দ্বিতীয়দিনের মতো মুন্সিগঞ্জে স্বাস্থ্যকর্মীদের চার দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন

৩ জানুয়ারি ২০১৭, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: দ্বিতীয়দিনের মতো মুন্সিগঞ্জে স্বাস্থ্যকর্মীদের চার দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি দ্বিতীয়দিনের মতো মঙ্গলবার দিনও সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চারদফার দাবিতে মুন্সিগঞ্জে বাংলাদেশ হেলথ এসিসটেন্ট এসোসিয়েশন অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে বাংলাদেশ হেলথ এসিসটেন্ট এসোসিয়েশন মুন্সিগঞ্জ শাখার কর্মচারীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়দিনে মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: মো: হাবিবুর রহমান জেলার বিভিন্ন ইপিআই কেন্দ্র পরিদর্শণ করেছেন। দুপুর আড়াইটার সিভিল সার্জন ডা: মো: হাবিবুর রহমান টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকার একটি ইপিআই কেন্দ্র পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় পারকরছিলেন।
এই উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনার কর্মচারীদের এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
তবে বিষয়টি সাময়িক কাজে লাগছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এই ক্ষেত্রে কারণ হচ্ছে ইপিআই কেন্দ্রে যারা প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশুদের টিকা প্রদান করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনার কর্মচারীরা এই কাজে তেমনটা পারদর্শি নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই কাজে মুলত পারদর্শি হচ্ছে সিভিল সার্জনের অধিনে স্বাস্থ্য কর্মীরা। যারা এখন বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ব্যানারে আন্দোলনে রয়েছে।
এই বিষয়ে অনেকর অভিমত হচ্ছে টিকার কাজে যারা মুলত পারদর্শি তাদের ছাড়া এই কাজ করালে প্রসূতি মা নবজাতক শিশুরা মারাতœক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়ন, পঞ্চসার ইউনিয়ন ও রিকাবীবাজারের মোট ৯টি ইপিআই কেন্দ্রে মঙ্গলবার টিকা প্রদানের তারিখ ছিল।
তারমধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনার কর্মচারীদের দিয়ে ৬টি ইপিআই কেন্দ্র কোন রকমের কাজ চালিয়ে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুমন বনিক জানান, তিনি মঙ্গলবারদিন সিপাহীপাড়া ও রিকাবীবাজার ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে নিজে থেকে বিষয়টি তদারকি করেছেন।
এই সময় তার সাথে ছিলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: মাহমুদুল হাসান, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের
স্যানেটারী ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের এম.আই.ই.পি.আই মো: ছাদেক বেপারী।
এইসব কেন্দ্রে উল্লেখিত ব্যক্তিরা নিজের কর্ম ব্যস্ততার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে অনেকর অভিযোগ হচ্ছে যে, ফেসবুকে এই বিষয়টি প্রকাশ করে কর্তা ব্যক্তিরা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন মাত্র।
তবে এই বিষযে অনেকেই বিভিন্ন মতও প্রকাশ করে বলেছেন যে, সরকারকে বুঝানো হচ্ছে যে, কর্মবিরতির মধ্যেও ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে কাজের মাত্রা সচল রয়েছে।
রিকাবী বাজার ইপিআই কেন্দ্রে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মচারী হচ্ছেন আছিয়া খাতুন। তাকে নির্ধারিত সময়ে কর্মবিরতিতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবারের ইপিআই কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল পঞ্চসার ইউনিয়রে চরমুক্তারপুর কেন্দ্রটি। এই কেন্দ্রটি শিল্প এলাকায়।
এখানে ঘনবসতি জনগণ বসবাস করে থাকেন। সেই হিসেবে এই কেন্দ্রে প্রসূতি মা ও নবজাত শিশুর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি। কর্মবিরতির কারণে প্রসূতি মা ও নবজাত শিশুরা এখান থেকে মঙ্গলবার দিন ফিরে গেছেন।
এই কর্মসূচির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে প্রথমদিন সোমাবার থেকে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছেন মুন্সিগঞ্জের সহ:স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা। কিন্তু তাদের কাছে কর্মসূচি পালনের কোন কাগজপত্র না আসায় তারা পরে যান বিপাকে।
আর সূত্র ধরে তাদেরকে ডেকে নিয়ে যান সিভিল সার্জন ডা: মো: হাবিবুর রহমান। এই কারণে তারা সিভিল সার্জন এর নির্দেশে দ্বিতীয়দিন মঙ্গলবার যে যার কর্মস্থলে যোগদানের প্রস্তুতি কালে ই-মেইলে কেন্দ্রিয়ভাবে তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি আসে। পরে তারা সেই কর্মসূচির কাগজপত্রাদি সিভিল সাজন এর কাছে পৌছে দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here