মুন্সিগঞ্জে সরকারি রাস্তা দখল করে জনবসতি এলাকায় রমরমা বালু ব্যবসা! খুঁটির জোর কোথায়?

মো.জাফর মিয়া, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

মুন্সিগঞ্জ জেলার উপকন্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিরপাথর ও ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় সরকারি রাস্তার উপর দীর্ঘ বছর ধরে রমরমা বালু ব্যবসা করে আসছে প্রভাবশালী অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।

এতে চলমান রাস্তা ঘাট ও পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হলেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তারপুর এলাকার মামুন, মালির পাথর ও ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার ওমর ফারুক, নজরুল দেওয়ান, রহিম, আরমান, ইকবাল, সবুর খানসহ প্রায় ২০ টি অবৈধ বালু বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বালু ব্যবসায়ীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, দীর্ঘবছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় রমরমা ব্যবসা করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে এসব অবৈধ বালু ব্যবসা।

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

এসব বালু ব্যবসায়ীদের কারণে মুন্সিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধটির মালির পাথর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থানে রয়েছে। বাঁধটির উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্নভাবে ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে।
তাছড়া ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধের উপর দিয়ে নদী থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

রাস্তার পাশে এ ধরণের বালু বিক্রির একাধিক গদি হওয়ায় বাতাস আসলেই বালু উড়ে পথযাত্রীদের নাকে মুখে ঢুকছে। রাস্তার উপর তিন স্থরের বালু জমে আছে গাড়ী চলার সময় বালু বাতাসে উড়ে গাড়ীর যাত্রী ও পথচারীদের গায়ে এসে পড়ে কাপড় চোপড় নোংরা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

পথচারী হৃদয় সূত্রধর, উজ্জল শেখ, পুলক সাহা, রহিম মিয়া, মামুন দেওয়ানসহ আরো অনেকে বলেন, দুপুর হলে এলাকাটি দিয়ে রিক্সায় চড়ে যাওয়া কিংবা পায়ে হেঁটে পথচলাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া রাস্তার উপর দিয়ে শত শত মালবাহী ট্রাক সহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। একটি গাড়ী যাওয়ার সাথে সাথে প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত বালু বাতাসে উড়ে।

মালিরপাথর এলাকার বেশ কয়েকজন, গৃহবধু বলেন, রাস্তার দুলাবালি বাতাসে উড়ে বাসা বাড়িতে যাচ্ছে। বাড়ি ঘর নোংরা হচ্ছে। ঘরের বাহিরে কোন কাপড় চোপড় শুকাতে দিতে পারছিনা। বালুর কারণে আমরা ভাল করে নিঃশ্বাস নিতেও পারছিনা। ছেলে মেয়েদের শ্বাস প্রশ্বাসের নানা সমস্যা হয়। বাচ্চাদের ঠান্ডা ও এলার্জি জনিত রোগ বালাই লেগেই থাকে। তাই এসব বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

বালু ব্যবসায়ী আরমান শেখ বলেন, এটা গ্রামের রাস্তা আমরা এখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে? কিন্তু বিস্তারিত জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। জানি এটা পরিবেশের ক্ষতি কিন্তু সকলেইতো করতেছে তাদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন। পরে একাধিক বালুরগদিতে গিয়ে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মচারীদের পাওয়া গেলেও তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান রাস্তার পাশে, জনবসতি লোকালয়ে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি কারক এমন বালুর স্তুপ পরিবেশ আইনে কখনোই সমর্থন করে না, তিনি আরো বলেন, বালু ব্যবসার বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই কারণ এটার কোন লাইসেন্স আমরা দেইনি। বালু বিষয়ে আমরা দেখিনা শুধু কলকারখানার দূষনের বিষয়টি আমাদের আওতাভুক্ত।

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, মানুষের বসবাস কৃত স্থানে সরকারি রাস্তা দখল অবৈধ বালুর ব্যবসা কখনোই গ্রহন যোগ্য নয়। তিনি আরো জানান,বিষয় টি সরজমিনে ক্ষতিয়ে দেখে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কথায় নয় প্রশাসন এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

aahar-bilas

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here