মুন্সিগঞ্জে ব্যাপক বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরোক্ষেত

মুন্সিগঞ্জে ব্যাপক বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরোক্ষেতরবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোক্ষেত তলিয়ে যাওয়াসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ধানে চারা গজিয়েছে। এমন ধান কেটেই ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষক। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় তাও খুব একটা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলার শ্রীনগর উপজেলার গাদিরঘাট, মদনখালী, বাড়ৈখালী, আলমপুর, লস্করপুর, মত্যখালী, হাষাড়া, শ্রীধরপুর এলাকায় আড়িয়ল বিল এবং লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া চকের হাজারো হেক্টর জমির পাকা ধান বর্ষণের পানিতে তলিয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ

ফসলের ক্ষেতে ধানের শীষের মাথার ওপর দিয়ে তিন-চার ফুট উচ্চতায় বর্ষণের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মানুষ সমান বৃষ্টির পানি ধানক্ষেতে। এতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা ও মাড়াই করাও যাচ্ছে না।

কৃষকরা জানান, একেবারেই সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এখন ৫০-৬০ টাকা কেজিতে চাল কেনা যায়। এবার বর্ষণে ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে এবার ৮০-৯০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে হবে।

শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিলের ধানচাষি আবদুল বারেক জানান, আড়িয়ল বিলে এবার পাঁচ হেক্টর জমিতে ধান ফলিয়েছেন তিনি। অথচ ধান কাটার মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে তার জমির সব ধানই তলিয়ে গেছে। এক আঁটি ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না বলে দাবি করেন তিনি। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলবেন তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মকবুল হোসেন জানান, আড়িয়ল বিলের কৃষকরা এ বছর তাদের অর্ধেক পাকা ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না। ধান উত্তোলন মৌসুমের শুরুতেই অতিবর্ষণে আড়িয়ল বিলের ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে।

লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া চকের কান্দিপাড়া গ্রামের কৃষক নাসির মোল্লা জানান, বৃষ্টির পানিতে জমির পুরো ধানই তলিয়ে রয়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমি থেকে এক গুচ্ছ ধানও ঘরে তুলতে পারেননি কৃষক।

নাসির মোল্লার মতো একই করুণ অবস্থার সম্মুখে পড়েছেন ওই অঞ্চলের কৃষক। যশলদিয়া চকে আজিম ব্যাপারী ২০ গণ্ডা, দোগাছি গ্রামের মনির মাদবর ১৫ গণ্ডার জমিতে ধান ফলিয়েছেন। বর্ষণে এ কৃষকদের কেউই এবার পাকা ধান ঘরে তুলে নিতে পারেননি। অথৈ পানির নিচে নৌকা কিংবা ট্রলার যোগে ধান কাটা যাচ্ছে না বলে কৃষকরা দাবি করেন।

গাদিরঘাট এলাকার বিলের চাষি আবদুর কাদের জানান, অতিবর্ষণের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষিরা। এরই মধ্যে বিষধর সাপের বিচরণ ভূমি হয়ে উঠায় জমিতে পাকা ধান কাটার সাহস পাচ্ছেন না

চাষিরা। আড়িয়ল বিলের প্রায় জায়গায় ধানের জমিতে এ সাপ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ৫০০-৮০০ টাকা মজুরিতেও দিনমজুররা তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না।

আড়িয়ল বিলের আলমপুরের ধান চাষি আলম চান মুন্সী ও লস্করপুরের চাষি মহসিন ঢালী জানান, বিলের সর্বত্র সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। চাষিরা পাকা ধান কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ে প্রাণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। তাই এবার অর্ধেক পাকা ধানও

বিলের চাষিরা ঘরে তুলে নিতে ভয় পাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিষধর সাপ বিচরণ করায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আড়িয়ল বিলের ধানচাষিরা।

শেয়ার বিজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here