যে ভাবে মুঘল বাহিনী মুন্সিগঞ্জ দখল নেয়

যে ভাবে মুঘল বাহিনী মুন্সিগঞ্জ দখল নেয়

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: ১৫ জুলাই ২০১৭ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : আমরা সকলেই জানি ইসলাম খান কর্তৃক মুঘল বাহিনী ঢাকা জয় করে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না ঢাকা জয়ের আগে ইসলাম খান মুন্সিগঞ্জ জয় করেন। সে সময় মুন্সিগঞ্জের নাম ছিল বিক্রমপুর আর রাজধানী শহর শ্রীপুর। আমাদের মনে রাখতে হবে চাঁদ রায় এবং কেদার রায়ের মৃত্যুর পর বিক্রমপুর মুঘল শাসনে আসে। তখন বিক্রমপুর, সোনারগাঁও, কত্রাভুও ঢাকার ভূঁইয়া প্রধান ছিলেন মুসা খান। মুসা খান দুই দুইবার মুঘলদের কাছে পরাজিত হলে বিক্রমপুর সহ ঢাকা ইসলাম খানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। মুসাখানকে পরাজিত করে ইসলাম খান। ইতিমাম খান এবং মির্জা নাথান বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পাথর ঘাটা নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। এখানে মুঘল শাহী বাহিনী বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে। পাথরঘাটা থেকেই মুঘল বাহিনী ঢাকায় গমণ করে।

ইতিমাম খাঁর নেতৃত্বাধীন নৌ ও গোলন্দাজ বাহিনী ইছামতি নদী ধরে বিক্রমপুর ও শ্রীপুর আক্রমণ করেন। মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর আক্রমণে মুঘল বাহিনীর সর্বাধিক নায়ক ছিলেন ইসলাম খানের ভাই শেখ ইউসুফ মক্কী। আর যে সকল সেনাপতি বিক্রমপুর আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন তাদের নাম হলো-মুবারিজ খা, মিরাক বাহাদুর জালাইর, শেরখা তারিন, বায়েজিদ খান পানি, জাহান খা ও রাজা রঘুনাথ। এর আগে ইসলাম খান আদশে জারী করেন মুঘল বাহিনীর সকল নৌ, গেলন্দাজ, পদাতিক, হস্তী ও অশ্বারোহী কমান্ডারগণ নিজনিজ ব্রিগেড নিয়ে বিক্রমপুরের পাথরঘাটায় শিবির স্থাপন করবে। মুঘল নৌবাহিনীর প্রধান সেনানায়ক ইতিমাম খানকে পাথরঘাটায় আসার নির্দেশ প্রদান করেন ইসলাম খান। ইতিমাম খান পাথরঘাটায় পৌছা মাত্র জেন মুঘল সশস্ত্র বাহিনীর, বিক্রমপুর, শ্রীপুর, ঢাকা, সুর্বণ গ্রাম, কত্রাভু, কদম রসুলের রির্পোট পাঠাবেন ইসলাম খানের নিকট। পাথরঘাটা হতে কোন এক শুভ সময় ইসলাম খান ঢাকা পৌছে খান। পাথরঘাটা হতে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ৬ মাইল। নৌকা যোগে ইসলাম খান মুঘলবাহিনীর একাংশ নিয়ে ঢাকায় আগমণ করেন। মুঘল বাহিনীর একটি বিশাল অংশ বিক্রমপুরের পাথরঘাটায় অবস্থান করছিল। ঢাকায় পৌছে ইসলাম খান পাথরঘাটায় বার্তা প্রেরণ করেন, মিরাক বাহাদুর জালাইরও শেরখা তারিনকে শ্রীপুর প্রশাসন সাজাতে। অন্য দিকে মুবারিজখা, বায়জিদ খা পানি ও জাহান খানকে বিক্রমপুরের ভিতরে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেন। ইসলাম খান আরো আদেশ দেন যে মুঘল নৌ ও স্থল বাহিনীর প্রধান ইতিমাম খা ও ওয়াহিদ উদ্দিন কে ঢাকায় আসার।

পাথরঘাটা থেকে মুঘলবাহিনী বিক্রমপুরের অভ্যন্তরে ও শ্রীপুরে আক্রমণ চালায়। বিক্রমপুর ও শ্রীপুরে আক্রমণের সময় যে সকল সেনাপতিরা আক্রমণে অংশ নেয় তাদের নাম তুলে ধরা হলো। ইতিমাম খার অধিনে ২০০ শত নৌযান ও ৭০০ অশ্বারোহী। বাজবাহাদুর ৫০টি জাহাজ মীর শরীফ গোলাবী ৩০ যুদ্ধ জাহাজ। মির্জা নূরউদ্দিন ২০, আব্দুল ওয়াহিদ ৩০টি এবং মুবারিজ খা ৯০টি নৌযান নিয়ে বিক্রমপুর, শ্রীপুর আক্রমণ করেন। মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের আক্রমণের সুনির্দিষ্ট তারিখ ‘‘তুযুখ’’ ও গায়েবীতে উল্লেখ নেই। তবে মুঘল বাহিনী মুন্সিগঞ্জের নিকট দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীতে প্রবেশ করে ২৭ রবিউল আউয়াল ১০১৭ হিজরিতে। যা ১১ জুলাই ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে। আমার মনে হয় রবিউস সানীর ১০১৭ হিজরিতে ১-৭ তারিখে মধ্যে (১৪-২০) জুলাই ১৬০৮ সমস্ত বিক্রমপুর ও শ্রীপুর মুঘলদের হস্তাগত হয়।

মগ জলদুস্যরা শ্রীপুরের একটি গ্রাম জালিয়ে দেয়। তারা হত্যা, লুষ্ঠন করে। মগরা গ্রামবাসীদের বন্দি করে নিয়ে যায়। শ্রীপুরে শাসক শেখ ইউসুফ মগদের প্রতিহত করতে পারেননি। তখন শেখ ইউসুফের সাহায্যে শেখ আশরাফ হানসিওয়ালা ও নূর উদ্দিনকে সৈন্য সহ শ্রীপুর যাওয়ার নির্দেশ দেন ইসলাম খান। অন্যতম নৌসেনাপতি মির্জা নাথানকেও শ্রীপুর যাওয়ার নির্দেশ দেন সুবাদার। এমনকি ইসলাম খান নিজেও শ্রীপুর চলে আসেন গ্রামবাসীদের সান্তনা দেওয়ার জন্য। যতটা না সাধারণ প্রজাদের জন্য তারচেয়ে ঢেরবেশী ভাইকে সাহায্য করতে শ্রীপুরে উপস্থিত হন ইসলাম খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here