মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিআরডিবি অফিসের হাজিরা খাতা গায়েব! ১২দিন ধরে হাজিরা স্বাক্ষর ছাড়াই অফিস চলছে

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিআরডিবি অফিসের হাজিরা খাতা গায়েব!

রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে হাজিরা খাতা ছাড়াই একটি সরকারি অফিস দিব্বি চলে যাচ্ছে। হাজিরা খাতার বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা একে অপরের দোষ চাপিয়ে এই যাত্রা থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা করছে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের কারণে এখান থেকে হাজিরা খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছে।

এদিকে অনেক কর্মচারীই মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ায় এখানে এক ধরণের চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় এখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছে।
তবে অফিসের দাবি হচ্ছে যে, প্রকল্পের আওয়াতাধীন কর্মচারীরা প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ি কাজ করলেই বেতন পাবে। অন্যদিকে এই অফিসের অফিস সহকারি রাশিদা প্রায় ৪ মাস ধরে কোন বেতন পাচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন যে, সে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী। কিন্তু মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিআরডিবি অফিসের কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তিনি ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
অফিসের নিয়ম শৃংখলার অবনতি ঘটনায় এখানে মুক্তিযোদ্ধা ফান্ডের টাকাও কেউ কেউ আতœসাৎ করে পার পাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এই মহতি প্রতিষ্টানটি হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিআরডিবি অফিস। এই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত হাজিরা খাতাটি গত মাসের ২২ মার্চ ২০১৮ তারিখে হারিয়ে যায় বলে বিআরডিবি’র পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান এক সপ্তাহ পরে অথ্যাৎ ২৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় জিডি দায়ের করেন। এর জিডি নং হচ্ছে ১১৬৯।
এই হাজিরা খাতাটি হারিয়ে যাওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, এই দিন ইউসিসিএলি: এর ব্যবস্থাপন কমিটির নির্বাচন ছিল। আর এই নির্বাচনের কারণেই এই হাজিরা খাতাটি হারিয়ে যায়। এই কারণ যুক্তিযুক্ত কিনা তা নিয়ে সকলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?

হাজিরা খাতাটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে ১ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত কোন নতুন হাজিরা খাতা কিনা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এর ফলে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীই ২২ মার্চ ২০১৮ তারিখ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মদিবসে অফিস খোলার দিন পর্যন্ত কোন হাজিরা খাতা স্বাক্ষর করতে পারেনি। হাজিরা খাতার স্বাক্ষর ছাড়াই এই অফিসটি বর্তমানে চলছে। এই দিন পর্যন্ত কে কে অফিসে ছিল আর কে কে অফিসে ছিল না, তার কোন তথ্য এই অফিসে পাওয়া যায়নি।

এই অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই দিনগুলোতে স্যার নিজেই হাজিরার বিষয়টি সংরক্ষণ করছেন।
তিনি আরো বলেন, এই অফিসের দুইজন বেয়দব কর্মচারী রয়েছে, তারা হাজিরা দিয়েই অফিস থেকে বের হয়ে যান। আর দিনের কখনো অফিসে আসেন না। এই কারণে স্যার নিজেই এই হাজিরা খাতাটি সংরক্ষণ করেন।
এই বিষয়ে কর্মচারীদের দাবি হচ্ছে, সেই দুইজন কর্মচারী মুলত ফিল্ডে কাজ করে। তারা স্বাক্ষর করার পরপরই ফিল্ডে চলে যান। স্যারদের এই যুক্তি সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন।

১ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ বিআরডিবি’র পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান অফিসে আসেননি।
বিআরডিবি’র পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান মুলত হাজিরা খাতা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে। তার হেফাজতেই থাকে হাজিরা খাতা। আর সেই সিন্দুকে রাখা হাজিরা খাতা কিভাবে হারিয়ে গেল?

অনেকের অভিযোগ হচ্ছে, এই অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুলত নিয়মিত অফিস করেন না। একজন আসলে আরেকজন আসেন না। এইভাবে অফিস চলার কারণে ঘটনা দামাচাপ দিতেই হাজিরা খাতা নিজেরাই গায়েব করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এইভাবে হাজিরা খাতা অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। অনেকদিন পরে আবার সেই হাজিরা খাতা পাওয়া যায় বলে শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এখানে আরো কিছু হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে বিআরডিবি’র পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমানকে মোবাইল করলে তিনি জানান, হাজিরা খাতা কেনার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখনো কেন হাজিরা খাতা কেনা হয়নি তা তিনি জানেন না।
এই বিষয়ে উপস্থিত কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তারা জানান, স্যার আমাদের হাজিরা খাতা কেনার জন্য কোন নির্দেশ দেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here