতরে রুমাল ঢুকিয়ে খুন করছে। পুলিশ তো ৩ বছরেও আমার সঙ্গে কোনো কথা বলতে আসে নাই। এ কথা গুলো আমি কাউকে বলতে পারি নাই। আমার ছেলে জনি খুন হওয়ার দু’দিন আগে আমাকে বলছিলো এ কথা।

মিনারা বেগম তার সন্তান মো: জনি মাদব্বরের নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করে বলেন,আমরা গরিব,টাকা পয়সা নাই। এ জন্য কী আমার সন্তানের বিচার পামু না ? আমি আইনের কাছে আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

এদিকে এ মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যম শিয়ালদি গ্রামের মনাই মোল্লার ফসলি জমিতে একটি লাশ পাওয়া যায়। এ খবর শুনে মঞ্জু মাদব্বর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌছে তার ছেলে মো: জনির মৃতদেহ সনাক্ত করেন।

এ সময় গলার বাম পাশে,কন্ঠনালী ও ডান পায়ের গোড়ালির উপরের সামনে ও পেছনের রগ কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় মো: জনি মাদব্বরের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে ছিলো।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয় যে, ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৫ এপ্রিল সকাল অনুমান সাড়ে ৮টার মধ্যে যে কোনো সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা পৃর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলে মো: জনি মাদব্বরকে মনাই মোল্লার ফসলি জমিতে নিয়ে যেয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত মো: জনি মাদব্বরের বাবা মঞ্জু মাদব্বর ৫ এপ্রিল সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নাম্বার-৪। বর্তমানে এ মামলাটি মুন্সীগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ মামলায় স্থানীয় শাহজাহান শেখের ছেলে মো: শান্ত শেখকে সন্দেহভাজ গ্রেফতার হয়।

অপরদিকে গত ৮/৩/২০২১ তারিখে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি মো: রেজাউল হক ও বিচারপতি মো: আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মো: শান্ত শেখকে ১ বছরের জন্য অর্ন্তবতীকালীন জামিন প্রদান করেন।

এদিকে মো: শান্ত শেখ জামিন পেয়ে তার সঙ্গীদের নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নিহত মো: জনি মাদব্বরের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত জনি মাদব্বরের মা মনিরা বেগম ও বাবা মঞ্জু মাদব্বর।

এদিকে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুন্সীগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)এর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে এ কর্মকর্তা জানান,

পর্যাপ্ত সাক্ষী না থাকার কারণে এ মামলার সন্দেহভাজন আসামী মো: শান্ত শেখ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। এ ছাড়া অটোরিক্্রাচালক মো: জনি মাদব্বর হত্যা মামলায় সুনিদিষ্ট কাউকে আসামী হিসেবে সনাক্ত করা হয়নি। এ মামলাটি এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে মামলা তুলে নিতে সন্দেহভাজনেরা নিহত অটোরিক্্রাচালক মো: জনি মাদব্বরের পরিবারকে হুমকি-দমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত মো: জনি মাদব্বরের বাবা ও মা। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, কে বা কারা নিহতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এ ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। যদি এ ধরনের কিছু হয়ে থাকে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ছোট পাউলদিয়া গ্রামের মঞ্জু মাদব্বরের ছেলে অটোরিকসা চালক মো: জনি মাদব্বর ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল দুষ্কৃতিদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। তার

মৃতদেহ পাশ্ববর্তী মধ্যম শিয়ালদি গ্রামের মনাই মোল্লার ফসলি জমি থেকে পুলিশ উদ্ধার করেন। এ সময় গলার বাম পাশে,কন্ঠনালী ও ডান পায়ের গোড়ালির উপরের সামনে ও পেছনের রগ কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় মো: জনি মাদব্বরের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে ছিলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here