গুচ্ছ গ্রামে সংগ্রামী শিক্ষানুরাগী নারী নেত্রী জেসমিন আক্তারের একটি স্বপ্নের বিদ্যালয়

নাজির হোসেন ও তুষার আহমেদ, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

গুচ্ছ গ্রামের জেসমিনগুচ্ছ গ্রামে সংগ্রামী শিক্ষানুরাগী নারী নেত্রী হচ্ছেন জেসমিন আক্তার। তার পিতা হচ্ছেন মৃত কালাই কাজী। তার স্বামীর নাম হচ্ছে ইউনুস আলী।
গুচ্ছ গ্রামের পাশে পূর্ব শিলমান্দি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন জেসমিন। তার ক্ষুদ্র জীবন দিয়ে সে অনুভব করেন, তার গ্রামের মানুষ শিক্ষার আলো থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। তার গ্রামের মানুষদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার এই প্রকল্পে যোগদেন।

২০০৯ সালে স্বপ্নের বেড়াজালে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার তত্বাবধানে গুচ্ছ গ্রামের পাশে শিশুদের জন্য গড়ে তুলেন একটি বিদ্যালয়। ংঃরভঃ ঢ়ঢ়-২ তাদের সি.ডি.সি এর প্রকল্পের আওয়াতায় এর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। সেই সময় মাত্র ৩৪ জন শিশু শিক্ষার্থী নিয়ে তার প্রথম বর্ষের পথ চলা শুরু হয়। সে শিশুদের হাতেখড়ি হিসেবে তিনি শিক্ষার কাজ করে থাকেন। এর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে মাত্র ৫০০ টাকার সম্মানি দিয়ে থাকেন। তবে পরে এর সাথে আরো ২৫০ টাকা বেড়ে এখন সে সম্মানি পাচ্ছেন মাত্র ৭৫০ টাকা।

এই প্রকল্পটি ২০১৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেসমিনের স্বপ্নের শিক্ষায় ছেদ পড়ে। এই বিপদে গ্রামে এই শিশু শিক্ষা ধরে রাখতে সে অনেকের কাছেই ছুটে যান। সেই সময় তাকে কেউ সাহায্যে করে আবার অনেকে সাহায্যে করেও না। কিন্তু এতো বিপদের মধ্যে থেকেও জেসমিন গ্রামের শিশু শিক্ষা কোন ভাবেই বন্ধ করেননি।

এরপর মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হয়ে আসেন হাজি ফয়সাল বিপ্লব। জেসমিন এই বিষযে তার কাছেও ছুটে যান। সেখান থেকে জেসমিন আশার আলো দেখতে পান। সেই আশার আলো আজ তার সেই স্বপ্নে শিশু বিদ্যালয় বাস্তবে রূপ নেয়ার পাইপ লাইনে রয়েছে।
প্রথম দিকে সে তার বাড়ির পাশের মসজিদের বারান্দায় শিশুদের শিক্ষার আলো দিতেন।
পরে তার পাশের বাড়িতে বিয়ে হয়ে গেলে সে শশুড় বাড়িতে এই শিশুদের নিয়ে পড়ালেখা করাচ্ছেন।
খোলা উঠানে পড়ানোর কারণে রোদ বৃষ্টির জন্য অনেকটাই সমস্যা দেখা দেয় বলে জেসমিন দাবি করেন। বর্তমানে তার এখানে চলতি শিক্ষা বর্ষে ৩৪ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে।

জেসমিন জানান, এখানে শিশু শিক্ষা বিকশিত করার জন্য মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজি ফয়সাল বিপ্লব মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ফান্ড থেকে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে আরো ১ লাখ টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।

তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান মেয়র হাজি ফয়সাল বিপ্লব ও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার কারণেই তার গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন যে, জেলা প্রশাসক মহোদয় তার গ্রামে খাস জমি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন। সেটা পাওয়া গেলে সেখানেই এই বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে।

তবে এই গ্রামের বাইরে চকে যদি খাস জমি পাওয়া যায়, সেখানে বিদ্যালয় গড়ে তোললে এখানকার শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যেতে নাও পারে বলে সে আশংকা করছে। গুচ্ছ গ্রামের আশ পাশে এই বিদ্যালয় গড়ে তুললে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here