শামছু ভাই পত্রিকা পড়ার নেশায় বৃদ্ধ বয়সে এখনো ছুটে আসেন মুন্সিগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে

মোহাম্মদ সেলিম, গোলাম আশরাফ ও নাজির হোসেন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

32538514_399895553822431_3135587251501662208_n

শামছু ভাই পত্রিকা পড়ার নেশায় বৃদ্ধ বয়সে এখনো ছুটে আসেন মুন্সিগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে। এক সময় এখানে তিনি এম.এল.এস পদে চাকরি করতেন। বর্তমানে চাকরি থেকে অবসরে গেলেও পত্রিকার নেশায় বারবার এখানেই ছুটে আসেন। জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারটি যতক্ষণ খোলা থাকে ততক্ষণই তাকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা পড়তে দেখা যায়।

এদিকে পত্রিকা বা বই পড়তে আসা পড়–য়াদের নিত্যদিনের হাজিরা খাতার স্বাক্ষরটি সবাইকে মনে করিয়ে নিয়ে নেন।
মুন্সিগঞ্জ শ্রীনাথ ক্লাবের কাছে পাবলিক লাইব্রেরী হিসেবে ১৯৬৫ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ের এপ্রিল মাসে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কোটগাও গ্রামের মৃত হাতেম আলী দেওয়ানের পুত্র মো: শামসুল হক দেওয়ান (শামসু ভাই) এখানে

এম.এল.এস পদে ৫০ টাকা মাসিক বেতনে কাজে যোগদান করেন। সেই থেকেই এখানে তার পথ চলা। সেই সময়ের পার্লামেন্ট সদস্য মৃত আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর সহযোগিতায় শামসু ভাই এখানে এই চাকরিটি পান বলে তিনি দাবি করেন।
সেই সময় পাবলিক লাইব্রেরীর নাম ছিল মুন্সিগঞ্জ তথ্য কেন্দ্র। তখন এই তথ্য কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মুন্সিগঞ্জ হাই

স্কুলের শিক্ষক মরহুম আব্দুল মালেক। সেই সময় মহকুমার তথ্য কেন্দ্রের পাঠাগারটি নিয়ন্ত্রণ করতো তথ্য অফিস। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তথ্য কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করা হয়। তখন এর নাম হয় বাংলাদেশ পরিষদ। এরপর থেকে শামসু ভাইয়ের দীর্ঘবছর এখানেই থেকে যাওয়া হয়। ২০০২ সালে তিনি এই চাকরি থেকে অবসরে যান। কিন্তু কাগজেপত্রে তিনি অবসরে গেলেও

পত্রিকা পড়ার নেশায় প্রতিদিনই তিনি এখানে ফিরে আসেন। এখনো তিনি এখানেই আছেন। মুন্সিগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার তার নিয়মিত অফিসের কাজকর্ম দেখে রাখার কারণে শামসু ভাইকে কিছু সম্মানি প্রদান করেন।

32563487_399895547155765_2700144010831331328_n

এক্ষেত্রে শামসু ভাইয়ের বক্তব্য হচ্ছে, বুড়ো বয়সে বাড়িতে বসে থাকলে আরো খারাপ লাগতো। এখনো একটি কাজের সাথে জড়িয়ে থাকায় আমার ভালো লাগছে।

প্রতিষ্ঠাকালে এই পাঠাগারটি শ্রীনাথ ক্লাবের টিনের ঘরে থাকলেও ১৯৮১ সালে এই পাঠাগারটি চলে আসে পূর্বের জনতা ব্যাংকের পিছনে বটপাড়া গ্রামে। ১৯৮৪ সালে সেখান থেকে পাঠাগারটি চলে আসে মুন্সিগঞ্জ প্রধান সড়কের বাজার সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী সুপার মার্কেটে। পরে ১৯৮৫ সালে এই পাঠাগার স্থান হয় দক্ষিণ কোটগাও গ্রামের গোলাম মোর্শেদের বাড়িতে। ১৯৯০ সালে

পুরাতন পৌরসভার দ্বিতীয়তলায় এই পাঠাগারের কাজ চলে। ১৯৯৬ সালে মুন্সিগঞ্জ স্টেডিয়ামের প্যাভেলিয়নে এই পাঠাগারের কাজ চালানো হয়। এরপর ২০১১ সালের ১২ মার্চ স্থীয়ভাবে মুন্সিগঞ্জ সরকারি জেলা গণগ্রন্থাগারের নিজস্ব ভবনে কাজ শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here