মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা আপন মহিমায় উজ্জীবিত

মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

FB_IMG_1543493089258-696x908

উন্নয়নশীল বাংলাদেশের যে অর্জন তার মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন নিঃসন্দেহে অন্যতম। সীমিত সম্পদ ও সীমাহীন বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশী বিদেশী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদেরও বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানেও নারীর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর এই অগ্রযাত্রায় যে নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনীতিতে নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, বেসামরিক-সামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ, এবং শিক্ষাসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সগৌরবে পথ চলা, দেশের উন্নয়নের ধারাকে করেছে আরো বেগবান।

আপন মহিমায় উজ্জীবিত তেমনি এক নারী মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার বাটিকামারী গ্রামের সভ্রান্ত পরিবারে মরহুম ছাদেক মিয়ার ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাটিকামারী হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ফরিদপুর জেলার সরদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণী বিদ্যা বিষয়ের উপর অনার্স-মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। ১ ৭ তম বিসিএস প্রশাসনিক ক্যাডার হিসেবে চট্রগ্রাম সহকারি কমিশনার হিবেবে তিনি কর্ম জীবন শুরু করেন। সদা হাস্যোজ্জল প্রানবন্ত এই নারী পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জননী। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি মনিরুল ইসলামের সহধর্মীনি।

তিনি গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে মুন্সিগঞ্জে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের শুরুতে তিনি কয়েকটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে ২ মার্চ পতাকা ৭১ ভাস্কার্য নির্মাণ করেন, যা কি না বাংলাদেশের প্রথম মানব পতাকা ভাস্কর্য হিসেবে দৃষ্টান্ত লাভ করেছে এ জেলায়। তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭ এপ্রিল হ্যালো ডিসি নামে একটি অ্যাপস চালু করেছেন।

মুন্সিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে ইদ্রাকপুর কেল্লার পূর্ব দিকে জেলা প্রশাসক শূণ্য দশমিক ৪৬ একর জমিতে ডিসি পার্ক নির্মাণ করেছেন। এদিকে ৪ আগষ্ট টেনিস গ্রাউন্ড আধুনিকায়নের পাশাপাশি জেলা ক্রীয়ার মান উন্নয়ন করারর লক্ষে ১৮ কোটি টাকার বরাদ্দে জেলা স্টেডিয়াম সংস্কার ও জিমনেশিয়ামের কাজ হাতে নেন। এছাড়াও ১০ আগষ্ট সদর উপজেলার লঞ্চঘাট হতে কাটাখালি বাজার পর্যন্ত ৩.৩ কিলোমিটার সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক নামে নামকরণ করেন।

শতভাগ স্কাউট জেলা, সবুজে সাজাই মুন্সিগঞ্জ, বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর, নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, শিশু কিশোরদের জন্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র স্থাপন, নারীদের আত্মনির্ভর কর্মসূচী, মাওয়া ঘাট স্থাপন, গরীব মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়ক উপকরণ প্রদান করেন। ২৪ জুলাই জেলাবাসীর হয়ে তিনি ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি মেডিকেল কলেজের জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি কর্মজীবনে দায়িত্বের সাথে জেলাবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

এর আগে তিসি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের পদে দায়িত্বের সাথে কাজ করেছেন।

সূত্র: মুন্সিগঞ্জ ক্রাইম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here