মুন্সীগঞ্জে ইদ্রাকপুর কেল্লায় যাদুঘর (ভিডিওসহ)

IMG_2236মোহাম্মদ সেলিম:

মুন্সীগঞ্জে ইদ্রাকপুর কেল্লায় যাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন দর্শকরা যাদুঘর দেখার অপেক্ষার প্রহর গুনছে। এটি মুন্সীগঞ্জে সরকারিভাবে প্রথম যাদুঘর। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে এখানে এ যাদুঘর চালু করা হচ্ছে। এখানে যাদুঘর চালু করা হলে জনবলও বাড়ানো হবে। এখন কম জনবল দিয়ে ইদ্রাকপুর কেল্লাসহ আরো তিনটি প্রত্নতত্ত্ব এড়িয়া চালানো হচ্ছে। অন্য তিনটি এড়িয়া হচ্ছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং জোড়ামঠ।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দরগাবাড়ি এলাকায় বাবা আদম মসজিদ ও পানাম এলাকায় পানাম পোলঘাটা সেতু। ইদ্রাকপুর কেল্লা ও যাদুঘরের নিরাপত্তায় এখানে হাতিয়ার আনসার চব্বিশ ঘন্টায় পাহারায় রয়েছে।

IMG_2241বিট্রিশ শাসন আমলে কেল্লার ভেতরে একটি আলাদাভাবে ভবন তৈরি করা হয়। সেখানে সাজা প্রাপ্ত আসামীদের রাখা হতো। মুন্সীগঞ্জে নতুন জেলাখানা তৈরির আগ পর্যন্ত এখানে আসামীরা ছিল। সেই ভবনটি পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে যাদুঘরের জন্য।

IMG_2226আগামী বছরের বর্ষের শুরুতে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে এ যাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শকদের জন্য খোলে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

IMG_2254প্রাচীন বিক্রমপুরের বিভিন্ন নির্দশন এ যাদুঘরে স্থান পেয়েছে। প্রাচীন বিক্রমপুরের হাজার বছরের ইতিহাস এ যাদুঘরে ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় ভরে উঠেছে।

246356798_1017838845729475_3100390190506026238_nযাদুঘরে দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উপযোগি করে ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে। শতভাগ কাজ এ যাদুঘরের শেষ। এখন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পালা। দিন তারিখ ঠিক হলেই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী যাত্রা শুরু হবে।

246714698_1082171749192907_5820697058813770318_nবর্তমানে ইদ্রাকপুর কেল্লায় কোন ধরণের দক্ষিণা ছাড়াই দর্শনার্থীরা দিনের নির্ধারিত সময়ে কেল্লায় প্রবেশ করতে পারছে। তবে যাদুঘর চালু হলে এ বিষয়টির একটি পরিবর্তন আসতে পারে। সেটি হচ্ছে যাদুঘর উদ্বোধনের দিন থেকে দর্শনার্থিরা টিকিটের মাধ্যমে কেল্লায় প্রবেশ করতে পারবেন।

সেই টিকিটের আনুমানি মূল্যে হতে পারে ১০ টাকা। এর বিনিময়ে দর্শনার্থিনার সেদিন থেকে কেল্লা ও যাদুঘর দুটিই একসাথে দেখতে পারবে।

রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এদিন কেল্লা ও যাদুঘর খোলা থাকবে না। অন্য ছয়দিন কেল্লা ও যাদুঘর খোলা থাকবে। তবে শীতকালে ও গ্রীস্মকালে খোলা থাকার নিয়মে একটু ভিন্নতা রয়েছে। শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর গ্রীস্মকালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

এর মধ্যে শুধুমাত্র নামাজ ও খাবারের জন্য দুপুর ১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সাপ্তাহের শুক্রবার জুম্মার দিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

মুন্সীগঞ্জে প্রাচীন ইদ্রাকপুর কেল্লার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস হচ্ছে,
মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ইদ্রাকপুর কেল্লাটির অবস্থান। মোঘল শাসন আমলে সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি ও প্রাচীন বাংলার সুবেদার মীর জুমলার সময়ে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন বিক্রমপুরে বর্তমানে মধ্যকোর্টগাঁয়ে ইদ্রাকপুর কেল্লাটি নির্মিত হয়।

প্রাচীন এই জনপদটি রক্ষা করতে মোগল শাসক সে সময় মগ জলদস্যু ও পর্তুগীজদের আক্রমণ প্রতিহত করতে এ ইদ্রাকপুর কেল্লাটি নির্মাণ করেন।

জনশ্রুতি আছে যে, এ কেল্লার সাথে ঢাকার লালবাগের কেল্লার সুড়ঙ্গপথে যোগাযোগ ছিল। আগত শত্রুদের প্রতিহত করতে গোলা নিক্ষেপের জন্য কেল্লার দেয়ালে অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। পদ্ম ফুলের পাপড়ির নকশায় প্রাচীর ঘেরা এই কেল্লায় চারকোণায় রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনি। এই গোলাকার বেস্টনি গুলো ডামের মতো দেখা যায়
১৯০৯ খিস্টাব্দে এই কেল্লাটি পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। বহু উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত এই গোলাকার কেল্লাটি এলাকায় এস.ডি.ও কুঠি হিসাবে পরিচিত।

কিভাবে যাওয়া যায়:
মুন্সীগঞ্জ সদর এর কাছে পুরাতন কোর্ট অফিস সংলগ্ন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে দিঘীরপাড় ট্রান্সপোর্ট মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে আসা যায়। সেখান থেকে মিশুকে ২০ টাকায় বা অটো রিক্সায় ৫টাকায় পুরাতন কাচারীতে নেমে পাঁচ মিনিটে পায়ে হেটে ইদ্রাকপুরের কেল্লায় যাওয়া যায়।

এছাড়া জলপথে ঢাকার সদরঘাটের লালকুঠি এলাকায় চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে প্রতি ঘন্টা পর পর লঞ্চ পাওয়া যায়। এ লঞ্চের বেশিরভাগ লঞ্চ ভায়া হিসেবে মুন্সীগঞ্জে ভিরে। সেখান থেকে অনুরূপভাবে ইদ্রাকপুরের কেল্লায় যাওয়া যায়। তবে পায়ে হেটে গেলে পথের মাঝে অনেক গুলো সুন্দর দৃশ্যে দেখা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here