পঞ্চসারে এক স্কুল ছাত্র অপহরণের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা

নাজির হোসেন ও তুষার আহমেদ, মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের আদারিয়াতলার সরদার বাড়িতে এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করার কথা বলে ৬০ হাজার টাকার মুক্তিপণে ছাত্রের বাবার কাছে টাকা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে। এই ঘটনার বিষয়ে ছাত্রের বাবা আসলাম সরদার (৪৫) গত রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় জিডি দায়ের করেছেন।

এই জিডি নং হচ্ছে ১০৭২। এই জিডি দায়ের পরপরই মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এস.আই আলীমুর রাজি আলীম তদন্তে নেমেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি এই বিষযে খোঁজ খবরে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন।

আসলাম সরদারের পুত্র ইরফান (১১) চলতি শিক্ষা বর্ষে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েছেন। এখানে তার রোল হচ্ছে ৭। সে খ শাখায় পড়েছেন।

এই ঘটনাটি স্কুল পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও পরিচালনা পরিষদ এর সদস্যরা গত রোববার শিক্ষার্থীদের সাথে এই বিষয়ে সচেতনামুলক সভা করেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

যাতে শিক্ষার্থীরা কোন ভাবেই এই ঘটনায় যেন আতংকিত না হয়ে পড়েন। আর স্কুলে আসা যাওয়া বন্ধ না করেন।

এদিকে এই স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সদস্য মামুন মেম্বার এই বিষয়ে আইনি সহয়তার জন্য আসলাম সরদার নানা ভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জানা যায়, ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে আসলাম সরদারের নিজের এই ০১৭১৫-৭৪৩৮৪৮ নাম্বারে অপহরণকারীরা এই ০১৭৬০-৫৪৩১৮৭ নাম্বার থেকে রিং করেন। অপহরণকারীরা আসলাম সরদারকে জানায় যে, তার ছেলে ইরফানকে তারা অপহরণ করেছেন।

এতে আসলাম সরদার বলেন যে, আমার ছেলেতো স্কুলে গেছে। এর বিপরিতে অপহরণকারীরা পাল্লাটা জানায় যে, ছেলে স্কুলে যাওয়ার পথেই তারা ইরফানকে অপহরণ করেছেন।

অপহরণকারীরা জানায়, ছেলেকে জীবত চাইলে এখনি মুক্তিপণ বাবদ বিকাশ নাম্বারে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তা না হলে তোমার ছেলের লাশ পাবে। আসলাম সরদার এতে অনেকটা ভয় পেয়ে যান।

আসলাম সরদার জানায় যে, এই মুহূর্তে তার কাছে এতো টাকা নেই। হাজার বিশেক টাকা তার কাছে আছে। এতেই অপহরণকারীরা এই বিষয়টা অনেকেটা মেনে নিয়েই ২০ হাজার টাকাই তাদেরকে পাঠাতে বলে। আর বাকি টাকা পরে পাঠাতে বলে। তারা টাকা পাঠাতে আসলাম সরদারকে দু’টি মোবাইলের নাম্বার দেয়। সেই দুটি মোব্ইাল নাম্বার হচ্ছে বিকাশ-০১৭৬০-৫৪৩১৮৭ ও রকেট-০১৯৮৯-৯৩৩৯১৫।

আসলাম সরদার নাম্বার পাওয়ার পর বলে যে, আমার আশপাশে কোন টাকা পাঠাবার দোকান নেই। টাকা পাঠাতে হলে স্থানীয় দয়াল বাজারে যেতে হবে। তারা আসলামকে সেখানেই যেতে বলে। এই সময় আসলামের সাথে তার গ্রামের দুইজন ভাই রফিক ও চঞ্চল সাথে ছিলো। অপহরণকারীরা আসলামকে বলে টাকা না পাঠানো পর্যন্ত যেন কোন ভাবেই ফোন না ছাড়তে মানা করে। এই কারণে বিকাশের দোকানে আসলাম না যাওয়া পর্যন্ত মোবাইল ফোনটি ভিজি থাকে।

এদিকে আসলামের ছোট ভাই মনির ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে ইরফানের স্কুলে যায়। সেখানে মনির ইরফানকে স্কুলে ক্লাস করতে দেখতে পায়।

এই খবর ভাইকে দেয়ার জন্য মোবাইল করলে সেই মোবাইলটি ভিজি পাওয়ায় তার সাথে থাকা রফিককে এই বিষয়ে সবটা তাদেরকে জানায়।

মনিরের ফোন পাওয়ায় পর আসলাম আর টাকা না পাঠিয়ে ছেলের স্কুলে ছুটে যান। এই সময় অপহরণকারীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে মোবাইলের ফোন রিং কেটে দেন। মোবাইলে অপহরণকারীরা আসলামকে প্রায় ৪০ মিনিট ভিজি রাখেন বলে আসলাম এই প্রতিবেদক জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here