টঙ্গীবাড়ীতে নজরুল ছয় বছরে কোটিপতি!

174817667_4100646249979458_3842890400181609176_nনিজস্ব প্রতিবেদক: ছয় বছর আগেও মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে চাকুরি করতো টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের কাইচাইল গ্রামের আ. রশিদ হালদারের ছেলে নজরুল ইসলাম।

প্রায় দশ বছর আগে ধর্ষণের অভিযোগে হাজত খেটে বের হন তিনি। এছাড়াও বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্প পোড়ানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। জানা যায়, ৪ থেকে ৫ বছর আগে মালয়োশিয়া হতে স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসা করতেন তিনি।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কাইচাইল গ্রামের দরিদ্র দিন মজুর রশিদ হালদারের ছেলে নজরুল এক সময় বাবার সাথে দিন মজুরের কাজ করতো। পরে বিগত প্রায় ছয় বছর আগে সুবচনী বাজারে তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে স্থানীয় একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে চাকুরি নেন তিনি। কিন্তু অর্থ আত্মসাতের কারণে সে চাকুরিও টিকেনি দিন তার।

অথচ এখান সে কোটি কোটি টাকার মালিক। দামি গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ায় সে। টাকার জোড়ে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না তিনি। বিপুল অর্থ খরচ করে বিগত ইউপি নির্বাচনে জয়লাভ করে হয়েছেন আউটশাহী ইউপি ৯নং ওয়ার্ড সদস্য।

কিন্তু ইউপি সদস্য হয়েও অনিয়মের রাজস্ব কায়েম করেছেন তিনি। সম্প্রতি টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সুবচনী বাজার হতে কাইচাইল গ্রাম পর্যন্ত ৩২শত ফিট রাস্তায় কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রজেক্ট হতে হত-দরিদ্র মানুষদের দিয়ে কাজ করানোর শর্তে ২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়।

কিন্তু সে রাস্তার টাকা আত্নসাৎ করার জন্য শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে বেকু মেশিন (মাটি খনন যন্ত্র) দিয়ে কাজ করিয়ে টাকা বাঁচিয়ে আত্নসাৎ করার পাঁয়তারা করছে সে। এছাড়াও টাকা বাঁচানোর জন্য ওই রাস্তায় প্রায় ৫ বছর আগে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ হতে বিছানো ইট ঠিক মতো না তুলে কিছু ইট তুললেও তা রাস্তার পাশে ফেলে বেকু দিয়ে ইট গুলোকে মাটিচাপা দিচ্ছে সে।

এ ব্যাপারে আউটশাহী ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ১ কোটি টাকা ব্যায়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে সে অভিযোগ করেছে। আর এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন নিজে বাদী হয়ে আজ শনিবার ১৮ এপ্রিল টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগেও বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল রাতে সে টঙ্গীবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

শুধু তাই নয় বেকু মেশিন দিয়ে কাজ করতে গিয়ে ওই এলাকার মানুষের রাস্তার পাশে লাগানো গাছপালা নির্বিচারে কর্তন করে নজরুল। তার বিরুদ্ধে ওই এলাকার জয়নাল কাজি, রফিক দেওয়ান, রমাই দেওয়ান, সোলাইমান দেওয়ান, বাবুল দেওয়ান, কাদির সেখ গংরা নির্বিচারে তাদের গাছ কাটার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটলে আমাদের গাছগুলো এভাবে ক্ষতি হতো না। বেকু মেশিন দিয়ে

মাটি কাটার কারণে এই মেশিন গর্ত থেকে রাস্তার উপর ঘুরিয়ে মাটি উঠাতে অনেক জায়গার প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের গাছগুলো মেম্বার টাকা বাঁচানোর জন্য শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে আমাদের আম গাছগুলো নির্বিচারে কাটা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার গ্রাম্য মাতবর এনামুল হক জানান, কয়েক বছর আগেও নজরুল একটি মাল্টিপারপাসে চাকুরি করতো। ওই মাল্টিপারপাসে টাকা নিয়ে ওর সাথে ঝামেলা হয়ে ছিলো। এ নিয়ে বিচার হলে আমি ওই বিচারে ছিলাম।

সাংবাদিকরা তার অপকর্মের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের একাধিক সাংবাদিককে তিনি লঞ্চিত করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে ফোন করলে সে জানায়, আপনি এসে রাস্তার কাজ করে যান বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি এক প্রভাবশালী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরকে দিয়ে প্রতিবেদককে ফোন করান।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের সচিব মাসুদ রানা জানান, ওই রাস্তাটির জন্য যে ২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে তা কাবিটা প্রজেক্টের। এই প্রজেক্টের কাজ শ্রমিক দিয়েই করাতে হয়।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন জানান, বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে রাস্তার ইট ঢাকার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here