চরকেওয়ার উত্তর গুহের কান্দির এলাকাবাসীদের উদ্যোগে সেতু নির্মিত

মোহাম্মদ সেলিম ও নাজির হোসেন ও তুষার আহমেদ: বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

44593359_2179339548976728_2326726106574487552_n

অবশেষে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গুহের কান্দি গ্রামে এলাকাবাসীদের উদ্যোগে একটি বেলি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর ফলে এ এলাকার দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী খুব সহজেই সেতু পারাপার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে যেতে পারছে।

এছাড়াও এ সুবিধা ভোগ করছে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ। অনেকের কাছে ধর্রণা দিয়ে আশানুরূপ সাহয্যে না পেয়ে এলাকার সব মানুষের সাহয্যে অবশেষে এখানে এ সেতুটি নির্মিত হলো।

44769059_319496282116220_3845737721410617344_n (1)জানা যায়, এই গ্রামের একটি ছোট্ট নদী রজতরেখা এই গ্রামটিকে নদীটি বিভক্ত করে রেখেছে। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সীমন্ত এলাকার কাটাখালী থেকে মুন্সিরহাট হয়ে এই ছোট্ট নদীটি প্রাচীনকাল থেকেই এখানে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর উত্তর পাড়ের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সীমান্তে একটি বড় আকারের হিমাগার রয়েছে। এই হিমাগারের কুল ঘেষে প্রথম দিকে একটি মাটির রাস্তা মুন্সিরহাটের দিকে যায়। পরে সময়ের চাহিদায় সেই রাস্তা পিচ ঢালাইয়ে পরিণত হয়।
এখন সময়ের ব্যাপক চাহিদায় সেই রাস্তাটি ওয়ান ওয়ে হচ্ছে।

গুহেরকান্দির পশ্চিম দিকের বসতিরা প্রথমদিকে একটু সহজেই এই পথে চলাচলের জন্য হিমাগারের দক্ষিণদিক দিয়ে চলাচলের জন্য একটি কাঠের সেতু ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি করে। এই সেতু দিয়ে এখানকার গ্রামবাসী খুব সহজেই শহরের স্কুল-কলেজ ও চিকিৎসার জন্য যেতে পারে। এই সেতুটি না থাকলে তাদেরকে প্রায় তিন কিলো মিটার পূর্বের পায়ে হেটে মুন্সিরহাটে যেতে হতো। আবার সেখান থেকে প্রায় তিন কিলো মিটার রাস্তায় রিক্সায় বা ইজিবাইকে করে যেতে হয় প্রধান শহরে।

গত চার বছর আগে এই সেতুটির জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ভ্যাটবাদে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে এই কাঠের সেতুটি এখানে পুনরায় আবার নির্মিত হয়। এরপর বৃষ্টি ও রোদে এই সেতুটি ব্যবহারের অনুপোযুগি হয়ে উঠে। এই সেতুটি দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় তখন তারা এই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়।

অনেক বৃদ্ধলোক এই সেতুর পাড়ে এসে পারাপারের জন্য অন্য মানুষের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকেন। সেতুর বেহাল দশার কারণে অনেকই ভারি মালামাল নিয়ে বাড়িতে যেতে পারেন না। তাদেরকে ঘুর পথে সেই মালামাল নিয়ে তবেই বাড়িতে ফিরতে হয়।
চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ জমাদ্দার জানান, এখানে একটি পাকা সেতুর জন্য আমরা মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসকে নিমন্ত্রন করে নিয়ে এসে ছিলাম। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এখানে একটি পাকা সেতু করে দিবেন। কিন্তু এখনো সেটা হয়ে উঠেনি। তাই এখানে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রায় দশ হাজার মানুষের বসতী মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের ছোট্ট এই গ্রাম উত্তর গুহের কান্দিতে। লোকশ্রুতি আছে কোন এক সময় (গুহ সম্প্রদায় ) এর বসতি ছিলো তাইতো নামটি (গুহ+য়ের) = গুহের কান্দি নামকরণ করা হয়। এখানে যত সমস্যার মুলে হচ্ছে একটা ছোট্ট নদী। নাম তার রজত রেখা ( কাটাখালী নদী)। সত্যিই নামের মতই সুন্দর। সুন্দর এই নদীটাই যেনো গ্রামবাসীর কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

aahar-bilas

১৭ বছর যাবৎ গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও সহযোগীতায় বাঁশ ও কাঠের সেতু নির্মাণ, পুননির্মাণ করতে করতে সত্যিই বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আর সেই ক্লান্তির অবসান ঘটালেন জোটবদ্ধ গ্রামবাসি। জোটবদ্ধ গ্রামবাসি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা চাঁদা উঠিয়ে সেখানে একটি বেলি সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার ব্যবসায়ি হারুন অর রশিদ এই সেতু নির্মাণে একাই আড়াই লাখ টাকা দান করেন। এর ফলে গ্রামবাসি দ্রুত এই সেতুটি পুন:নির্মাণে হাত বাড়িয়ে দেয়।

এই সেতুটি নির্মাণে যারা দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন, মো: আবুল হোসেন জমাদ্দার, মো: আলী হোসেন মোল্লা, সাইদুর রহমান ফকির, নজরুল ইসলাম (নজু মোল্লা), মনসুর জমাদ্দার, দেলোয়ার হোসেন মাদবর, লিটন ফকির, সিরাজ জমদ্দার, ইয়াসিন মোল্লা, মজিবুর মোল্লা, সোহরাব ভুইয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসি ইসতিয়াক মাহমুদ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here