বল্লাল সেনের রামপাল দীঘির আশপাশ আরএস-সিএসে ব্যক্তি মালিকানা: কিভাবে সম্ভব?

১৮ জুলাই ২০১৭ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) :  আড়াই বছর আগে রামপাল দীঘির ২৬ শতাংশ জমি একই এলাকার মরন দালালের পরিবারের কাছ থেকে ক্রয় করেন সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের দালালপাড়া গ্রামের মো. সালাউদ্দিন। এর পর জমিতে মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেন। কিশোর বয়স থেকে শুনে আসছেন, এটা বল্লাল সেন আমলের রামপালের দীঘি। কিন্তু এসব সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানা হয়েছে তা তিনি বলতে পারেন না। ক্রয়সূত্রে ৩৮ শতাংশ জমির মালিক আবদুর রহমান। তার এ সম্পত্তি বল্লাল সেনের দীঘির জানলেও সিএস ও আরএস রেকর্ডে এ জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় ছয় বছর আগে তিনি তা ক্রয় করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএস ও আরএস রেকর্ডে রাজা বল্লাল সেনের আমলে তৈরি মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রামপাল দীঘির ৪৫ একরের বেশি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় থাকায় এভাবেই ক্রয়ের পর বসতবাড়ি নির্মাণ করে সেখানে দখল-উৎসব চলছে।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, তা আরএস রেকর্ডে রামপাল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত। এ দাগের সম্পত্তি মরন দালালের নামে রেকর্ড করা আছে। তার নাম ছাড়াও আরএস রেকর্ডে দীঘির সম্পত্তিতে ইসমাইলসহ তার লোকজনের নামে ৩৩ শতাংশ, পুনাই দালাল, হাজি অখিল উদ্দিন দালালসহ তার লোকজনের নামে ১ একর ৩ শতাংশ, কালাচান দেওয়ান, আবদুল হাই দেওয়ানসহ তার লোকজনের নামে ১৬ শতাংশ, আবদুর রহমান, মনিরুজ্জামানসহ তার লোকজনের নামে ৩৮ শতাংশসহ কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ঐতিহ্যবাহী রামপালের দীঘি, যা বল্লাল সেনের দীঘি হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কী করে এ দীঘির সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হয়েছে তা তাদের জানা নেই। তারা জানান, বল্লাল সেনের আমল ছিল ১২০০ বা ১৪০০ বছর আগের। আর সিএস রেকর্ড হয়েছে মাত্র ১০০ বছর আগে। সিএস রেকর্ডের সময় দীঘির সম্পত্তির বেশিরভাগই ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করা হয়। মাত্র ১৪ শতাংশ সম্পত্তি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত।

সরেজমিন দেখা গেছে, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ঐহিত্যবাহী বল্লাল সেনের রামপাল দীঘির পশ্চিমাংশে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। নির্মাণ করা হচ্ছে একাধিক দ্বিতল ভবন। দক্ষিণ প্রান্তে ধলাগাঁও বাজার-সংলগ্ন আলু সমিতির মার্কেটসহ একাধিক মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি দীঘির চারপাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। দীঘি-সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীঘিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২২০০ ফুট আর প্রস্থে ছিল ৮০০ ফুট আকৃতির।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ দীঘিটি সংরক্ষণ করা একান্ত জরুরি।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাঈদুজ্জামান খান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, দীঘির বেশিরভাগ সম্পত্তি সিএস ও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানাধীন। তাই বাড়িঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া  সম্ভব হচ্ছে না।

সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here