প্রশ্নপত্র ফঁসের ঘটনায় দপ্তরি মাসুমের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান! কা.ক. কাজিপাড়া স.প্রা.বি. ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফেঁসে যেতে পারে

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গঠনায় টফ অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে মুন্সিগঞ্জ।

১১ ডিসেম্বর রাতে প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এই কারণে ১২ ডিসেম্বরের প্রথম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে যথারীতি ১৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবারো ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এই কারণে পরে কর্তৃপক্ষ সকল পরীক্ষাই স্থগিত করেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নতুন করে তৈরিকৃত প্রশ্ন দিয়ে রবিবার আবারো ১১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে ২১ হাজার ২ শ’ ৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
আজকের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে চারু ও কারুকলা। সাধারণত এই পরীক্ষাটি হয়ে থাকে সবার শেষে।
এই উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে এখন সময়ের সাথে তাল মিলাতে এই ভাবেই পরীক্ষা নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। সব কিছ’ ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ডিসেম্বর সকল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আর ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। কারণ হচ্ছে ১লা জানুয়ারি থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হবে। তাই শ্রেণি অনুযায়ি পাশের শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ। সেই ধারাবহিকতায় পরীক্ষা নেয়ার পাশাপাশি শিক্ষকরা স্কুলেই পরীক্ষার খাতা মুল্যায়নে এখন ব্যস্ত রয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের নাটের গুরু যারা তাদেরকে সনাক্ত করা গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এখন সময়ের ব্যাপার বলে অনেকেই মনে করছেন।
কাজি কসবা কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নাইট গার্ড মো: মাসুম পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তার তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। সেখানে তার কাছে পূর্বের দেয়া বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পুলিশ জব্দ করে নিয়ে যায় বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নূরে তাজ মৌলি এই প্রতিবেদককে জানায়।
তিনি আরো জানান, ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা তাকে ফোন করে জানান যে, শুক্রবার সকাল ১০টায় যেন তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় থাকেন। সেই অনুযায়ি তিনি থানা আসেন। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে স্কুলে এসে এই প্রশ্নপত্র জব্দ করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মাসুম এই বিদ্যালয় থেকেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সরিয়ে নেয় বা চুরি করে। আটককৃত বেশির ভাগ ব্যক্তি নাকি মাসুমের কাছ থেকেই প্রশ্ন পেয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে পুলিশ এই বিষয়ে গভীর তদন্ত করলেই এই রহস্যের প্রকৃত উদঘাটন হবে।
কাজী কসবা কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নূরে তাজকে প্রশ্ন করা হয়ে ছিল যে, মাসুম জবানবন্দি দিচ্ছে যে, সে এই বিদ্যালয় থেকেই প্রশ্ন নিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে এই বিষয়ে জানান যে, তার বিদ্যালয় থেকে এই প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কারণ হচ্ছে যে তার প্রশ্নপত্রে প্যাকেট এখনো ইনটেক রয়েছে। আর সেই ইনটেক প্রশ্নই পুলিশ জব্দ করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, মাসুম পুলিশের ভয়ে এখন তার নাম বলছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মাসুমসহ প্রায় ১০টি বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নাইট গার্ডদের খন্ডকালিন সময়ের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কাজ করতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তারা ঢাকা থেকে আনা প্রশ্নপ্রত্র গাড়ি থেকে পর্যায়ক্রমে নামায়। সেই সময়তে কাজে রত ব্যক্তিরা অগোচরে এই প্রশ্নপত্র সরিয়ে নিতে পারে বলে তিনি আশংকা করেন। এখন উদরপিন্ডি ভোদের ঘারে চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে অনেকই মনে করছেন।
এই দিকে দপ্তরী কাম নাইট গার্ড মাসুম এই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মার সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বছর খানিক আগে। এই বিষয়ে একটি মামলা তাকে আসামী করে ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সেই সময় তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মাসুমকে বদলিজনিত বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভাস্থ মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেখে কাজ করায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মাসুম পরে তার পূর্বের স্কুলে ফিরে যায় বলে এলাকাবাসী জানায়।
মাসুমের বাড়িতে গিয়ে মাসুমের মাকে পাওয়া যায়নি। মাসুমের মা মাসুমকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় গিয়েছেন বলে তার নিকট আতœতীয়রা জানায়। মাসুমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে এই বিষয়ে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ জানেন না।
মাসুম গ্রেফতারের সময় মুন্সিগঞ্জ শহরে ছিলো। মুন্সিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে মাসুমের নাম্বারে ফোন যায়। সেখানে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে তার আতœীয়রা জানান। মাসুমকে গ্রেফতারের পর মাসুমের ফোন নাম্বার থেকে তার মায়ের কাছে ফোন করা হয়। মাসুমরা তিন ভাই এক বোন। সে মেঝো।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগম জানান, আমি এই স্টেশনে আসার আগে হয়তো বা মাসুমের পরকীয়া ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। এছাড়া প্রশ্নপত্র গাড়ি থেকে উঠা নামানোর সময় তাদেরকে কাজে লাগানোর কথা সত্যে। তবে সেই সময় সর্বক্ষণ আমাদের সহকারি শিক্ষা অফিসাররা গাড়ির কাছে উপস্থিত থাকেন।
প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কয়েকটি প্যাকেট বাঁধা থাকে। আর সেই প্যাকেট গুলো প্রচন্ড ভাড়ি থাকে। তাছাড়া সেইসব প্রশ্নপত্র আবার দড়ি দিয়ে সুন্দর করে বাঁধা থাকে। কোন ভাবেই প্রশ্নপত্র সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
কাজি কসবা কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমাদের অফিসের যে কথা বলেছে তা সঠিক না।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগমে সাথে আলাপকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
তিনি জানান, মাসুমের সাথে স্থানীয়ভাবে এলাকায় কিছু লোকের সাথে বিবাদ চলছিলো বলে তিনি দাবি করেন। সেই সময় তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এনে কাজ করানো হয়।
তার অফিসে কোন পিয়ন না থাকায় প্রাথমিক উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অনুরোধ করে মাসুমকে কিছুদিন তাদের স্কুলে নিয়ে কাজ করানো হয়। তবে পরে বিষয়টি প্রশমিত হলে মাসুম তার পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়।
দেওভোগ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও পঞ্চসার জিয়সতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোতাহারা বেগমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা জানান, কাজি কসবা কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো তাদের শিক্ষা প্রতিষ্টানের কোন প্রশ্নপত্র পুলিশ জব্দ করেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here