সিরাজদিখানে সাংবাদিককে জীবন নাশের হুমকি থানায় অভিযোগ

শনিবার, ১১ আগস্ট ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

সিরাজদিখানে সাংবাদিককে মারধর ও জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে এক স্কুল শিক্ষক। বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে এ হুমকী দেন শিক্ষক। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টা ৪৮ মিনিটের সময় শিক্ষক নিজ মোবাইল ফোন দিয়ে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন করে এই হুমকি দেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিক বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, একটি অনলাইন পোর্টালে ১১ জুলাই উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের শাসনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা রহমান ট্রেনিং এ থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন সহকারি শিক্ষক পলাশ পাল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম শুরু হয়। পলাশ পাল জৈনসার ইউনিয়নের খিলগাঁও গ্রামের অর্জুন পালের ছেলে।

একই ইউনিয়নের ভাটিম ভোগ গ্রামের জাহাঙ্গীর ঢালী ছেলে মোহাম্মদ শুভ ঢালী একটি দৈনিক পত্রিকার সিরাজদিখান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

মোহম্মদ শুভ ঢালী জানান, আমি ঐ নিউজটির ব্যাপরে জানি না। আমি আমার পত্রিকার নিউজ করি নাই। গতকাল শনিবার সকালে শাসনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলাশ পাল আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে আমাকে বলে তুই আমার স্কুলে কার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছিলি। তুই আমার ও সহকারি শিক্ষকদের নামে পত্রিকায় রিপোর্ট করছস। তুই আমারে চিনছ। আমি জৈনসার ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম ৭ বছর, রাজনীতি করে ৭ টা মামলা খাইছি। এখন মাস্টারী করি। তুই আমার সামনে পরিস না। তোরে পাইলে মাইরা হাত-পা ভাইঙ্গা ফালামু।

এরপর আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিষয়টি অবগত করি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় গিয়ে অভিযোগ করি।

এ ব্যাপারে শিক্ষক পলাশ পাল জানান, আরো সাংবাদিক নিয়ে এসে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করায়। নিউজ প্রকাশ করায় আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমি তাকে এলাকার ছেলে হিসেবে ক্ষোভে এ কথা বলেছি। আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছে সাথে কথা বলেছি। আপনারা তার সাথে কথা বলেন। আমি এ বিষয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাকির হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ নিয়ে আমি তাদের দুজনের সাথে কথা বলব। দুজনই এলাকার ছেলে। পরে আপনাদের বিস্তারিত জানাচ্ছি।
সিরাজদিখান থানার ডিউটি অফিসার এএসআই নুরনবী জানান, অভিযোগ জমা নিয়েছি। ওসি সাহেব বাইরে থাকায় দেরী হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই, আপনাদের নিকট থেকে যা শুনলাম যদি এমনটা হয়, তদন্তে প্রমান পেলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here