মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান রাজিবকে জেল হাজতে প্রেরণ: আগামী ৯ মে জামিন ও রিমান্ড প্রসঙ্গে শুনানী

সোমবার, ৭ মে ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

সোমবার মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান রাজিবকে জেল হাজতে প্রেরণের নিদের্শ দিয়েছে মুন্সিগঞ্জের বিজ্ঞ আদালত।31949746_396261534185833_3597350910755340288_n
আগামী ৯ মে জামিন ও রিমান্ড প্রসঙ্গে শুনানী হবে বলে দিন ধার্য করেছে বিজ্ঞ আদালত।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিচারিক আদালতের বিজ্ঞ বিচারক হায়দার আলী এই আদেশ প্রদান করেন।
সোমবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ আক্তারুজ্জামান রাজিবকে আদালতে সোর্পদ করেন। এই সময় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ব্যাপক পুলিশ প্রহরায় রাজিবকে মুন্সিগঞ্জ থানা থেকে আদালতে আনা হয়।
দুপুর ৩টার দিকে তাকে মুন্সিগঞ্জ আদালত থেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক হাজার যুবলীগের সমর্থক এর প্রতিবাদেই আদালত চত্বরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।
এরপর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো জামিন ও রিমান্ড প্রসঙ্গে শুনানী হয়। এই শুনানী শেষে আদালত উক্ত রায় প্রদান করেন।
এই শুনানীতে প্রায় ১২ আইনজীবী রাজিবের পক্ষে অংশ নেয়। উল্লেখযোগ্য শুনানীতে অংশ নেন মুন্সিগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও এড. স.ম. হাবিবুর রহমান ও এড. সোহানা তাহমিনা। শুনানীতে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. নাসিমা আক্তার, এড. শামসুন্নাহার শিল্পী, এড. আ: হাসান মৃধা ও এড. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী টিটো।
মামলার শুনানীর এই সময় আদালতে এই মামলার বাদি রোকসানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
রাজিবকে আদালতে আনা খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হাজার হাজার সমর্থক আদালত চত্বরে উপস্থিত হন।
তাকে দেখতে আদালতে ছুটে আসেন তার মা, মুন্সিগঞ্জ জেলা আ,লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর বড় ছেলে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজি ফয়সাল বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরো অনেকেই।
আক্তারুজ্জামান রাজিব হচ্ছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিসএর বড় ছেলে।

জানা যায়, সোমবার সকাল ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মানিকপুর থেকে পুলিশ জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান রাজিবকে গ্রেফতার করে। যে মামলায় রাজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই মামলা নং হচ্ছে ৭ (১২) ২০১৭। এই মামলাটি মুন্সিগঞ্জ থানায় ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে দায়ের করা হয়। এই মামলায় প্রায় ৮জনকে আসামী করা হয়। রাজিব হচ্ছে এই মামলার ৬নং আসামী। এই মামলার ঘটনাস্থ হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামশিং গ্রাম।
৩ লাখ টাকার চাঁদার দাবি ও বাড়িঘর ভাঙ্গচুরসহ নারীদের হামলায় মুন্সিগঞ্জ থানায় এই মামলা হয়। এই মামলায় দীর্ঘদিনেও রাজিবসহ অন্যান্য আসামীরা আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলোনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

31949210_396261620852491_8022414381058883584_n

এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে মানিকপুর এলাকায় একজন ব্যক্তিকে অপহরণের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের পুলিশের উর্ধ্বর্তন কর্তা ব্যক্তিরা সোমবার মানিকপুরে পরির্দশনে গেলে ঘটনাস্থলে রাজিবকে বসে থাকতে দেখে। পূর্বের মামলার কারণে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ রাজিবকে সেই সময় গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়।
রবিবারের মানিকপুরের অপহরণ মামলায় রাজিবের ছোট ভাই জালাল উদ্দিন রাজনকে ১নং আসামী করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দুপুরে রাজীবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মুন্সিগঞ্জ সদরের রামশিং গ্রামের নারী রোকসানার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে এবং না দিলে বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। চাঁদা না দেয়ায় তারা ওই নারীর বাড়িঘর ভাঙ্চুর করে। এ ঘটনায় একই বছরের ৭ ডিসেম্বর যুবলীগ নেতা রাজীবসহ ৮ জনকে আসামি করে রোকসানা বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করে। এই মামলায় রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here