টঙ্গীবাড়ির কামারখাড়া ইউনিয়নে নববধূকে শশুর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

রবিবার, ২০ মে ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের বাইনখাড়া গ্রামের আওলাদ বেপারির ছেলে বখাটে তানজিল বেপারি (২৫) একই গ্রামের নিপা আক্তার(ছদ্মনাম) (১৮) নামে এক নববধূকে শশুর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। গত ২৪ এপ্রিল একই ইউনিয়নের বেশনাল গ্রামের সাজ্জাদ হালদার-এর সাথে নিপার বিয়ে হয়। গত ৫ মে শনিবার রাত ৮টায় বেশনাল গ্রামের স্বামী

সাজ্জাদ হালদার এর বাড়ি থেকে নবাগত বধূকে মোটর-সাইকেল যোগে তুলে নিয়ে যায় তানজিল বেপারি। জানা যায়, নিপার সাথে পূর্বে তানজিল বেপারির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো ।তাই তানজিল বিয়ের পর নিপাকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছে, এবং তার স্বামী ও বাবা মাকে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন।

ওই দিন রাতে নিপাকে ভয় দেখিয়ে বাসার বাহিরে ডেকে আনে ও জোরপূর্বক মোটর-সাইকেল যোগে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন।এরপর টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বাড়াইপাড়া গ্রামে নিপার বোনের বাসায় ফেলে তানজিল পালিয়ে যায়।এর কয়েক বছর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিপক্র প্রথম স্বামী স্বপন হোসেন’কে তালাক দিতে বাধ্য করেন তানজিল। সেসময় সে তানজিলকে বিয়ে করার

কথা বললে মারধরসহ নানান ধরনের নির্যাতন চালায়। তানজিলের এরকম আচরণ দেখে নিপার বাবা-মা তাকে দ্বিতীয় বিবাহ দেন । নিপা তার বাবা-মা’র কথা মত তানজিলকে ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করেন। কিন্ত তানজিল আবারও নিপাকে ভোগ করার জন্য নবাগত শশুর বাড়ির নাম্বার সংগ্রহ করেন ।

ভাই পরিচয় দিয়ে নিপার সাথে ফোনে কথা বলেন এবং ভয়-ভীতি দেখান। লোকলজ্জার ভয়ে তখন প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি সে। একে একে দুইবার এই ঘটনা ঘটিয়ে নিপার দু’টি সংসার ভেঙে দেন তানজিল বেপারি।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম গত ২বছর পূর্বে স্বর্ণগ্রাম রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা

করেন। গ্রাম সালিশে নগদ অর্থ জরিমানা প্রদান করে পার পেয়ে যান। এছাড়াও হুন্ডি ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। গতবছর মাদকসহ টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশ তাকে আটক করেন। হুন্ডি ও মাদক ব্যবসা করে গড়েছেন টাকার

পাহাড়।একের পর এক অপকর্ম করেও টাকার বিনিময় পার পেয়ে যাচ্ছেন। ভোক্তভোগী নিপা বলেন, তানজিল আমার জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন ভাবে ব্লাকমেইল করে যাচ্ছে।

এখনও আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। আমরা গরিব তাই ওদের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আমাদের নেই, ওরা টাকা দিয়ে সবকিছু কিনে নিয়েছে। আমি চাই ওর কঠোর বিচার হোক । যাতে আমার মত গরীব অসহায় মেয়েদের জীবন নষ্ট না করতে পারে। কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন হালদার বলেন, আমি তানজিলকে

হাজির করার জন্য ছেলের পরিবারকে সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তানজিলকে হাজির করেননি । এরপর ছেলের বা মেয়ের পরিবারের কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।তানজিল যদি অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি

সহযোগীতা করবো। টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান জানান, এব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নওরোজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here