প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ দেখলেন

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

sheikh_hasina20180420041730

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ দেখলেন। গতকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে হেলিকপ্টার থেকে তিনি পদ্মা সেতুর কাজ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ছবিতে দেখা যায় জানালার পাশে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাম পাশে হেলিকপ্টারের দুটি জানালা। তার একটি প্রধানমন্ত্রীর পাশে। জানালা দিয়ে পদ্মা সেতুর কার্যক্রম দেখে প্রধানমন্ত্রীর মুখে তৃপ্তির উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বাম গালে হাত দেয়া। সেই হাতে ঘড়ি, ডান হাতে ৩টি চুড়ি। টেবিলের উপর টিসু, খবরের কাজ। ডান হাত দিয়ে চেয়ারের হাতল ধরে আছেন তিনি। এক মনে চেয়ে আছেন পদ্মা সেতুর কাজের দিকে। জানালা দিয়ে পদ্মা সেতুর কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে।

দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় বিশ্ব ব্যাংক। পদ্মা সেতুর কার্যক্রমে কোন ধরনের দুর্নীতি হয়নি বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন ‘বিশ্বব্যাংকের প্রয়োজন নেই, আমরা নিজেদের অর্থ দিয়েই পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো।’ পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোন ধরনের দুর্নীতি হয়নি। সেই থেকে নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ শুরু হয়। সেই সেতুর কাজ এখন শেষের দিকে। পদ্মা সেতুর কাজ দেখছেন আর হয়তো পিছনের দিনগুলোর কথা মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু:বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০টি স্পান, ৬,১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচে বড় সেতু।[সরকারের পরিকল্পনামাফিক ২০১৮ সালের শেষের দিকে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/ উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/ দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।

যা আছে পদ্মাসেতুতে?
১. পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প’।
২. পদ্মা সেতুর ধরণ দ্বিতলবিশিষ্ট। এই সেতু কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।
৩. পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় (মূল সেতুতে) ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
৪. ২০১৭-১৮ অর্থবছর পদ্মাসেতু প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ৫২৪ কোটি টাকা।
৫. পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয় ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
৬. পদ্মা সেতু প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড।
৭. পদ্মা সেতুতে থাকবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা।
৮. পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হবে নিচ তলায়।
৯. পদ্মা সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক।
১০. পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
১১. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটর।
১২. পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।
১৩. পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।
১৪. পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করছে প্রায় চার হাজার মানুষ।
১৫. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার ৮১টি।
১৬. পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট।
১৭. পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা ৩৮৩ ফুট।
১৮. পদ্মা সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।
১৮. প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং হবে ৬টি।
১৯. পদ্মা সেতুর মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি।
২১. পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

বিডিমরনিং
ছবি: ফোকাস বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here