দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের দাবি পায়েল হত্যা

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

অসুস্থ শরীর নিয়েই চট্টগ্রাম থেকে মুন্সিগঞ্জে মামলার অগ্রগতি জানতে এসেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম বর্ষের নিহত শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলের (২১) মা কোহিনূর বেগম। সঙ্গে ছিলেন পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা ও মামা গোলাম সরোওয়ার্দী।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পায়েলের পরিবারের সদস্যরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) মো. মামুন আল রশীদ, মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার সঙ্গে দেখা করেছেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করার সময় পায়েলের মা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, পায়েল আমার অনেক কষ্টের আর আদরের সন্তান ছিলো। ছেলে হারনোর কষ্টটা আমি বলে বুঝাতে পারবো না। তবে আমি চাই, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। স্বজন হারানোর ব্যথা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন, আমি শুধু তার কাছে একটুই বলতে চাই।

পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা বলেন, আমার দুর্ভাগ্য ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দেশে ফিরলেও তার মুখ আর দেহ দেখতে পারিনি এবং কাউকে দেখতেও দেইনি। আমার ছেলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছিল, তাকে এভাবে মেরে ফেলা হলো।

তিনি আরো বলেন, পায়েলের মা খুব অসুস্থ ছেলের এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। অসুস্থ অবস্থায় পায়লের মা এখানে এসেছে। পায়েলকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে সাম্প্রতিক কালের মধ্যে তা আর হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি যাতে হস্তান্তর করা হয় এবং আমরা যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কষ্টটুকু বলতে পারি এটাই আবেদন।

মামলার বাদী ও পায়েলের মামা গোলাম সরোওয়ার্দী জানান, পায়েলকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ১৪৫টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পায়েলের বাবা ও মা’র সঙ্গে বাসায় সাক্ষাতকালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি হস্তান্তরের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে হত্যার ১ মাস ১৬ দিন হলেও মামলার চার্জশিট হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার ও দুইজন ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়ে মামলাটির ভালো অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কারণে দেরি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here