ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের ৫৫ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৪২ ভাগ

mawa2edfjfkdfj

শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: ঢাকার বাবুবাজার লিংক রোড থেকে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে কাজ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৬ মাসে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটারে কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪২ ভাগ।

৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চার লেনের এই সড়ক নির্মাণে কিলো মিটার প্রতি ব্যয় হচ্ছে ১২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্প-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এটি নির্মাণ শেষ হলে তা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার চার লেনের এই সড়কের নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক দুই লেনের সড়ক নির্মাণও প্রক্রিয়াধীন। এ হিসেবে মহাসড়কটি আসলে ৬ লেনে উন্নীত হচ্ছে। এ ছাড়া এই মহাসড়ক নির্মাণে পিসি গার্ডার ২০টি ও ১১টি আরসিসি সেতুসহ মোট ৩১টি সেতু থাকছে।

বড় সেতুর মধ্যে ২৫৮.৫ মিটার দৈর্ঘের ধলেশ্বরী-১, ৩৮২.৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ধলেশ্বরী-২ এবং ৪৫০.৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে আড়িয়াল খাঁ সেতু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ৪৫টি কালভার্ট, তিনটি ফ্লাইওভার, গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় একটি ও ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটিসহ মোট দুটি ইন্টারচেঞ্চ নির্মাণও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরেজমিন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর ও সিরাজদীখান সীমানায় দেখা গেছে, বড় আকৃতির ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে চার লেনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মহাসড়কের প্রয়োজনীয় কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা কাজ করে চলেছেন। সেখানে কাজ করা একাধিক প্রকৌশলী জানান, সিরাজদীখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় ধলেশ্বরী-২ সেতুর পাইল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।

বর্তমানে বাকি থাকা একটি পাইল ক্যাপের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সুপার স্ট্রাকচারের পার্ট ও গার্ডারের কাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধলেশ্বরী-১ সেতুর ৯টি পাইল ক্যাপের মধ্যে ৩টির কাজ চলছে।

এ ছাড়া ৪৫টি কালভার্টের নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাপুর এলাকার ফ্লাইওভারের পাইল, পিয়ার (খুঁটি), ক্যাপ নির্মাণের কাজ এবং খুঁটির হেডের কাজ শেষ হয়ে যাবে। চলছে গার্ডার নির্মাণের কাজও।

অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ফ্লাইওভারে ৫০ ভাগ কাজ শেষ। এখন খুঁটির ওপরে অংশ ও গার্ডারের কাজ চলছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের ২.৩ কিলোমিটার লিংক রোডের ৭৬টি খুঁটির মধ্যে ৩৪টির নির্মাণ শেষ হয়েছে।

এখন পাইল ক্যাপ ও গার্ডারের কাজের সঙ্গে মহাসড়কের নিচের অংশের কাজ করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে থাকা আরেক প্রকৌশলী জানান, ফ্লাইওভার, কালভার্ট, সেতু, লিংক রোড, আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণকাজ বর্তমানে ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। জুরাইন রেলওয়ে ওভারপাসের পাইল শেষে এখন পাইল ক্যাপের কাজ, কুচিয়ামোড়া রেলওয়ে ওভারপাসের গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্টের কাজ চলছে। বর্তমানে রেলওয়ে ওভারপাসের ৪০ ভাগ স্ট্রাকচারের কাজ শেষ, বাকি কাজ চলমান রেখে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া এবং ভাঙ্গায় ইন্টারচেঞ্জের কাজ হচ্ছে।

এদিকে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি সূত্র জানায়, নির্মাণসামগ্রী, জমি অধিগ্রহণ, খনন কাজ, বালু ও মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ফলে মহাসড়কের ভিত নির্মাণে ২৫৭ ভাগ, সাব-বেজ ৫০ মিলিমিটার, ডিবিএস বেজ কোর্স ২০ মিলিমিটার বাড়ানো হয়েছে। তাই প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকার স্থলে ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here