মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি উদঘাটন এখন শেষ পর্যায়ে: প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিরা সনাক্ত!

১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি উদঘাটন এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবকটি অপরাধীরা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। শেষ ধাপের আগের পর্য়ায়ের ধাপের মধ্যে যাদের সবচেয়ে বেশি বিচরণ সেই ধাপে অবস্থান করছেন প্রাধমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দপ্তরী কাম নাইট গার্ডরা।

আর সেই বিচরণকারী দপ্তরী কাম নাইট গার্ডদের মধ্যে থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের দপ্তরী কাম নাইট গার্ডদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি প্রশ্ন ফাঁসের সাথে দপ্তরী কাম নাইট গার্ডদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধাপে তারা কিভাবে এই প্রশ্ন পেলো তা অনুসন্ধান হলেই এই মামলার আসল রহস্য উদঘাটন হবে। সেই ক্ষেত্রে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও এই ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

যে তিনটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের দপ্তরী কাম নাইট গার্ডরা এই প্রশ্ন ফাঁস করেছে ও আটক হয়েছে শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছে কাজী কসবা কা.ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নাইট গার্ড মো: মাছুম, দেওভোগ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নাইট গার্ড মো: জুয়েল ও পঞ্চসার জিয়সতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো: রাসেল দপ্তরী কাম নাইট গার্ড।
প্রথম থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের সাথে আলোচনায় ছিল দেওভোগ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানকার বরাত দিয়েই বেশিভাগ নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। আর এই গ্রেফতারের মধ্যে দিয়েই বিষয়টি এখন প্রমাণের পথেই হাটছে।

আলোচিত যে নয়জন কলেজ শিক্ষার্থী এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তারা এই প্রশ্নটা পেয়ে ছিলেন ফারিয়ার কাছ থেকে। তারা ফারিয়ার নামটি এভাবে দিয়েছেন নুসরাত জাহান ফারিয়া ইভা। তারা জানিয়েছেন সে একটি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। সে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের বছুরুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে খন্ডকালিন শিক্ষকতা করেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি গ্রামের তিন মাসের দুধের বাচ্চাসহ সেলিন বেগম ও তার বৃদ্ধ মাকে মুচলিকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

সেলিনার ছোট বোন লিজা এই প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সেলিনা একটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে চাকরি করা সত্বেও তার স্বামী হযরত আলী দাবী করছেন তিনি কোন চাকরি করেন না। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ লিজাকে এখনো খুঁজে পায়নি। লিজার শ্বশুর বাড়ি হচ্ছে গাজীপুরে। সেখানে সে গা ঢাকা দিয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এই মামলার বাদী হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের হয়। এখন মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে মুন্সিগঞ্জ ডিবি পুলিশ।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ত্বত্তাবধানে মুন্সিগঞ্জ সার্কিট হাউজে আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী শেষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৬ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা শেষ হবে বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এবার এক দম্পতি ও শিক্ষকসহ আরো ৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরো ৫জনকে আটক করে।
আটককৃতরা হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন (৩০), তার স্ত্রী সম্পা আক্তার (২২), মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজে (মাস্টার্স) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু (২৬), বছিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক ফারিয়া সুলতানা সোনিয়া (২৯) ও কাকলি (২৮)।

গ্রেফতারকৃত কাকলি পুলিশকে জানায়, সে এই প্রশ্ন পেয়েছে রুবেলের কাছ থেকে। পুলিশ সেই রুবেলকে ধরার জন্য মাঠে নেমেছেন। এই ৫জনকে বৃহস্পতিবার আদালতে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে সোপর্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক রিমান্ডের শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জড়িতদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here