মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার নাগরিক হয়েও পূর্ব যোগিনীঘাটের পৌরবাসীরা সকল ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত

মোহাম্মদ সেলিম, গোলাম আশরাফ ও নাজির হোসেন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

32662651_400350990443554_1235755480828084224_n

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার নাগরিক হয়েও পূর্ব যোগিনীঘাটের পৌরবাসীরা সকল ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বৃষ্টি ও বর্ষার সময় এখানে নৌকার ওপর ভরসা করে এখানকার পৌর নাগরিকদের চলাচল করতে হয়। কোন ধরণের পথ যোগাযোগ না থাকায় এখানকার নাগরিকদের শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

32777109_400352277110092_6972362656065781760_nশিশু স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পায়ে হেটে পশ্চিম যোগিনীঘাটের প্রধান সড়কের কাছ থেকে গাড়িতে শহরে আসতে হয়। এখানে প্রায় ৮ হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু এখানে নেই কোন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পড়ালেখা করতে তাদেরকে ছুটতে হয় প্রধান শহরে। এখানে প্রতিটি ঘরে ঘরে কোন বিদ্যুৎ নেই। গভীর নলকুপের অভাবে এখানকার নাগরিকরা ধলেশ্বরী নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।

এখানে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হন প্রসূতি মায়েরা।
পূর্বপারের যোগিনীঘাটের উত্তরদিকে বসতিদের যাতায়াতে কোন রাস্তাঘাট নেই। এখানকার মানুষদের এক বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তারপরে মুল সড়কে উঠতে গেলে একটি খাল পরে। সেই খালের ওপর কোন সেতু নেই। এখানে পারাপারে

রয়েছে একাধিক বাঁশের সাঁকো। তাই দিয়ে এখানকার চালিয়ে নিচ্ছে পৌর নাগরিকরা চালিয়ে নিচ্ছে জীবনধারা
এখানে চরাঞ্চলের মতো বসবাসের কারণে নারী ও অল্প বয়সের লোকজনকে সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এখানে কয়েকটি বাড়ি এক সাথে থাকলেও আবার দূরে দূরে একটি করে বাড়ি রয়েছে। এখানে রাত্রি কালিন নিরাপত্তার ব্যাপক অভাব রয়েছে।

প্রথম শ্রেণির মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সিমান্ত হচ্ছে পূর্ব যোগিনীঘাট। ধলেশ্বরী শাখা নদী দিয়ে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সিমানা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সিমান্তের পূর্ব যোগিনীঘাটে শেষে যিনি বাস করেন তিনি হচ্ছেন ডাক্তার মান্নান। এই বাড়ির নাম হচ্ছে শিরিন ভিলা এর পরের সিমান্ত হচ্ছে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন। এর একটু দূরে প্রবাহিত হচ্ছে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদী। এই নদীতে রাতবিরাতে সব সময় ডাকাত ঘোরা ফেরা করে। ইতোমধ্যে ডাক্তার মান্নানের বাড়িতে

ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতির পর ডাক্তার মান্নান তার বাড়ির ফটক তৈরি করেছেন জেলখানার মতো করে। বিশাল বিশাল একাধিক তালা এখানে শোভা পাচ্ছে। এখানকার মানুষ নিরাপত্তাহিনতায় রাতে ঘুমাতে যায়। পৌরসভার শেষ সিমান্তে একটি পুলিশ ফাঁড়ির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

32670643_400351627110157_7144828751463841792_nপূর্ব যোগিনীঘাট থেকে একটি রাস্তা গেছে মেঘনা নদীর তীর পর্যন্ত। সেই রাস্তাটি হবে প্রায় ৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৪ কিলোমিটার রাস্তা পড়েছে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে, বাকি রাস্তা সোনারগাঁও উপজেলার মধ্যে। এই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশের পিচ কাপেটিং উঠে গেছে। এর ফলে সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে এই রাস্তায় চলাচল একেবারেই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ফয়সাল বিপ্লব একদিনের জন্য এই অবহেলিত মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সিমান্তের পূর্ব যোগিনীঘাটে আসেননি বলে এখানকার নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন। তার পূর্বসূরিরা বিভিন্ন সময়ে এখানে আসলেও এখানে কোন উন্নয়ন হয়নি।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম সহিদ বলেন, ঐপারের উন্নয়নের জন্য মেয়রকে নিয়ে সেখানে যাবো। সরোজমিনে দেখে মেয়র অনুরোধ করবো যেন এখানকার কাজ দ্রুত শুরু করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here