পঞ্চসারের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামে পুলিশিং কমিউনিটির নেতা মাদক ব্যবসায়ি রকিকে ছেড়ে দেয়ায় এলাকায় তোলপাড়

কাজি হালিম, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামে এক মাদক ব্যবসায়িকে মাদকসহ ধরার পর সমাজপ্রতিদের নির্দেশে ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে তোলপাড় চলছে।

জানা যায়, ২১ মে তারাবি নামাজ শেষে মুসল্লিদের বাড়ি ফেরার পথে ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সুমনের মুদি দোকানের সামনে থেকে ১১২ পিস ইয়াবাসহ আফসুর পুত্র রকি (২৬ কে গ্রামবাসী ধরে ফেলে।

এই সময় গ্রামবাসি এ ঘটনার বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে দেরিতে আসার অভিযোগে স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও পুলিশিং কমিউনিটির এই গ্রামের সভাপতি সেলিম মাদবরের নির্দেশে রকিকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর ইয়াবা গুলো ভেঙ্গে নস্ট করা হয়। ভবিষতে এলাকায় আর কোনদিন যাতে এই গ্রামে কোন মাদক বিক্রি না করে এই শর্তে রকিকে তার

ফুফাতো ভাই রাকিব এর হাতে তুলে দেয়া হয় বলে শোনা যাচ্ছে। রাকিব তার ভাইয়ের জিম্মাদার হয়ে সেখানেই রকিকে কোমরের ভেল্টে দিয়ে পিটিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।

এদিকে একই গ্রামের ইসমাইলের পুত্র ইউসুফের কাছ থেকে রকি সেদিন এই ১১২ পিস ইয়াবা কিনে ছিলো বলে গ্রামবাসীদের কাছে স্বীকার করে।

রকি যাতে ছাড়া না হয়, তাকে যেন পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়, এ বিষয়ে সেখানে দেলোয়ার জোর আপত্তি জানায়। কিন্তু সেলিম মাদরের হুমকি ধামকির কারণে দেলোয়ার পরে চুপ থাকতে বাধ্য হয়।

কে এই ইউসুফ। ইউসুফের তিন ভাই এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। ইউসুফের বড় ভাই চলেন জেলা ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতার সাথে। সেই দাপটেই এখানে গড়ে তুলেছে এই মাদকের রমরমা ব্যবসা। ইউসুফের আরেক ছোট ভাই আবুলও এই মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতা ও ইউসুফের ভয়ে সেলিম মাদবর রকিকে ছেড়ে দিয়েছে। রকি পুলিশের হাতে ধরা পড়লে কেঁচো খুঁড়তে যদি আবার সাপ বের হয়ে যায়, এ কারণে সেদিন রকি ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সেলিম মাদবরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ হচ্ছে যে, তার এমকি ক্ষমতা যে মাদকসহ ধরার পরেও সে রকিকে ছেড়ে দেয়। এই ক্ষমতা সে কোথায় পেলো? এই নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে?

এই ঘটনার পরে সেলিম মাদবরকে দিয়ে কি এলাকায় পুলিশিং কমিউনিটির কাজ বাস্তবায়ন হওয়া কি সম্ভব? তা পুলিশ প্রশাসনকে ভেবে দেখা উচিত বলে এলাকাবাসী মনে করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here