তিনদিনের মাথায় নিখোাঁজ মো: খোরশেদ বেপারীর লাশ ধলেশ্বরী থেকে উদ্ধার

নাজির হোসেন ও তুষার আহমেদ, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

তিনদিনের মাথায় নিখোাঁজ মো খোরশেদ বেপারীর লাশ ধলেশ্বরী থেকে উদ্ধারবৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর খালের প্রবেশ মুখ থেকে নিখোঁজ মো: খোরশেদ বেপারী (৬৫) এর লাশ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় তার লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ভেসে উঠে। মো: খোরশেদ বেপারী নারায়নগঞ্জের দজির দোকানে কাজ করতো। প্রতিদিন সকাল পৌনে ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে চড়ে সে নারায়নগঞ্জ যেতো।

আর রাতে সে আবারো লঞ্চে করে মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে ফিরে আসতো। ঘটনার দিন অথ্যাৎ গত মঙ্গলবার সে প্রতিদিনের মতো নারায়নগঞ্জ থেকে এম.ভি হিরাশিকো-১ লঞ্চে চড়ে মুন্সিগঞ্জের উত্তর ইসলামপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন। আনুমানিক রাত ৮টা ৫০ মিনিটের সময় শীতলক্ষা-ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় লঞ্চটি একটি বালু বোঝাই বাল্বহেড এর সাথে ধাক্কা খায়।

আর এ সময়ই মো: খোরশেদ বেপারী সেই লঞ্চ থেকে নদীর পানিতে পড়ে যান। তাঁকে উদ্ধারের জন্য মো: খোরশেদ বেপারী পানি থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও লঞ্চটি চালক না থামিয়ে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে ফিরে আসে। এরপর থেকেই গত দু’দিনেও মো: খোরশেদ বেপারীকে আর কোথাও পাওয়া যায়নি।

তিন দিনের দিন তাঁর লাশ পানিতে ভেসে উঠে। তিনি মৃত্যুকালে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখেগেছেন। তার ছেলে রমজান গ্রামীন ফোন সেন্টারে চাকুরি করেন।

এই ঘটনার পর থেকে এই নদী পথে হিরোশিকা-১ লঞ্চটি আর চলতে দেখা যাচ্ছে না। অনেকের ধারণা ঘটনার পরপরই মামলা এড়াতে এ লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়নগঞ্জ চলে গেছে।

এই লঞ্চের মালিক হচ্ছেন নারায়নগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির চেয়ারম্যান বাদল সাহেব। তিনি খুবই প্রভাবশালী বলে শোনা যাচ্ছে। ঘটনার দিন তাঁর লঞ্চে প্রকৃত ড্রাইভার দিয়ে লঞ্চ চালানো হয়নি বলে শোনা যাচ্ছে। এ লঞ্চে প্রকৃত চালক সেইদিন লঞ্চটি চালাননি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আর লঞ্চে সেইদিন বয়াবাতি না থাকার কারণে নদীতে চলাচলকারী বাল্বহেডটি চালক দূর থেকে সনাক্ত করতে পারেনি। যার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের ইজারাদার দীল মোহাম্মদ জানান, ঘটনার পরের দিন সকালে তিনি ঘাটে এসে হিরাশিকো লঞ্চটি দেখতে পাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here