রামপালে রাজা বল্লাল সেনের দীঘি

IMG_8085মোহাম্মদ সেলিম, সাগর মাহমুদ ও হোসাইন শাহরিয়ার:

প্রাচীন বিক্রমপুরের রামপালের রাজা বল্লাল সেন একজন ধার্মিক রাজা ছিলেন। তিনি তার সময়ে বিক্রমপুরে ধর্ম প্রচারে একাধিক মন্দির নির্মাণ করেন। মায়ের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। তিনি প্রজাদেরকেও খুব ভালোবাসতেন। তাদের দু:খ কষ্ট দূর করার চেষ্ঠা করতেন। তার সময়ে রামপালে খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। সেই সময়ে তিনি রামপালে দীঘি খননের উদ্যোগ নেন।

রাজা বল্লাল সেন ঘোষণা দেন এক রাতের মধ্যে তার মা যতোটা পতিত জমি পায়ে হেটে যাবেন, ততটুকু জমিই দীঘি হিসেবে খনন করা হবে। রাজা বল্লাল সেন ভেবে ছিলেন বৃদ্ধ মা আর কতোটুকুই হাটতে পারবেন। কিন্তু রাজমাতা পায়ে হেটে অনেক দূর চলে যান। রাজা বল্লাল সেন ছলনার মাধ্যমে মায়ের পথরোধ করেন। তার পরে বিশাল এলাকা নিয়ে এখানে দীঘি খনন করা হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, রাজা বল্লাল সেন দীঘি খনন নিয়ে মায়ের সাথে ছলনা করায় সেই দীঘিতে আর কখনো পানি উঠেনি। বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে এটিকে কেউ কখনো দীঘি বলবে না। তবে বর্ষা কিংবা বন্যার পানি আসলে এটি ডুবে যায়। আর শুস্ক মৌসুমে এখানে মাইলের পর মাইল চাষাবাদ করা হয়। তবে বর্তমানে এর আশপাশে বসতি গড়ে উঠেছে। অনেকে আবার বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

সরকারি তথ্য বাতায়নে মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে হাজার বছরের পুরোনো রাজা বল্লাল সেনের দীঘি বা রামপালের দীঘির নাম উল্লেখ করা আছে।

১০০ বছর আগের সিএস রেকর্ডে ১৮৯০ সাল থেকে ১৯১২ সালের দিকে এ দীঘির জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় দেখানো হলেও ঠিক কখন এই পরিবর্তন করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। প্রাকৃতিকভাবে আস্তে আস্তে দীঘিটি মাটি ভরাট হয়েছে। যাঁরা এই দীঘি ও সংলগ্ন জায়গা রেকর্ড করে নিয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন সময় ওই জমি বিক্রিও করছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রামপাল কলেজের দক্ষিণ পাশে বল্লাল সেন বা রামপালের দীঘিটির অবস্থান। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রামপাল ইউনিয়নের রামপাল ও গোবিন্দপুর এই দুটি মৌজায় প্রায় ৪৬ একর সম্পত্তির ওপর দীঘিটি রয়েছে।

এর মধ্যে খালের মতো দেখতে মাত্র ১৪ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। আর বাকি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা আছে। এদিকে সাড়ে ৩০০ বছর আগে স্থাপিত মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর দুর্গটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তাদের তালিকাভুক্ত করলেও ঐতিহ্যবাহী বল্লাল সেনের দীঘিটি তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here