মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস! দ্বিতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ২১২৪৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি

Capture 2

মোহাম্মদ সেলিম ও নাজির হোসেন: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মঙ্গলবার বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে মুন্সিগঞ্জর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর ২০১৭) দিন থেকে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

Capture 4আর আগামী ২১ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। মঙ্গলবার দিন বাংলা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে এই বার্ষিক পরীক্ষা সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শুরু হচ্ছিলো। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা দাবি করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা সব মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট ১১৯টি। আর এই বিদ্যালয় গুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ২৭ হাজার ৩শ’ ১ জন। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির ৬ হাজার ৫৭জন শিক্ষার্থীর প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় শ্রেণির ৭ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী, তৃতীয় শ্রেণির ৭ হাজার ৫জন শিক্ষার্থী ও চতুর্থ শ্রেণির ৭ হাজার শিক্ষার্থী আজকের পরীক্ষা দিতে পারেনি। যথারীতি সময়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে আসলে জানতে পারে আজকের পরীক্ষা হবে না। এতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এই বিষয়ে বিদ্যালয় চত্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Capture 3মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যথাসময়ে এখানে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনিতা। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘন্টা পর অথ্যাৎ সকাল সাড়ে ১০টায়ার সময় তাকে ফোন করেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম জানান, আজকের কোন পরীক্ষা নিতে হবে না। পরে বিলি করা প্রশ্নপত্র ও খাতা শিক্ষার্থীদের মাঝখান থেকে তুলে নেয়া হয় বলে প্রধান শিক্ষিকা জানান।

এরপর অনির্বায় কারণে আজকের পরীক্ষা বন্ধ থাকবে এই মর্মে একটি ঘোষণাপত্র বিদ্যালয় চত্বরে টানিয়ে দেন প্রধান শিক্ষিকা।
মুন্সিগঞ্জ জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ইদ্রাকপুর ১নং মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শাহাবুদ্দিন জানান, সকাল ১০টার দিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানতে পেরেছেন। ততক্ষনে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষার টেবিলে বসে পড়েছেন।

Capture 6তাদের মাঝে প্রথম শ্রেণির প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যেই বিলি করা হয়ে গেছে। আর দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে ফেলা হয়েছে। কতৃপক্ষের নির্দেশে প্রথম শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর বাকি পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে হয়। তবে আগামীকাল বুধবারের পরীক্ষা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষাথীর পিতা সুমন জানান, তিনি তার সন্তানকে আজ স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারেন যে, আজকের পরীক্ষা হচ্ছে না। তিনি এ ঘটনায় হতাশ হন। তিনি মিডিয়ার কাছে আবেদন জানান, প্রকৃত ঘটনা যেন উদঘাটন হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম জানান, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক হচ্ছেন জেলার অভিভাবক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজকের পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Captureতিনি আরো জানান, আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাঝে শ্রেণি ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন সীলগালা করে সরবরাহ করি। শুধুমাত্র যেদিনের পরীক্ষা সেইদিনের প্রশ্ন প্রধান শিক্ষকরা খোলতে পারবেন। অন্যান্য প্রশ্ন ইনটেক থাকার কথা রয়েছে। বিষয়টি যাচ্ইা ও বাছাইয়ের জন্য পরের দিনসহ অন্যান্য প্রশ্নপত্রের প্যাকেট নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা করে সত্যাতা যাচাই করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আ: মতিন জানান, সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে বিতরণকৃত প্রশ্ন পত্র এখানে আনা হয়ে ছিল। সেগুলো চেক করা হয়েছে। প্যাকটগুলো ইনটেক পাওয়া যাওয়ায় প্রশ্নপত্র গুলো আবারো প্রধান শিক্ষকদের মাঝে ফেরত দেয়া হয়েছে। এই কারণে আগামীকালের পরীক্ষা যথা নিয়মে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

Capture 5বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হ্যালো অ্যাপসে কে বা কাহারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পাঠালে জেলা প্রশাসক সত্যতা যাচাই শেষে তড়িত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের একটি অনলাইন পোর্টালে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার দেওভোগ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদকে অভিযুক্ত করে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে দুপুর ৩টার দিকে এই প্রতিবেদক তার বিদ্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে সেই সময় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেছেন। পরে তাকে ফোন করা হলে তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন।

তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আমাদের কাছ থেকেই তিনি বিষয়টি প্রথম জানতে পারছেন। তিনি দাবি করেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির পরীক্ষা নিয়েছেন। আর দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণির প্রশ্ন ইনটেক প্যাকেট এখনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন। ওনারা আমার বক্তব্য ছাড়া কিভাবে এমন নিউজ করলো তা বুঝতে পারলাম না। কতৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে উল্লেখিত বিষয়ে অগ্রসর হবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here