মুন্সীগঞ্জে মাঘি পূর্ণিমাতে হরিশ চন্দ্রের দীঘিতে পানি বাড়ে!

mnews-groupমোহাম্মদ সেলিম, সাগর মাহমুদ ও হোসাইন শাহরিয়ার:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রগুরামপুরে রয়েছে প্রাচীন দীঘি। এ দীঘির নাম হচ্ছে রাজা হরিশ চন্দ্রের দীঘি। এ দীঘিটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দীঘি’র মধ্যে একটি।

এ দীঘির যাতে কোন ক্ষতি সাধন না হয় সেই লক্ষ্যে তৎকালিন ব্রিটিশ সরকার এ দীঘির দক্ষিণ ও উত্তর দিকের সীমানায় দুটি সর্তকবাণীর সাইন বোর্ড লাগিয়ে রেখেছেন।

স্থানীয়ভাবে এ দীঘিটি মাঘী পূর্ণিমা দীঘি নামে অনেকের কাছে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে এ জনপদে রাজা হরিশ চন্দ্র দীঘিটি খনন করে ছিলেন। এক সময়ে প্রাচীন এ দীঘিটির একটি উল্লেখ যোগ্য বৈশিষ্ট ছিল দীঘিটির জলের ওপরে ভারি ধাম ভাসতো। সেই সময়ে দীঘির ওপরের অংশটি ধামের কারণে অনেক নীচে পড়ে থাকতো। দেখলে মনো হতো এটি খেলার মাঠ।

সেই সময়ে এ ধামের উপরে দীঘির আশপাশের ছেলেপুলেরা খেলাধুলা করতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেকে আবার এ ধামের ওপর ছাগল ও গরু চড়ে বেড়াতেও দেখেছেন। তখন কেউ এ দীঘিতে পানি ব্যবহার করতো না। মাঘি পূণির্মার দিন পানি’র জোয়ারের চাপে ধাম নিচ থেকে উপরের দিকে চলে আসতো।

তখন এ ধামের উপর দিয়ে আগত লোকজন ও স্থানীয়রা পায়ে হেটে এপার থেকে ওপারে চলে যেতো। এ সময় অনেকে ধামের ওপর থেকে এলাচি গাছ থেকে এলাচি কুড়াতো। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তেনর পর জিয়া সরকারের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ ৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নির্বাচনের পর এ দীঘি থেকে ধাম সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন। এরপর থেকে এ দীঘিতে গোসলসহ মাছ চাষ করা হচ্ছে।

রগুরামপুরের গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এ দীঘি থেকে ধাম সরিয়ে ফেলার আগে অনেকেই বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে ছুটে আসতো। অনেকে আবার এ দীঘিটির চারদিক সাত পাকে পাক দিতো। তাতে নাকি অনেকের মনোবাসানো পূর্ণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। রগুরামপুরের পূর্ব পুরুষেরা জানিয়েছেন, এ দীঘিতে সঠিক মানতে রান্নাবান্নার বড় পাতিল ও পিতলের জিনিসপত্র আপনা আপনি ধামের উপরে ভেসে উঠতো। মানতকারিরা কাজ শেষে এগুলো আবার ফিরিয়ে দিয়ে যেতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

১০৯১ থেকে ১১০৩ সাল পর্যন্ত পাল বংশীয় রাজা শূর পালের ভাই রামপাল বিক্রমপুর অঞ্চল শাসন করেন। সেসময় তার নামানুসারে রামপাল গ্রামের নামকরণ করা হয়ে ছিল বলে ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন। পাল বংশের একাধিক রাজারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ছিলেন।

তবে তাদের মধ্যে হরিশ চন্দ্র রাজার রাজত্ব রংপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি সাভারের কাঁঠালবাড়ী থেকে তার রাজ্য পরিচালনা করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

এ দীঘিটি কে খনন করে ছিলেন সে সম্পর্কে ইতিহাসবিদরা এখনো সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে পারেননি। তবে মনে করা হয় রাজা হরিশ চন্দ্রের শাসন আমলে এ দীঘিটি খনন করা হয়ে ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here