মুসলমানদের প্রথম ঈদ উৎসব পালন

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল, শুক্রবার, ৮ জুন ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

images

মুসলমানরা ঈদের প্রথম নামাজ কবে এবং কোথায় আদায় করেছিল তা প্রত্যেক মুসলানেরই জানতে ইচ্ছে হয়। আর এ বিষয়টি অবশ্যই জানা দরকার প্রতিটি মুসলমানের।

হিজরী দ্বিতীয় সাল মোতাবেক ৬২৪ ঈশায়ী সালের ৩০ অথবা ৩১ মার্চ মুসলমানরা প্রথম ঈদুল ফিতর-এর নামাজ মদিনায় আদায় করে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে ইমাম হয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরে সহিত দু’রাকাত ঈদুল ফিতরের ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে খুদবা পাঠ করেন মহানবী (সাঃ) নিজে। ঈদুল ফিতরের প্রথম নামাজে হাজার হাজার মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
৬২৪ সালের মার্চ এর শেষ দিনগুলোতে ঈদ সম্পন্ন ছয় বলে ঐতিহাসিকদের অভিমত।

সেদিন মদিনার ঘরে ঘরে ছিল আনন্দের বন্যা। আকাশ বাতাস মুখরিত ছিল আতর গোলাপের সুগন্ধে।

রমজানের একমাস সিয়াম সাধনা করে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। এটাই ইসলামি শরীয়তের রীতি।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১ মার্চ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা রোজাকে প্রথম ‘ফরজ’ হিসেবে পালন করে। এ বছর ১৭ রমজান মোতাবেক ১৭ মার্চ ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

রোজার প্রথম বর্ষ, বদরের যুদ্ধ সংগঠিত এবং মুসলমানদের বিজয় যা ঈদে সর্বোচ্চ আনন্দ প্রকাশিত হয়েছিল। রমজানের এক মাস কঠিন ইবাদত অনুষ্ঠান শেষে পহেলা শাওয়াল ঈদ করে মুসলিম সমাজ।

রমজানের ঈদকে ঈদুল ফিতর বলা হয়। ঈদ আরবী শব্দ যার অর্থ আনন্দ প্রকাশ করা। বুখারী ও মুসলীম শরিফের হাদিসে উল্লেখ রয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে।

আমাদের উৎসব হলো ঈদ। ঈদের দিন হলো মুসলমানদের জাতীয় খুশির দিন।’’ ঈদুল ফিতরকে যদি শাব্দিক অর্থে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে ঈদ অর্থ আনন্দ আর ফিতর অর্থ ভঙ্গ করা।

অর্থাৎ আল্লাহর বান্দারা তাঁর নির্দেশ মেনে চরম পরীক্ষায় লিপ্ত ছিল একমাস। তারা সাওম পালন, রাতে বিশ রাকাত তারাবীহর নামাজ, ইতিকাফে অংশ ও যাকাত ফিতরা আদায়ে অব্যাহত ছিল।

কঠিন ইবাদত হতে অব্যাহতির আনন্দই হল ঈদুল ফিতরের আনন্দ। ঈদুল ফিতরের দিন ধনীদের উপর ছদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজীব।

এতে ধনী, গরিব, দুঃখী সকলেই ঈদ সমভাবে উপভোগ করতে পারে। ফলে সকলের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যে মুসলিম ব্যক্তির নিকট জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ব্যতীত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সমমানের কোন সম্পদ থাকে, তার উপর ছদকাতুল ফিতর আদায় ওয়াজীব।

এ পরিমান সম্পদকে শরীয়তের ভাষায় ‘নিসাব’ বলে। যে বছর রোজা হয় সেবছরই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মুসলমানদের ছদকাতুল ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দেন।

আবু দাউদ শরীফের এক হাদিসে রয়েছে, ‘ছদকাতুল ফিতর দ্বারা সাওম পালনের সকল দোষ-ক্রটি দূরীভুত হয়। ফলে গরিবের পানাহারেরও ব্যবস্থা হয়।

প্রত্যেক জাতিরই একটি দিন নির্ধারিত থাকে, যে দিনটিতে তারা গুরুগম্ভীর ও ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে পালন করে। সেদিনটিতে তারা সর্বোচ্চ আনন্দ প্রকাশ করে।

সেদিন উত্তম পোশাক, ভাল খাদ্য গ্রহণ ও নিজেদের শোভা-সমৃদ্ধি প্রকাশ করে। আর মুসলমানদের নির্ধারিত দিনটি হলো ঈদের দিন।
এদিন সকল ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে নতুন করে সমাজ জীবন গড়ার সংকল্প করে মুসলমানরা।

[লেখক : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক]
সহযোগিতায়:
বোখারী শরীফ : ঈদ অধ্যায়
মুসলিম শরীফ : ঈদ অধ্যায়
আবু দাউদ শরীফ: ঈদ অধ্যায়
আরব জাতির ইতিহাস: মুহাম্মদ রেজা-ই-করিম
ইসলামের ইতিহাস: পিক.কে.হিট্টি
কাবা শরীফের ইতিহাস : (ই:ফা:বা:)

ফাইল ছবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here