পাক বাহিনীর সাথে রতনপুরের যুদ্ধে অংশ নেই-বোরহান উদ্দিন বেপারি

মোহাম্মদ সেলিম ও গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: বুধবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

বোরহান উদ্দিন বেপারি

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বোরহান উদ্দিন বেপারি। তার পিতার নাম হচ্ছে মৃত আব্দুল জব্বার। মা মৃত আলিমুন নেছা। তিনি ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ১ জানুয়ারি সোলারচর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি হরগঙ্গা কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করছিলেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এস.এস.সি পাশ করেন।
দেশ মাতৃকার টানে তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেন। সেই সময়টা ছিলো এপ্রিল মাস।

aahar-bilas

মাকে বললে মা মুক্তিযোদ্ধে যেতে দিবে না। তাই এপ্রিল মাসের এক সকালে মা পাশের বাড়িতে গেলে, মাকে না জানিয়ে একই গ্রামের আরো তিনসহ পার্টিকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান বোরহান উদ্দিন বেপারি। এই সময় তার সহপার্টি ছিলেন এনামুল হক সরকার, আব্দুল বাতেন ও মনির হোসেন। বড় ভাই সেই সময় পাটের ব্যবসা করতেন। তার সেই পাটের ব্যবসার টাকা বাড়িতে রেখে যাওয়া জামার পকেট থেকে ৭৫ টাকা না জানিয়ে নিয়ে যাত্রা শুরু করি মুক্তিযোদ্ধের পথে। প্রথমে সেই দিন মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে আসি অপর সহপার্টিদের নিয়ে।

সেখান থেকে লঞ্চে করে কুমিল্লার রামচন্দ্রপুরে যাই সন্ধ্যার দিকে। সেখানে এই চারজন একজনের বাড়িতে রাত্রিযাপন করি। সকালে সেই বাড়ির গৃহ কর্তার সহযোগিতায় আমরা পাড়ি দেই কসবার গঙ্গা সাগর। তারপরেই আমরা পৌঁছি আগরতলার গকুলনগরের মুক্তিযোদ্ধের ক্যাম্পে। সেখানে ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার গভর্ণর সামসুল হক। তিনিই ছিলেন মুলত মুক্তিযোদ্ধকালিন গকুলনগরের ক্যাম্পের প্রধান ইনচার্জ ছিলেন। এখানে থাকালিন দুইদিন পর এখানে আসেন বর্তমান বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আ.স.ম. আ: রর, প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মণি। তাদের নেতৃত্বে আমাদের চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয় মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় ক্যাম্প গ্লাস ফ্যাক্টরী এলাকায়। সেখানে তাদেরকে এক সপ্তাহের সামরিক ট্রেনিং দেয়া হয়। হাফলং ক্যাম্পে গুর্খা বাহিনী তাদের এ ট্রেনিং দেয়।

সেখান থেকেই আমার নামে এস.এল.আর. ইস্যু করা হয়। এরপর আমরা চারজন আবার যুদ্ধের জন্য দেশে ফেরার উদ্যোগ নেই। প্রথমবার দেশে প্রবেশের মুখে পাক বাহিনীর বাধার মুখে আবার ক্যাম্পে ফিরে যাই। দ্বিতীয়বারের চেষ্টা দেশে প্রবেশ করি। এরপর সোলারচর গ্রামে আসার পর অন্যান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করি। ভারত থেকে আমাদের যে সামরিক ট্রেনিং দেয়া হয়, সেই ট্রেনিংই আমরা রাতের আধারে বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতাম।

পরে মুন্সিগঞ্জ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেই। তার মধ্যে রয়েছে মুন্সিগঞ্জ থানা আক্রমণ। আর পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যোদ্ধ হয়েছে রতনপুরে। সেখানেও আমরা অংশ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here