লৌহজংয়ের পশ্চিম শিমুলিয়ায় একই ব্যক্তির নামে দুটি মাজার! দিনভর জুয়া খেলায় শিশু-কিশোররা মত্ত

28000940_360181901127130_325200271_n

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম শিমুলিয়া গ্রামে মাজারের ওরশ ও মেলার নামে চলেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে জুয়া খেলা। এখানে এক সপ্তাহে কয়েক লাখ টাকার জুয়া খেলায় মত্ত ছিল গ্রামের নানা বয়সির মানুষ। রহস্যজনকভাবে লৌহজংয়ের পুলিশ প্রশাসন নিরব ছিল।

শিশু কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ এখানে অবৈধ জুয়া খেলা উপভোগ করলেও কোন বাধার মুখে পড়েনি জুয়া ব্যবসায়ীরা। লৌহজংয়ের হলদিয়া ইউনিয়নের এই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা ও গ্রাম্য পুলিশ ভুমিকাও ছিল রহস্যজনক।

প্রায় ১০টি জুয়ার বোর্ড এখানে দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নিবিঘেœ জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে গেছে কোনো বাধা বিপত্তি ছাড়াই। এভাবে চলতে থাকলে মুলত এখানে জুয়া ব্যবসার ডালপালা আরো ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। এতে জুয়ারীরা আসকারা পেয়ে মাথায় চড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ধরণের কর্মকান্ড সপ্তাহব্যাপী চললেও এখানকার ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম্য চকিদাররা আসলেই কি করেছেন তা নিয়ে সকলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?

এখানে মাজারের ওরশের নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এখানকার গ্রামবাসী ও দুর দূরান্ত থেকে আগত মানুষেরা।

এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, একই ব্যক্তির নামে এখানে দু’টি মাজার গড়ে উঠেছে। মুলত মাজারের নামে ভক্তদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বার্ষিক ওরশের নামে এখানে নানা ধরণের অবৈধ কাজ পরিচালিত হয়ে থাকে।

লৌহজং উপজেলার পশ্চিম শিমুলিয়া গ্রামে আমির শাহ নামে পাশাপাশি সেখানে দুটি মাজার রয়েছে। যা কিনা একই ব্যক্তির নামে।

বিগত দিনে এই মাজারকে কেন্দ্র করে প্রয়াত আমির শাহয়ের দুই ভাই মোসলেম শাহ ও আহম্মদ শাহের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তবে বিরোধের মুল কারণ হচ্ছে আশেকান ভক্তদের অর্থের বিষয়টি এখানে জোরালো হয়ে উঠেছে।

এই বিরোধের জের ধরে আমির শাহয়ের মাজারের মাটি নিয়ে এর পাশাপাশি গড়ে উঠে আরেকটি মাজার। আর এই নতুন মাজারের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

আর এই মাজারটি দেখাশোনা করছেন আমির শাহের ভাই মোসলেম শাহ। আর পুরাতন মাজারটি দেখাশোনা করছেন আমির শাহের অপর ভাই আহম্মদ শাহ।

রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আমির শাহের নামে এখানে ওরশের নামে নেতৃত্ব দেন আহম্মদ শাহ।

তারা দাবী করেন যে তাদের ওরশে প্রায় ৫ হাজারের মতো আশেকান ভক্তরা উপস্থিত হয়েছেন।

আর বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার আমির শাহের নামে এখানে ওরশে নেতৃত্ব দেন মোসলেম শাহ। এখানে শতাধিক আশেকান ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

আর এখানে ওরশের নামে পাশের মাঠে সামিয়ানা টানিয়ে মঞ্চ তৈরী করা হয়। গেইট বানানো হয়। মঞ্চের পাশে গড়ে তোলা হয় মেলার আদলে নানা ধরণের বিপনী বিতান। আর এর পূর্বে পাশেই বসে জুয়ার বোর্ড।

জুয়ার বোর্ডে নানা রকমের খেলা দেখা যায়। ৫ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার বোর্ড বসানো হয় এখানে।

কমটাকার বোর্ডে শিশু কিশোরদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আর হাজার টাকার বোর্ডে যুবক বয়সীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ১০ জুয়ার বোর্ডে দেড় শতাধিক লোকের ভিড় লক্ষ্যনিয় ছিল।

ওরশে আশেকানদের ভিড়ের চেয়ে জুয়ারীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি ছিল।

বৃহস্পতিবারের ওরশে আমন্ত্রনে ছিলেন ছালাম শাহ, কামাল শাহ ও আদিল শাহ। তাদের পিতার সাথে জুয়ার বোর্ডের বিষয়ে আলাপ করলে তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি আসলেই কিছুই জানেন না।

এই বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর সাথে মোবাইলে যোগ যোগ করা হলে তিনি জুয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না।

লৌহজং থানার অফিসার ইনর্চাজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুযার বিষয়টি তিনি দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here