তকবির হত্যাকারীদের ফাঁসীর দাবীতে সিরাজদিখানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মঙ্গলবার,২১ আগস্ট ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Bikhob 2সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচরে তকবির হত্যাকারীদের ফাঁসীর দাবীতে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবসী। বেলা ১১টার সময় বালুরচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি গ্রামে জানাযা শেষে স্থানীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

২টি ব্যানার ও বিভিন্ন প্লেকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধনে অংশ নেয় শত শত পুরুষ। বিক্ষোভ ও মানব বন্ধনকারীদের একটাই দাবী হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি দিতে হবে। মানব বন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে বাজার পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এতে সিরাজদিখান বালুরচর রোডটির যান বাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে বালূরচর এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নাজিমুদ্দিন পাগলার মাজারে মেয়ে নিয়ে নাচানাচি ও অশ্লীল গান বাজনা হয়। এই গানবাজনার প্রতিবাদ করার বিষয়টিও এই সংঘর্ষের অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
ফুফু অছিরণ নেছা বলেন, আমার ভাইয়ের ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি দিতে হবে।

যারা যারা এই হামলায় অংশ গ্রহণ করেছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। ছোট ভাই শরিফ, নিহতের মা সরলা বেগম, চাচা কাদির মোল্লা, চাচা জাকির মোল্লা, নিহতের চাচাত ভাই দিদার তাদেরও একই বক্তব্য। নাসির মেম্বারকে বাঁচাতে গিয়ে তকবিরকে ওরা হত্যা করেছে। কাছ থেকে টেটাবিদ্ধ করেছে।

Human Chain 3বাড়িতে এসে ওরা উল্লাস করে বলেছে যে তকবিরকে মেরে ফেলেছি। ও আর বাঁচতে পারবে না। নিহত তকবির দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় দুই বোনের ছোট।

স্থানীয়দের অভিযোগ সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিনসহ ২০-২৫জন পুলিশের উপস্থিতিতে নুরু বাউলের সন্ত্রাসীরা টেটা জুত্তা নিয়ে হামলা চালিয়ে ১৮-২০টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। ঘটনার দিনও পুলিশের পিছনে পিছনে নুরু বাউলের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নাসির মেম্বারের উপর হামলা করে। হামলার প্রতিরোধ করতে গেলেই তকবির মোল্লা টেটাবিদ্ধ হয় এবং ১০দিন পর মারা যায়।

বালুরচর বাজারে বিভিন্ন লোকদের সাথে আলাপকালে তারা ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, সংঘর্ষের কয়েকদিন পূর্বে খোকন সরকারকে বাড়ীতে ডেকে নুরু বাউল ও সুরুজ্জামান সরকারের দলে যোগদান করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। খোকন সরকার তাদের কথা না শোনায় বাড়ীতেই মারধর করে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় খোকন সরকার একটি অভিযোগ দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ আসামীদের না ধরায় খোকন সরকারের লোকজন পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হলে পুলিশ আসামী ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বাদী পক্ষকে বলে। পরে বাদী পক্ষের লোকজন দরবেশ আলী আসামীদের বাড়ীতে গিয়ে আসামী ধরে পুলিশকে খবর দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নুরু বাউল বালুরচর বাজারে তাদেরকে ধাওয়া করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাসির মেম্বার ঝগড়া থামাতে গেলে নুরু বাউলের লোকজন টেটা জুত্তা নিয়ে হামলা করে।

পুরো বাজারের ছাদ ও এলাকা নুরু বাউলের লোকজন দখলে নিয়ে যায়। নুরু বাউলের বড় ছেলে মিঠু বাউল নাসির মেম্বারকে টেটা মারতে গেলে তকবির এগিয়ে আসে আর তার শরীরে টেটা বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা আরো জানায়, কসাই আমিরের বাড়ীতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র মজুদ করে রাখে নুরু বাউলের লোকজন।

Human Chain 1৮তারিখের হামলার পর ৯আগস্ট সকাল ৬টার সময় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহরা দিয়ে যায়। এতে ভয়ে এলাকা পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বেলা ১০টা থেকে ১২পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতি তান্ডব চালায় নুরু বাউলের সন্ত্রাসীরা।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নে গত ৮ আগস্ট বুধবার রাতে আদিপত্য বিারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত তকবির মোল্লা (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রবিবার মারা যান তিনি। সে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি বালুরচর গ্রামের আলী আহাম্মদ মোল্লার পুত্র। তকবির মোল্লার মৃত্যুতে ফের সংঘর্ষ ও বাড়ীঘর ভাংচুরের আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা।

এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনাও বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, ৯ দিন আগে টেটা বিদ্ধ হয়ে তকবির মোল্লা ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রবিবার দুপুরে সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়। লাশ এখনো এলাকায় আসেনি।
জানা যায়, গত ৮ আগষ্ট বুধবার রাতে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নুরু বাউল গ্রুপ ও নাছির মেম্বার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। টানা দুই ঘন্টা চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। এর মধ্যে টেটা বিদ্ধ হয়ে গুররুর আহত হয় তকবির মোল্লা (২৮)।

প্রথম ধাপের পুলিশের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষ হয়। থানা পুলিশ নিয়ন্ত্রন করতে ব্যার্থ হয়। পরবর্তীতে সিরাজদিখান-টংগীবাড়ি সার্কেল আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে দু-গ্রুপের লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ী ভাংচুর করে।

পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় সিরাজদিখান থানা পুলিশ দু-পক্ষের ৫৮জন এজাহার নামীয় আসামীসহ ২০০জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করে। পরে দু-গ্রুপের ১৫জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাছির মেম্বার গ্রুপের

মোঃ আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে নুরু বাউল গ্রুপের বিরুদ্ধে ১০৪ জন এজাহার নামীয় আসামী ও ২০/৩০ অজ্ঞাতনামা আসামী করে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করে।

পরে পুলিশের সহয়তায় নুরু বাউল গ্রুপের মোঃ একরাম বাদী হয়ে নাছির মেম্বার গ্রুপের বিরুদ্ধে ৬০ জন এজাহার নামীয়সহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে পালটাপাল্টি মামলা দায়ের করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here