পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা দিয়ে চলাচলকারী মানুষের চোখ এখন জুড়িয়ে যায়

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: রোববার, ৭ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Untitled-19-5bb7c2641f2ddপদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বহুমুখী কর্মযজ্ঞ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেতুতে বসছে রেলসংযোগ, প্রমত্ত পদ্মার মাঝে বসেছে বেশ কয়েকটি পিলার। আর বহু পিলারের মূল কাঠামো ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা দিয়ে চলাচলকারী মানুষের চোখ এখন জুড়িয়ে যায়।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন এবং সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পসহ কয়েকটি কাজের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৩ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জ আসছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। খুশির জোয়ার বইছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে সফল করে তুলতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শেখ হাসিনার আগমনকে সফল করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রঙিন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও তোরণ নির্মাণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা, ৩টি নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরছেন তৃণমূল মানুষের কাছে।

মাওয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে ১৩০০ মিটার নদীতীর রক্ষা কাজের উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করবেন। ইতিমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজের ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকায় দেশীয় অর্থায়নে নির্মিতব্য পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের ৫৯ ভাগ এবং মূল সেতুর ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০০১ সালের ১২ জুলাই মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ এলাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে ৯ বছর কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর ফের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণ চুক্তি বাতিল করে। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ২০১৩ সালের ৪ মে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য সূত্র: সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here