সিরাজদিখানে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

NEWS PIC (2)সিরাজদিখানে বর্তমান সময়ে মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে ইজিবাইক বা অটো রিক্সার ব্যবহার হয়ে আসছে। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নেই রয়েছে এই ইজিবাইক বা অটোর রিক্সার ব্যবহার। বেশীরভাগ রাস্তায় যানযটের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ইজিবাইক। বেশীরভাগ ইজিবাইকের চালকই অদক্ষ। কোন প্রশিক্ষন ছাড়াই এবং রাস্তার নিয়মনীতি না জেনেই গাড়ী চালাচ্ছে তারা। এমনি গাড়ীর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নিমতলা বাসষ্ট্যান্ড, উপজেলা মোড়, পাঁচপীর মাঝার মোড়, সিরাজদিখান থানার মোড়, গোয়ালবাড়ী মোড়, ইছাপুরা বাসষ্ট্যান্ড, মালখানগর চৌরাস্তা, বালুরচর বাজার রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টগুলোতে অদক্ষ চালকদের যত্রতত্র পার্কিং ও রাস্তার মাঝখানে গাড়ী ঘোরানোর কারণে যানযট সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। প্রতিটি পয়েন্টেই ইজিবাইক সিরিয়াল এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ২/৩ জনকে দ্বায়ীত্ব পালন করতে দেখা গেছে। প্রকৃত পক্ষে তারা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিনিধি। তারা প্রতিটি ইজিবাইকের চালকদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন। যার কোন বৈধতা খুঁজে পাওয়া যায় নি।

aahar-bilas

এমনকি ইজিবাইকের পেছনে একতা সংঘ, পাঁচপীর মাঝার সমিতিসহ অন্যান্য নামের নাম্বার প্লেটে লাগানো রয়েছে। একমাত্র চালকদের কাছ থেকে তারাই চাঁদা তোলে ইজিবাইক রাস্তা নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ীর সিরিয়াল করে চলার জন্য। অনেক সময় লক্ষ করা যায়, ম্যাজিষ্ট্রেট বা প্রশাসনের লোকজন ইজি বাইকের চালকদের জরিমানা করে ছেড়ে দেন। এমনকি থানা পুলিশও তাদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। যার ফলে রাস্তার যানযট ও অদক্ষ চালক রয়েই যাচ্ছে। প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় যানযট নিরসনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বহুবার এবিষয়ে কথা উঠালেও বাস্তবে রূপ নেইনি কোনটাই। ইজিবাইক চার্জে চলার কারণে লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে দ্বিগুন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক ইজিবাইক চালক জানান, আমাদের কাছ থেকে যে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে সেগুলো লাইনম্যনরা নিয়ে থানায় কিছু দেন এবং তারা কিছু রাখেন।

সিরাজদিখান থানা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, ইজিবাইক বা চালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় আমার জানা নাই।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, দিন যতই যাচ্ছে ততই ইজিবাইক ও অটো রিক্সা বাড়ছে। কার ইন্দনে তারা ইজিবাইক ও অটো রিক্সা বাড়াচ্ছে আমার জানা নেই। আমরা মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করি। যতক্ষন পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালত থাকে ততক্ষনই তারা ভাল থাকে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাস্তায় চলার সময় আমার গাড়ীটাও তারা সাইড দেয় না। আমি মনে হয় এবিষয়টাতে অনেকটাই অসহায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here