পদ্মার শাখা নদীতে ভাঙন : বসত হারানোর আশংকা জীবন হালদারের

1628576886967মো. নাজির হোসেন:
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন ও শিলই ইউনিয়নের পদ্মার শাখা নদী ফুঁসে ওঠেছে এ বছর। গত দের মাস ধরে শাখা নদীতে ভাঙনের তান্ডব চলছে। এসময় দু’টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ একর ফসলি জমি ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
প্রতিদিনই ভাঙছে এ শাখা নদীটি। এভাবে ভাঙলে ফসলি জমি ছাড়াও বসতবাড়ি, স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাবে। বসত হারানো আশংকা করছেন বাংলাবাজার ইউনিয়নের বানিয়াল গ্রামের মৃত- শুধন হালদারের ছেলে জীবন হালদার(৬৫)।
জীবন হালদার বলেন, আমরা বংশধররা যুগ যুগ ধরে বসবাস করছি এ বানিয়াল গ্রামে। আমি পেশায় কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। বর্ষা মৌসুমে ঘরের কাজ কম থাকে, তাই এ সময় নৌকা তৈরি করি। আমার ঘরে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন৷
আরও বলেন, গত ৫০ বছরে বড় পদ্মার অনেক ভাঙন হয়েছে। ঐ ভাঙনে বর্তমান এ শাখা নদীটি হয়েছে। অন্যান্য বছর কম ভাঙলেও , এ বছর দিঘীরপাড় বাজার পর থেকে শিলই ইউনিয়ন কয়েকটি গ্রাম ও আমাদের
বাংলাবাজার ইউনিয়ন সিকদারকান্দি, বানিয়াল গ্রামগুলোর ফসলি জমি নদীর ভাঙন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙলে আমাদের বসত বাড়ি হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছি। এ বয়সে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাবো? সরকারের কাছে দাবী করছি আমাদের ভাঙন কবলিত এলাকাটি রক্ষা করার।
 শিলই গ্রামের কৃষক হৃদয় দেওয়ান (২৫) বলেন, শিলই গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ হাতের উপরে জমি ভেঙে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে কয়েক দিন পর গ্রাম ভাঙা শুরু করবে। এখনি এ ভাঙন কবলিত চরাঞ্চলে চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সরকারের সাথে কথা বলে ব্যবস্হা করা দরকার। তা নাহলে আমরা বসত বাড়িসহ সবই হারাবো।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব পীর বলেন, এ বছর ভাঙন বেশি। আমি সদর উপজেলার নির্বাহীকে ভাঙনের কবলিত এলাকা বিষয় অবহিত করি। উপজেলা প্রশাসন ভাঙন কবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন, আমিও সাথে ছিলাম।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো. নোমান হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছে। ভাঙনের বিষয় ত্রাণ, পূর্ণবাসন মন্ত্রনালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here