আনন্দ নিকেতনে রূপ নিয়েছে মাওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্র

মো. জাফর মিয়া, মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

PHOTO MUNSHIGANJ 06.11 (2)

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে চারটি পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় প্লট বরাদ্দ পেয়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে বসবাস করছেন স্থানীয়রা।

সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত পদ্মাপাড়ের পূনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে মানুষ গুলো জীবনযাপন করছে গ্রাম্য পরিবেশে শহুরে আবহ নিয়ে। সম্প্রতি পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন কুমারভোগ পদ্মা বহুমুখী পূনর্বাসন প্রকল্প ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। দৃষ্টিনন্দন পূনর্বাসন কেন্দ্রটি যেন পদ্মাপাড়ের সবুজ বেষ্টনী ঘেরা আবাসিক এলাকার মতো।

চোখ জুড়ানো রকমারি ফলজ, ঔষধি ও ফুলগাছের বাগানে ফুটন্ত ফুলে সুগন্ধি ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়। কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রবেশ মুখেই অত্যাধুনিক মসজিদটি দেখে যে কারই মন কাড়বে। এ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। তারা সবাই পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা।

aahar-bilas

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পুনর্বাসন প্রকল্পের অধিকাংশ মানুষ পদ্মা সেতুর ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে হজ্ব করে এসেছেন। একাধিক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হজ্ব করায় কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রটিকে কেউ কেউ হাজী পাড়াও বলে থাকে। সবুজ বেষ্টনীর মধ্যে সারি সারি পেয়ারা, কাঁঠাল, আম, লিচু, কামরাঙা, লেবু ও বিভিন্ন ফুলগাছের সমারোহ।

রয়েছে মৎস্য প্রকল্পসহ সবুজছায়া ঘেরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খেলাধুলার আঙিনা। প্রয়োজনীয় পানির ট্যাঙ্ক, ক্ষুদ্র কাঁচাবাজার ও পাঠাগারও রয়েছে। স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ প্রতিটি প্লটের সঙ্গেই রয়েছে পিচ ঢালাইয়ের সঙ্গে কালো পাথরের সড়ক। পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্লট বরাদ্দ পাওয়া মো. দাদন তালুকদার জানালেন, তিনি ৪৫ শতক জমি ও অবকাঠামোর বিনিময়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পেয়েছেন ৭ শতকের একটি প্লট ও ৬০ লাখ টাকা।

প্রাপ্ত প্লটেই নির্মাণ করেছেন দোতলা ভবন। হাজি ফয়জুল মোড়ল জানান, পৈতৃক ভিটার ৪০ শতক জমি দিয়ে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৭ শতকের একটি প্লট ও নগদ ৫০ লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে এখন সুখে-শান্তিতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি আরও জানান, প্রাপ্ত টাকা দিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করে বাকি টাকা দিয়ে স্ত্রী আছিয়া বেগম, বড় বোন মাকসুদা খাতুন ও মা হালিমা খাতুনকে নিয়ে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে হজ করে এসেছেন। একসঙ্গে এত টাকা না পেলে হজ করা হতো না বলেও

মনে করেন তিনি। তাদের মতো হাজি আব্দুর রাজ্জাক, হাজি শুক্কুর আলী, হাজি আদেল শেখ, হাজি ওমর কাওড়া, হাজি আবু বকর, হাজি ইমান আলী ও হাজি আর্শেদ আলীও ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে হজ করেছেন।
দাদন তালুকদার বলেন, পদ্মা সেতুর কাজে ঘরবাড়ি ও জমি হারালেও অনেক কিছুই পেয়েছি।

জানা গেছে, ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামের এনজিওর তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রসহ মৌলিক চাহিদার নানা কার্যক্রম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here