মোল্লাকান্দিতে দুই মেরুতে রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে ! (ভিডিওসহ)

MOLLAHKANDIমোহাম্মদ সেলিম ও সাগর মাহমুদ:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন হচ্ছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন। গত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানকার আ’লীগের রাজনীতি দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

আর তাতে এখানে দু’টি শিবির স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারে একাধিকবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সংঘর্ষে অস্ত্রসহ একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ বিষয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে সংঘর্ষে ব্যবহারকৃত অস্ত্র উদ্ধারের ফলাফল তেমনটা ভালো নয়।

এই ইউনিয়নে আ’লীগের রাজনীতি দু’টি শিবিরে বিভক্ত একটি শিবিরের রাজনীতি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা। আর অন্যটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারি। মহসিনা হক কল্পনা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

গত নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এ কারণে সেই সময় তাকে তার পদবি থেকে বহিস্কার করা হয়। আর রিপন পাটোয়ারি জেলা আ’লীগের সদস্য। সেই নির্বাচনে রিপন নৌকার প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে আ’লীগের একাধিক প্রার্থীর নাম ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছে মাত্র দুইজন। তারা হচ্ছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা। অন্যজন হচ্ছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারী।

তাদের দুইজনকে ঘিরেই এখানকার রাজনীতি মুলত ঘুরপাক খায়। তাদের দুইজনের পক্ষেই বিশাল সমর্থক বাহিনী রয়েছে। মহসিনা হক কল্পনা ও রিপন পাটোয়ারী উভয়ে নৌকার মাঝি হিসেবে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আ’লীগের মনোনয়ন দৌড়ে নৌকার মাঝি হিসেবে ভালো অবস্থানে রয়েছে রিপন।

আর কল্পনাকে যেহেতু দলীয় পদ থেকে বহিস্কার ও নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আ’লীগ থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তাতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এ ইউনিয়নে আবারো কল্পনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

তার ফলে কল্পনার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে অনেকটা। ইউনিয়ন আ’লীগের শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দের একাংশ ও তৃণমূলের আ’লীগের নির্বাচনের চালিকা শক্তিরা তার সমর্থনে বিশাল বাহিনী বর্তমানে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ঐসব নেতরা সুষ্ঠ নির্বাচনে নিরবে কল্পনাকে সমর্থন দিলে সেই নির্বাচনে কল্পনার জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ বলে অনেকেই মনে করেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

তবে রাজনীতিবিদদের ধারণা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কল্পনা যদি আ’লীগের মনোনয়ন না পান, তাতে তার উচিত হবে যাকে আ’লীগ নৌকার প্রার্থী করুক তাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে তার হয়ে কাজ করা। এর ফলে পাপমোচনে তার হারানো পদ পদবি ভবিষতে দলীয় অনুকম্পায় ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আর মঙ্গলের ঢেউ বয়ে যেতে পারে গোটা ইউনিয়নে। তবে এ বিষয়ে আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের এগিয়ে এসে কাজ করলে তাতে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আর চিরতরে বিদায় নিতে পারে এখানে আ’লীগের বিভক্তি রাজনীতি।

মোল্লাকান্দিতে আ’লীগের বিভক্তি রাজনীতিতে সবচেয়ে রাজার হালে আছে বিএনপি নেতা ও কর্মীরা। এখানে আ’লীগের বিভক্তি রাজনীতির কারণে আ’লীগের দু’শীর্ষ নেতারা তাদের নিজেদের প্রয়োজনে বিএনপি নেতা কর্মীদের দলে টানার চেষ্ঠা করছেন বহর ভারির জন্য। আর সুবিধা বুঝে ঐ দু’শীর্ষ নেতাদের একজনকে বেছে নিচ্ছেন তারা।

এখানকার ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো: ফরহাদ খাঁ রিপন পাটোয়ারীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক মো: আজহার মোল্লা পক্ষ নিয়েছেন মহসিনা হক কল্পনার। তাতে এখানকার আ’লীগের রাজনীতি দুই মেরুতে বর্তমানে ঘুরপাক খাচ্ছে।

মহসিনা হক কল্পনা পারিবারিকভাবেই রাজনীতি পরিবারের সন্তান। বিগত দিনে বিএনপি সরকারের সময়ে তার পরিবার নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিগত দিনের রাজনীতির বিবেচনায় মহসিনা হক কল্পনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই ভালো।

বিগত পাঁচ বছরে এ ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বেশিরভাগ রাস্তা ইতোমধ্যে পাকা হয়ে গেছে। তবে নতুন আমঘাটা ও মোল্লাকন্দি গ্রাম থেকে আমঘাটা গ্রামের নতুন রাস্তাটি এখনো কাঁচা। মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে এখানো দাফতরিক কাজ চলছে।

আমঘাটা গ্রামের বিএনপি নেতা রহম আলী মোল্লার মৃত্যুর পর এখানে তৃণমুলের বিএনপি নেতারা এখন আ’লীগের দুই শিবিরে অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে পুঁজি করে দুইটি পক্ষই মাঝে মাঝে শক্তি পরীক্ষা অংশ নেয়। শক্তি পরীক্ষার রাজনীতির খেলায় একাধিক মামলা মোকাদ্দমা হয়েছে।

মোল্লাকান্দির চরডুমুরিয়া বাজার হচ্ছে এখানকার রাজনীতির প্রধান আড্ডাখানা। এখান থেকেই দুটি পক্ষের ভোটের রাজনীতি পরিচালিত হয়। দক্ষিণে রয়েছে কল্পনার পক্ষের সমর্থকদের বসবাস। অন্যদিকে উত্তরে বসবাস হচ্ছে রিপনের সমর্থকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here