চরকেওয়ার উত্তর গুহের কান্দির মানুষের দাবি একটি পাকা সেতুর (ভিডিওসহ)

চরকেওয়ার উত্তর গুহের কান্দির মানুষের দাবি একটি পাকা সেতুরমোহাম্মদ সেলিম ও নাজির আহমেদ: ৪ জুলাই ২০১৭ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গুহের কান্দি গ্রাম। এই গ্রামের একটি ছোট্ট নদী রজতরেখা এই গ্রামটিকে বিভক্ত করে রেখেছে। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সীমন্ত এলাকার কাটাখালী থেকে মুন্সিরহাট হয়ে এই ছোট্ট নদীটি প্রাচীনকাল থেকেই প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর উত্তর পাড়ের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সীমান্তে একটি বড় আকারের হিমাগার রয়েছে। এই হিমাগারের কুল ঘেষে প্রথম দিকে একটি মাটির রাস্তা মুন্সিরহাটের দিকে যায়। পরে সময়ের চাহিদায় সেই রাস্তা পিচ ডালাইয়ে পরিণত হয়। এখন সময়ের ব্যাপক চাহিদায় সেই রাস্তা ওয়ান ওয়ে হচ্ছে।
গুহেরকান্দির পশ্চিম দিকের বসতিরা প্রথমদিকে একটু সহজেই চলাচলের জন্য হিমাগারের দক্ষিণদিক দিয়ে চলাচলের জন্য একটি কাঠের সেতু ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি করে। এই সেতু দিয়ে এখানকার গ্রামবাসী খুব সহজেই শহরের স্কুল-কলেজ ও চিকিৎসার জন্য যেতে পারে। এই সেতুটি না থাকলে তাদেরকে প্রায় তিন কিলো মিটার পা হেটে মুন্সিরহাটে যেতে হয়। আবার সেখান থেকে প্রায় তিন কিলো মিটার রাস্তায় রিক্সায় বা ইজিবাইকে যেতে হয় শহরে।
গত চার বছর আগে এই সেতুটির জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ভ্যাটবাদে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে এই কাঠের সেতুটি এখানে পুনরায় আবার নির্মিত হয়। এরপর বৃস্টি ও রোদে এই সেতুটি ব্যবহারের অনুপোযুগি হয়ে উঠে। এই সেতুটি দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় এখন তারা এই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে।
অনেক বৃদ্ধলোক এই সেতুর পারে এসে পারাপারের জন্য অন্য মানুষের জন্য অপেক্ষা করে। সেতুর বেহাল দশার কারণে অনেকই ভারি মালামাল নিয়ে বাড়িতে যেতে পারে না।
চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ জমাদ্দার জানান, এখানে একটি পাকা সেতুর জন্য আমরা মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসকে নিমন্ত্রন করে নিয়ে এসে ছিলাম। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এখানে একটি পাকা সেতু করে দিবেন। কিন্তু এখনো সেটা হচ্ছে না। তাই এখানে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই গ্রামের দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী মো. ইশতিয়াক মাহমুদ ফেসবুকে এখানকার সেতু নিয়ে রোজার সময় স্ট্যাটাস দেয়। সেটি আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু রোজা ও ইদের কারণে সেই সময় আমরা এই গুহের কান্দি গ্রামে যেতে পারিনি। সেই সময়ের কাঠের সেতুটি ইদকে সামনে রেখে ৭৫ শতাংশ পুন: নির্মাণ করা হয়েছে ব্যক্তিগত গ্রামবাসীর অর্থে।
আমরা ৩ জুলাই ১২টার দিকে সেই সেতুর কাছে ও গুহেরকান্দি গ্রামে যাই। কয়েকদিন লাগাতার বৃস্টির কারণে এই সেতুর বাকি কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতু নির্মাণকারী গ্রামবাসী জানান, রোদ উঠলেই সেতুর বাকি কাজ তারা করে নিবে। তবে তাদের মুল দাবি হচ্ছে এখানে যাতে একটি পাকা সেতু নির্মিত হউক।
এই বিষয়ে এলাকাবাসী সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী মো. ইশতিয়াক মাহমুদ এর ফেসবুক স্ট্যাটাস পাঠকের কাছে হুবুহুব তুলে ধরা হলো।
প্রায় দশ হাজার মানুষের বসতী মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের ছোট একটি গ্রাম, উত্তর গুহের কান্দি। লোকশ্রুতি আছে কোন এক সময় (গুহ সম্প্রদায় ) এর বসতি ছিলো তাইতো নামটি (গুহ+য়ের)= গুহের কান্দি, নাম টা শুনতে যতটা না বেমানান, দুর্গন্ধময় তার হাজার গুন বেশি কষ্টের হলো সরকার তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও (খএঊউ) এর অবহেলা। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গেলে লজ্জিত হতে হয়। কারণ মুন্সিগঞ্জ সদর পৌরসভার সবচেয়ে কাছের গ্রাম উঃ গুহের কান্দি। যত সমস্যার মুল একটা ছোট নদী। নাম তার রজত রেখা( কাটাখালী নদী)। সত্যিই নামের মতই সুন্দর। সুন্দর এই নদীটাই যেনো গ্রামবাসীর কষ্টের কারণ। ১০০ ফিটের একটা সেতুর জন্য কার দারস্ত না হয়েছি। বর্তমান সাংসদ এডঃ মৃনাল কান্তি দাস, জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মহিউদ্দিন, সাবেক সাংসদ এম ইদ্রিস আালী, আঃ হাই সহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আখতারুজ্জামান জীবন, সাবেক চেয়ারম্যান আফসু ভুইয়া, আঃ হাকিম মিজি সহ যথাযথ দপ্তরে দৌড়ে হেরে গিয়ে সত্যি আজ বড়ই ক্লান্ত।
সবার একই কথা এটি নাকি অনেক বড় সেতু। এটি কি পদ্মাসেতুর চেয়ে ও বড় মাননীয় মন্ত্রী।
যাইহোক, সবাই যখন মুখ ঘুড়িয়ে নিলো তখন সেতু মন্ত্রীর (সংশোধিত) কাছে একটাই আর্জি ১০০ ফুটের ১ টা সেতু যেনো সহস্র মানুষের কষ্টের কারণ না হয়।
১৬ বছর যাবৎ গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও সহযোগীতায় বাঁশ ও কাঠের সেতু নির্মাণ, পুননির্মাণ করতে করতে সত্যিই বড় ক্লান্ত।
গ্রামের মানুষ গুলোকে রজত রেখার জলে না ভাসিয়ে, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে ভাসালে কৃতজ্ঞ হব।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here