টঙ্গীবাড়ীর কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই-ভাগিনাকে হয়রানির অভিযোগ

1519574248
সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম,  মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই ও ভাগিনাকে র‌্যাবের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। র‌্যাব বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারের কলেজ পড়ুয়া ভাই অনিক হালদার ও ভাগিনা হেমায়েত সরদারকে র‌্যাব-১১ রোববার সকালে আটক করে। এরপর অস্ত্র উদ্ধারে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক হালদারকে র‌্যাব দিনভর নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে আটককৃত একই কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হেমায়েত সরদার। এদিকে, খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে কামারখাড়া ইউনিয়নের বেশনাল এলাকায় গেলে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করার সময় র‌্যাব সংবাদকর্মীদের বাঁধা দেয়।
এ সময় ডিবিসি নিউজ, মুন্সিগঞ্জের ক্যামেরা পারসন মো. জাফর মিয়াকে র‌্যাব লাঠিপেটা করে এবং ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা ভাঙচুর করার চেষ্টা চালিয়ে সংবাদকর্মীদের অশালীন মন্তব্য করে। এমনকি সংবাদকর্মীদের আইডি কার্ড দেখতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদক ও মালিককে ফোন দিতে বলে র‌্যাব সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, কামারখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারের ছোট ভাই অনিক ও ভাগিনা হেমায়েত সরদার সকালে পার্শ্ববর্তী দিঘীরপাড় বাজারের মাছঘাট থেকে মাছের আড়তদারি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা বাড়ির কাছে বেশনাল এলাকায় পৌঁছলে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূল ক্যাম্পের র‌্যাব সদস্যরা তাদের আটক করে। এরপর অস্ত্র উদ্ধারে নানাখানে নিয়ে অনিককে নির্যাতন করে। আটককৃতদের কাছ থেকে রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোন অস্ত্র ও মাদক পায়নি র‌্যাব সদস্যরা।
এলাকাবাসী আরো জানান, অনিক এবং হেমায়েত কলেজ ছাত্র। অস্ত্র এবং মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই।
বিএনপি-জামায়াতের প্রতিপক্ষের স্থানীয়দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দিঘীরপাড়ের মুলচর গ্রামের শাহজাহান মাদবরের ছেলে র‌্যাবের সোর্স আল-আমিনের মাধ্যমে র‌্যাব তাদের হয়রানি করছে এবং অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
কামারখাড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মিহার বেগম জানান, অনিক ও হেমায়েত কোন গ্যাঞ্জামে নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। তাদের আটকের খবরে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ নেমে এসেছে এবং র‌্যাব তাদেরও মারধর করছে।
কামারখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার জানান, বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেনে তাকে ও তার ভাই-ভাগিনাকে হয়রানি করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়া ও এলাকার প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতের লোকদের টাকায় সোর্স আল-আমিনের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকেও ফোন দিয়ে বলে, অস্ত্র কোথায়, অস্ত্র দে। আমিতো অস্ত্রবাজি করিনা, অস্ত্র দেবো কোথা থেকে। ভাই অনিককে নির্যাতন করে অস্ত্র আছে বলে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করছে। এবং অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হতে পারে বলে এই চেয়ারম্যান আশঙ্কা করছেন।
র‌্যাব-১১ সিপিসি-১, মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পরিচালক মো. নাহিদ হাসান জনি জানান, তারা সকাল ৬টা থেকে অভিযান চালাচ্ছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাদক-অস্ত্র কিছুই পাওয়া যায়নি, কিছুক্ষণের মধ্যে পাওয়া যাবে জানিয়ে বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে অস্ত্র আছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার কারও সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। তার সঙ্গে জমিজমারও কোন বিরোধ নেই। আমার সাথে কারও কোন লেনদেনও নেই। সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেয়েই তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, তাদের হেফাজত থেকে বিকেল পাঁচ টার পর একটি বিদেশী পিস্তল ও ২টি ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে।
সূত্র: ডেইলি অবজারভার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here