মুন্সিগঞ্জে কন্দাল ফসল গবেষনা উপ-কেন্দ্রটি ৪১ বছরে ৭৯টি আলু বীজ উদ্ভাবন

মোহাম্মদ সেলিম ও গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

মুন্সিগঞ্জে কন্দাল ফসল উপ কেন্দ্রটি ৪১ বছরে ৭৯টি আলু বীজ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৭৭ সাল থেকে এখানে প্রাথমিক ভাবে আলু বীজ জাত উদ্ভাবন নিয়ে গবেষনা শুরু হয় এ প্রতিষ্টানটি।

aahar-bilas

তাদের প্রতিষ্টান থেকে উদ্ভাবিত ডায়মন্ড জাতের আলু বীজ বারি ৭ বর্তমানে আলু চাষিরা জমিতে আবাদ করছে। এরপর আর কোন বীজ আলুই বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করণে বিএডিসি তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে শোনা যাচ্ছে। এ জাতের আলু বীজটি ১৯৭৯ সালে উদ্ভাবিত হয়।

আর তা এখন আলু চাষিরা জমিতে আলু আবাদ করে চলেছেন। এখানকার অনেক চাষিদের দাবি হচ্ছে আরো অনেক জাতের আলু বীজ যেন বিএডিসি বাণিজ্যিকভাবে বাজার জাত করেন। তাদের দাবি হচ্ছে নতুন আলু বীজ বারি ৬২টি জাতের আলু বীজটিকে যদি বিএডিসি বাণিজ্যিকভাবে বাজার জাত করে তবে মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সকল আলু চাষিদের উপকার হয়। এ উদ্ভাবিত আলু বীজটি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উপযোগি একটি অর্থকরী আলু বীজ।

তাই এখানকার আলু চাষিদের দাবি এ বীজটির দিকে। এর সাথে জড়িত সরকারের উর্ধ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে এ বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন এখানকার আলু চাষিরা।

মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা তাদের আলুর জমিতে বিএডিসির আলু বীজের আবাদের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আনা হল্যান্ডের আলু বীজও আবাদ করে থাকে। এর ফলে বিদেশ থেকে আমদানি বীজ আনার কারণে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই বিএডিসি’র উচিত নতুন জাতের বারি ৬২ আলু বীজটি পর্যাপ্ত আকারে বানিণজ্যিকভাবে নিয়ে আসা।

মুন্সিগঞ্জ থেকে উদ্ভাবিত যেসব আলু বীজ গবেষনা করে পরে এখানকার কৃষি জমিতে প্রদর্শনীর করে থাকেন আলু বীজের সাথে বৈজ্ঞানিকরা। তাতেই তারা এভাবেই উদ্ভাবিত আলু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে থাকেন।

মুন্সিগঞ্জের কন্দাল ফসল উপ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক রোজিনা আক্তার জানান, গত কয়েক বছর আগে এখান থেকে বারি ৬২ আলু বীজ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি ডায়মন্ড আলু বীজ। এ আলু বীজ থেকে উৎপাদিত আলু সাধারণ তাপমাত্রায় বাসাবাড়িতে ৬ মাস ঐ আলু সংরক্ষণ করতে পারবে সাধারণ মানুষজন।

তাতে এ পদ্ধতিতে রাখা আলুর কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি দাবি করেন। আবার এ আলু বীজ থেকে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫৬ টন আলু উৎপাদিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যা তাদের কাছে পরীক্ষিত। এ নতুন জাতের আলু বীজটি প্রদর্শনী হয়েছে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে।

মুন্সিগঞ্জের কন্দাল ফসল উপ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক মোস্তাবেক হোসেন মুন্সি জানান, আলোচিত এ উদ্ভাবিত আলু বীজটি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে মুন্সিগঞ্জ থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। এটি যদি বিএডিসি বাণিজিক ভাবে বাজার জাতের ব্যবস্থা করে তবে মুন্সিগঞ্জসহ সারা দেশের আলু চাষিরা এ আলু বীজ থেকে ফলন উৎপাদন করতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। সবদিক দিয়ে উদ্ভাবিত এ আলু বীজটি এখন সেরা আলু বীজ হিসেবে বিবোচিত হচ্ছে। এ আলু বীজটি ডায়মন্ড জাতের আলু। স্বাদও ডায়মন্ড জাতের আলুর মতোই।

মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা ডায়মন্ড ও এস্টেরিক্স জাতের আলু বীজ বেশি আবাদ করে থাকেন। দেশের প্রকার ভেদে অঞ্চলভেদে জমির প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আলু আবাদ হয়ে থাকে। দেশের অনেক স্থানে লবনাক্ত জমিতে ভিন্ন জাতের আলু উৎপাদিত হয়ে থাকে।

এছাড়া উত্তরবঙ্গের চাষিরার লাল আলু আবাদে বেশি উৎসাহিত হয়ে থাকে। এ জাতের আলু সাধারণত মুন্সিগঞ্জের চাষিরা আবাদে তেমন কোন ভাবেই আগ্রহী না। মুন্সিগঞ্জের চাষিরা ডিমের আকারে গোল ডায়মন্ড আলু লাগাতে বেশি আগ্রহী।
মুন্সিগঞ্জ কন্দাল ফসল উপ কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ আলু বীজ হচ্ছে, ডায়মন্ড বারি আলু ৭, গ্রানুলা বারি আলু ১৩, এষ্টেরিক্স্র বারি আলু ২৫, লেডিওসেটা বারি আলু ২৮।

মুন্সিগঞ্জ কন্দাল ফসল উপ কেন্দ্র অফিসটি এখানে চারটি জাতের বীজ উদ্ভাবন নিয়ে মুলত কাজ করে থাকেন। এ জাত গুলো হচ্ছে গোল আলু, মিষ্টি আলু, কচু, ইয়াম ও কসাভা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here