অভিনেতা ভানু বিক্রমপুরের সন্তান (ভিডিওসহ)

downloadমোহাম্মদ সেলিম:

মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে মৈসুণ্ডি গ্রামে ১৯২০ সালের ২৬ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর প্রকৃত নাম হচ্ছে সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পিতার নাম হচ্ছে জিতেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মার নাম হচ্ছে সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ভানু ছিলেন ছোটর ওপরের জন।

ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাসের পর ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে।

এরপর স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে তাঁর সতীর্থ ছিলেন সাংবাদিক নির্মল সেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সত্যেন বসু, ড. জ্ঞান ঘোষ ও মোহিত লাল মজুমদারের প্রিয় ছাত্র ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল এবং জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষ করে ভানু কলকাতায় ফিরে আসেন ১৯৪১ সালের দিকে। এখানে এসে তিনি আয়রন এন্ড স্টীল কোম্পানি নামে একটি সরকারি অফিসে যোগ দেন। ভানু বালিগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে তাঁর বোনের কাছে দু’বছর থাকেন। এরপর ভানু টালিগঞ্জের চারু এভিনিউতে বসবাস শুরু করেন।

ভানুর বাবা জিতেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্র নাথের ভ্রাতুষ্পুত্রের বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ঠাকুর বাড়িতে গৃহ শিক্ষক ছিলেন। পরে ভানুর বাবা ঢাকার নবাব এস্টেটের সদরে মোক্তার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন।

আর মা সুনীতি দেবী কর্মরত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা দপ্তরে। বাবা ও মা সেই সময়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকায় ব্রিটিশ বিরোধী মত প্রচার ও প্রকাশ করা ভানুদের বাড়িতে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও ১২ বছরের ভানু লুকিয়ে যোগ দেন স্বদেশি আন্দোলনে।

প্রথমে ১৯৪৭ সালের দিকে জাগরণ ছবির মাধ্যমে ভানু অভিনয় জীবন শুরু করেন। সেই একই বছর তাঁর অভিযোগ নামে অন্য একটি ছবি মুক্তি পায়। এরপর ধীরে ধীরে ছবির সংখ্যা বাড়তে থাকে।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হচ্ছে ‘মন্ত্রমুগ্ধ’। ১৯৪৯ সালে এ ছবিটি মুক্তি। তারপরে ১৯৫১ সালে বরযাত্রী ছবিটি মুক্তি পায়। ১৯৫২ সালে পাশের বাড়ি ছবিটি মুক্তি পায়।

১৯৫৩ সালে সাড়ে চুয়াত্তর ছবিটি মুক্তি পায়। এই ছবির মাধ্যমে ভানু অভিনয় জগতে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এর পরের বছর ওরা থাকে ওধারে ছবিটি মুক্তি পায়।

১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া অনেক ছবির মধ্যে ভানু’র দু’টি জনপ্রিয় ছবি হচ্ছে ভানু পেল লটারি ও যমালয়ে জীবন্ত মানুষ। তাঁর আরেকটি ছায়াছবি পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এ ছবিটি ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায়।

এই ছবিতে প্রথমবারের মতো ভানু নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন। তাঁর বিপরীতে এ ছবিতে নায়িকা ছিলেন রুমা গুহ ঠাকুরতা। ১৯৬৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ছবি হচ্ছে ৮০তে আসিও না।

এই ছবিতে ভানু নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন। এখানে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন রুমা দেবী। ১৯৬৭ সালে ভানু’র আরো একটি ছবি মুক্তি পায়। মিস প্রিয়ংবদা। এ ছবিতে তিনি চরিত্রের প্রয়োজনে মহিলা সেজে অভিনয় করেন। এখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন লিলি চক্রবর্তী।

১৯৭১ সালের দিকে ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট ছবিটি মুক্তি পায়। ভানুর শেষ ছবি ছিল শোরগোল। ১৯৮৪ সালে এ ছবিটি মুক্তি পায়। এর কিছু দিন পর ভানু মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here