সিরাজদিখানে পাঁচ পীরের মাজার

IMG_9264মোহাম্মদ সেলিম:

সিরাজদিখানে পাঁচ পীরের পাঁচটি মাজার রয়েছে। আর এ পাঁচটি মাজার পাঁচ জায়গাতে রয়েছে। প্রাচীন বিক্রমপুরে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য মধ্যে প্রাচ্য থেকে পাঁচ সুফি দরবেশরা সিরাজদিখানে আসেন।

সিরাজদিখানে পাঁচ সুফি দরবেশরা ধর্ম প্রচারের সময়ে এখানেই মৃত্যু বরণ করেন। তারা ইসলাম ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি কামেল সূফি দরবেশ ছিলেন।

তাদের মৃত্যুর পর এখানে তাদের নামেই মাজার গড়ে উঠে। যেহেতু তারা এ জনপদে এক সাথে আসায় তাদের মাজারের মধ্যে সিরাজদিখানের মাজারটি পাঁচ পীরের মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

অন্য চারটি মাজার ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এর মধ্যে একটি মাজার ১৪ হাত লম্বা রয়েছে। অন্য চারটি মাজার স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে।

সিরাজদিখান বাজারের প্রধান সড়কের পাশেই রয়েছে পাঁচ পীরের মাজার। এটি পাঁচ পীরের মাজার হলেও এখানে একজনের মাজার রয়েছে। তবে জনশ্রুতি রয়েছে পাঁচ পীরের মধ্যে এ পীরের মাজারের সুফি দরবেশ ছিলেন সবার প্রধান। তাই এটি পাঁচ পীরের মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এই মাজারে ১৮৪৫ সালের একটি নামফলক রয়েছে। ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন এ সালটি সঠিক নয়। কারণ হচ্ছে সুফি দরবেশ শেখ শাহ জালাল ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম ধর্ম প্রচারে সিলেটে আসেন।

শাহ জালালের সঙ্গী-অনুসারীদের মধ্য হতে অনেক পীর দরবেশ সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করেন। তারা গ্রামগঞ্জে ইসলাম ধর্ম প্রচারে অংশ নেন। সেই সময়ে শাহজালালের সফরসঙ্গী হিসেবে আউলিয়ারা ৩৬০ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে সিরাজদিখানে আসা এ পাঁচজন পীরও ছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

পাঁচজন পীরের মাজার খুব একটা দূরে দূরে নয়। ধর্ম প্রচারের সুবিধার্থে তারা কাছাকাছি অবস্থান করে ছিলেন। তাতে ইতিহাসবিদরা ধারণা করছেন নিজেদের মধ্যে বুঝাপরা জন্য তাদের এ অবস্থান ছিল।

সিরাজদিখানের গিরিধারীগঞ্জে রয়েছে পাঁচপীরের মধ্যে হযরত জীন্দাপীরের মাজার। হযরত জীন্দাপীর নামে এ মাজার এখানে পরিচিতি লাভ করেছে। এ মাজারটি গুরুত্ব পূর্ণ একটি মাজার। প্রাচীন বিক্রমপুর নদী পথেই ছিল মুলত চলাচলের প্রধান মাধ্যম।

তাই এ মাজারটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠে। প্রাচীন বিক্রমপুরে নদী পথে রাজ রাজারা এ গিরিধারীগঞ্জে বিশ্রাম নিতেন। পরে অন্য গন্তব্যে তারা ফিরে যেতেন। সুলতান আমল থেকে মোগল আমলে এখানে সেনা ছাউনি হিসেবে এলাকাটি ব্যবহার হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

নদী পথকে কেন্দ্র করে সেই সময়ে এ এলাকাটি জনবহুল বাণিজ্যিক জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এ কারণে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে পাঁচ পীরদের মধ্যে একজন পীর এখানে আসেন।

সিরাজদিখানের পাঁচ পীরের মধ্যে অপর মাজার রয়েছে ইমামগঞ্জে। গিরিধারীগঞ্জে যাওয়ার পথে এ ইমামগঞ্জ এলাকাটি পরে। এখানে নামফলকে এ মাজারের নাম হচ্ছে হযরত ঈমাম উদ্দিন শাহ আওলিয়ার মাজার।

তবে অনেকে আবার এটিকে শাহীমান্দির জীন্দাপীরের মাজারও বলে থাকে। এ মাজারের নামের সাথে ঈমাম রয়েছে। তাই অনেকে ধারনা করেন তার নামানুসারেই এখানকার নামকরণ করা হয়েছে ইমামগঞ্জ।

সিরাজদিখানের পাঁচ পীরের মধ্যে অপর মাজার রয়েছে রশুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামল কাজির বাড়িতে। সিরাজদিখানের পাঁচ পীরের মধ্যে অপর মাজার রয়েছে রশুনিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন চোকদারের বাড়িতে।

এখানকার মাজারটি হচ্ছে ১৪ হাত লম্বা। এ মাজারটি দেখাশোনা করছেন মামুন চোকদার। এই মাজারের নাম হচ্ছে হযরত শের এ শাহ জিন্দাপীররের মাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here