বিবদ ঘোষের মাঠায় মানব দেহের জন্য বিপদ!

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

শরমিতা লায়লা প্রমিঃ

মিরকাদিমের মাঠার সুনাম এলাকা ছেড়ে অন্যান্য জেলায় বিস্তৃত এর কারন মাঠা ঘন এবং সুস্বাদু। দাম কিন্তু কম নয় এক লিটার মাঠার দাম প্রকারভেদে ১২০/০০ টাকা থেকে ৩০০/০০ টাকা। লাভজনক এই ব্যবসায় বিবদ ঘোষের মাঠার চাহিদাও প্রচুর,

সচরাচল তিনি ১২০ লিটার মাঠা বিক্রি করে থাকে আর রমজানের সময় বিক্রি বেড়ে ১২০০ লিটারে পৌঁছে যায়। প্রতি লিটার দুধের দাম ৫০/০০ টাকা থেকে ৮০/০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, এক লিটার দুধে পরিমান মতো পানি মিশানো হয়, দিতে হয় পরিমান মতো চিনি,

 তবে মাঠা যত ঘন হবে দুধে পানি তত কম মিশ্রণ করা হবে, দামও বেশি হবে।সচরাচর প্রতি লিটার মাঠায় ২০/০০ টাকা থেকে ৪০/০০ টাকা লাভ হয়। মাঠা দৃষ্টি নন্দন করতে রং মিশানো হয় তেমন লাভ বেশি করার জন্য চিনির বিকল্প সেকারিন অর্থাৎ”সোডিয়াম সাইক্লামেট”, দেওয়া হয়।

অতি মুনাফাই বিবদ ঘোষের কাল হল, ধরা খেল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষক এর ভেজাল বিরোধী অভিযানে, ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জরিমানা করেন ২০,০০০/০০ টাকা। গোপপাড়ায় বিবদ ঘোষের মতো কৃষ্ণ ঘোষ, নাড়ু ঘোষ, ধীরা ঘোষসহ অনেকেই মাঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

জানা যায় তারা সকলেই মাঠায় সেকারিন অর্থাৎ”সোডিয়াম সাইক্লামেট”,এবং পরিমিত রং মিশান। একসময় গোপপাড়ার ঘোষরা নানা ধরনের মিষ্টি রসগোল্লা, লালমোহন, জিলাপি, আমিত্তি, চমচম, বাসাইপোক, সন্দেস, দইসহ নানা ধরনের মিষ্টিজাত দ্রব্য বিক্রি করে আসছে,

 তাদের অধিকাংশ মিষ্ট ঢাকা- নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।মিরকাদিমের মিষ্টির একটি সুখ্যাতি আছে কিন্তু দুধ আর চিনির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টির মানগত দিক ঠিক রাখা সম্ভব হয় না তাই মিষ্টির মান ঠিক থাকে না। তাই মিষ্টির পাশাপাশি গোপপাড়ার ঘোষরা এখন মাঠা, দই আর পিঠা যেমন পাটিসাপটা, মাউলপা, খিরসা, কুলি পিঠা তৈরি করে নানা জায়গায় বিক্রি করছে, তবে তারা অনেক জায়গা এবং দোকানের অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করে থাকে,

 বিবাহ বাড়িতে দই তৈরির কাজেও ঘোষরা অর্ডার নিয়ে থাকে। এই বিষয় মিষ্টি এবং মাঠায় ভেজাল মিশানো বিষয় গোপপাড়ার গণেশ ঘোষ বলেন দাম, মান ও বাজার মুল্য ঠিক রেখে অন্যান্য এলাকা এবং জেলার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্যেই মাঠা ও মিষ্টি জাত দ্রব্যে পরিমিত রং ও সেকরিন মিশানো হয়, তবে এই রং মিটফোর্ড থেকে আনা হয় খাবার উপযোগী রং হিসাবে।

তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের ভেজাল অভিযানের পর এখন রং আর সেকরিন না মেশানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই বিষয় মিরকাদিম পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই ধরনের অভিযানকে ধন্যবাদ জানাই, এই অভিযান মিরকাদিমবাসীর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ থাকবে

এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যরক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন হবে, তবে মিরকাদিমের অতিহ্যবাহি গোপপাড়ার ঘোষদের ব্যবসার যাতে ক্ষতি নাহয় সেই বিষয় তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কমনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here