মুন্সিগঞ্জে রামপালের সাগর কলা বিলুপ্তের পথে

hqdefaultমঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় ইতিহাসখ্যাত রামপালের সাগর কলা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ে রামপালের সাগর কলা সারাদেশে খ্যাতি ছিল। রামপালের সাগর কলা নিয়ে ছায়াছবিতে গানও হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে রামপালের চাষিরা সাগর কলা চাষ করতে চাচ্ছে না।
এখানকার সাগর কলার চাষিরা এই আবাদের পরিবর্তে অন্য আবাদে ঝুঁকে পড়ছে। অন্যবাদে বেশি পয়সা পওয়ায় চাষিরা এখন আর সাগর কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে না।
সাগর কলা চাষিদের সূত্রে জানা যায়, একই জমিতে তিনবারের বেশি কোন কলা চাষ করা যায় না। তিনবারের পর একবার বিরতি দিয়ে তবে আবার কলা চাষ করা যায়। কারণ হিসেবে তারা দাবি করেন যে, কলা চাষের জমিতে মাটি কেচো খুড়ে ফেলে। যেসব জমিতে কেচোর বেশি প্রভাব থাকে সেই সব জমির কলা চাষে কলার মধ্যে এক ধরণের কালো কালো দাগ পরে। এই কারণে সেই কলার একটু কমে যায়। কেচো খুড়া জমিতে বেশিদিন কলা চাষ করা যায় না। এই কারণে কলা চাষে বিরতি দিতে হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা বর্তমানে ৬টি স্থানে কলা চাষ হচ্ছে। এর জমির পরিমাণ হচ্ছে ৬ দশমিক ৬৮ হেক্টর। এর সাথে চাষি জড়িত রয়েছে ৫৩ জন।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের চুড়াইন গ্রামে ০ দশমিক ১৮ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ৪জন মাত্র।
রামপাল ইউনিয়নের রামপাল গ্রামে ৩ দশমিক ০৯ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ২২ জন মাত্র।
বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বজ্রযোগিনী গ্রামে ০ দশমিক ৩২ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ৩ জন মাত্র।
বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের রামশিং গ্রামে ১ দশমিক ০৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ৮ জন মাত্র।
পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে ০ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ১ জন মাত্র ও পঞ্চসার গ্রামে ১ দশমিক ৫৪ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষের সাথে চাষি জড়িত রয়েছেন ১৫ জন মাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here