মুন্সিগঞ্জে ক্রমশ টিবি রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

মোহাম্মদ সেলিম, গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল ও নাজির হোসেন: সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

44197111_319900678801832_4012606907486306304_n

মুন্সিগঞ্জে ক্রমশ টিবি রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ৮ মাসের পরিসংখ্যানের চিত্রে এই রোগে আক্রান্ত রোগিদের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। ছোঁয়াছে এ রোগে আক্রান্ত রোগি প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লে ভালো হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের পর ওষুধ সেবন থেকে ড্রপ পড়লে রোগি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। ছোঁয়াচে রোগের কারণে একই পরিবারের মধ্যে অন্য সদস্যরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগ সংক্রান্ত সচেতনার অভাবে মুন্সিগঞ্জে এই রোগে আক্রান্ত রোগিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এই দিকে মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো: ইউসুফ আলী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ১ হাজার ৬শ’ ১০ জন রোগি। তারমধ্যে ১৬৫ জন রোগি টিবিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে এই মাসে সবচেয়ে বেশি টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসা নিয়েছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়। এখানে এই মাসে ৪০ জন রোগি চিকিৎসা নিয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম রোগির সংখ্যা হচ্ছে ১৯ জন গজারিয়া উপজেলায়।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় ফেব্রুয়ারি মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৬শ’ ২৪ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তার মধ্যে টিবি রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৭১ জন রোগি। এই মাসে শ্রীনগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগি পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ হচ্ছে ৩৭ জন। আর সবচেয়ে কম রোগি পাওয়া গেছে গজারিয়া উপজেলায়। এখানে রোগির পরিমাণ হচ্ছে ২২ জন।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় মার্চ মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৫শ’ ২৭ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৭৯ জন।
এর মধ্যে এই মাসে সবচেয়ে বেশি টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসা নিয়েছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়। এখানে এই মাসে ৪১ জন রোগি চিকিৎসা নিয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম রোগির সংখ্যা হচ্ছে ২৩ জন গজারিয়া উপজেলায়।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় এপ্রিল মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৬শ’ ৮৫ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৫৩ জন। এই মাসেও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় রোগির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই মাসে আক্রান্তের পরিমাণ হচ্ছে ২৯ জন। আর সবচেয়ে কম হচ্ছে গজারিয়া উপজেলায়। এখানে আক্রান্তের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১৯ জন রোগি।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় মে মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৭শ’ ১৭ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৮০ জন। এই মাসেও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা সবচেয়ে রোগি আক্রান্তদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। এখানে এই মাসে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ জন রোগি। আর সবচেয়ে কম এই রোগে আক্রান্ত উপজেলা হচ্ছে গজারিয়া উপজেলা। এখানে এই মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ২০ জন রোগি।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় জুন মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৪শ’ ২৪ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৭১ জন। এই মাসেও ছয়টি উপজেলার চেয়ে বেশি রোগি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়। এখানে ৪৩ জন রোগি চিকিৎসা নিয়েছে। তবে এবারো ৬টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে এই রোগে আক্রান্ত কম রোগি চিকিৎসা নিয়েছে গজারিয়া উপজেলায়। এখানে টিবিতে আক্রান্ত ১৭ জন রোগি চিকিৎসা নিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলায় জুলাই মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৪শ’ ২৮ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৬৫ জন। তারমধ্যে ৬টি উপজেলার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় এই রোগে আক্রান্ত ৪৩ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। আর কমের সূচকের মধ্যে গজারিয়া উপজেলা বরাবরের মতো এই রোগে আক্রান্ত রোগিদের কম নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন। এই মাসে গজারিয়া উপজেলায় এই রোগে আক্রান্ত ১৭ জন রোগি চিকিৎসা নিয়েছে।

আগস্ট মাসে টিবি রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ১ হাজার ৩শ’ ৪৭ জন রোগি চিকিৎসা নেয়। তাতে এখানে এই মাসে টিবিতে আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় ১৬৩ জন। বরাবরের মতোই মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগি এই রোগে আক্রান্ত চিকিৎসা নিয়েছে। আর সবচেয়ে কম রোগি নিয়ে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে গজারিয়া উপজেলা। এই মাসে গজারিয়া উপজেলায় চিকিৎসা নিয়েছে ১৯ জন রোগি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here