মুন্সিগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি কোচিং বাণিজ্যে এভিজেএম ও কে.কে. গভ. ইন: মেতে উঠেছে

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

mizanur-rahman-nasir

কোন ধরণের নিয়ম না থাকা সত্নেও কোচিং বাণিজ্য করে যাচ্ছেন এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কে. কে গভ. ইনস্টিটিউশনের কতিপয় কিছু শিক্ষক। ভর্তি কোচিং বাণিজ্যের নামে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রতি বছরই সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ঐ শিক্ষকরা এখন ভর্তি কোচিংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

sultan

অথচ মুন্সিগঞ্জে সনামধন্য দু’টি সরকারি স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য করে যাচ্ছে স্কুলের রাজস্ব থেকে বেতনভুক্ত শিক্ষকগণরা। এ ধরণের ভর্তি কোচিংয়ের বিধান না থাকলেও এই সকল শিক্ষকগণের কাছে ভর্তি কোচিং করলেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিয়তা থাকায় সেখানা অভিভাবকরা তাদের কোমলমতি ছেলে মেয়েদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছে।

abirpsd copy

তাই সকল অভিভাবকগণরা ভর্তি নিশ্চিয়তা জেনেই এই সকল শিক্ষকগণের কাছে ভর্তি কোচিং করাচ্ছেন এবং এ বাবদ শিক্ষকগণরা প্রতিজন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রকারভেদে ৩০০০ হাজার টাকা ও ৪০০০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৫ দিনের এ কোচিংয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের এ খাত থেকে বাড়তি আয় হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। যা কিনা সরকারি বেতনের ৬ মাসের রুজির সমান।

bipul-shuvro

এখানে কোচিং বাণিজ্যের হোতা রাজু কামিয়ে যাচ্ছেন ৬ লাখ টাকার টাকার মতো বাড়তি ইনকাম। প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে কোচিং করিয়ে লাক্ষ লাক্ষ টাকা ধাপ্পাবাজি দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছে কিভাবে তা নিয়ে সবার মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে? এটাই এখন সকল অভিভাবকদের প্রশ্ন? কন্টাকে প্রতিজন ছাত্রদের থেকে ৪০০০ হাজার টাকা করে নিয়ে কোচিং করাচ্ছে দুই স্কুলের শিক্ষকগণরা। প্রতিযোগিতা করে ১৫দিনে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুই স্কুলের শিক্ষকগণরা। অভিভাবকগণ এই সকল শিক্ষকের কাছে কোচিংয়ে ভর্তি করাতে পারলেই মনে করছেন এভিজেএম ও কেকে স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত হয়ে যাবে।

aahar-bilas

এজন্যই অভিভাবকগণরা ১৫দিনের জন্য ৪০০০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে তাদের সন্তানদের কোচিংয়ে ভর্তি করিয়ে পড়াচ্ছেন। পরীক্ষার মাত্র ৩দিন বাকী। শনিবার (১৫ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এভিজেএম স্কুলের সহকারি শিক্ষক তৌফিক ১৫ জন করে ৪৫জন, সামসুর রহমান ২৫জন করে ৭৫ জন, নিবির ৩৬ জন করে ১০৮জন, অনিল ৩০ জন করে ৬০ জন, সাহাবুদ্দিন ২৪ জন করে ৪৮ জন কোর্চিংয়ে ভর্তি করিয়ে পড়াচ্ছেন। এরা প্রত্যেকে বাসা ভাড়া করে দুই রুম তিন রুম নিয়ে শুধুমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে কে কে স্কুলের শিক্ষকগণও পিছিয়ে নেই। রফিকুল ইসলাম ১০ জন করে ২০ জন, রাজ্জাক ২০ জন করে ৪০ জন, অজিত ১০ জন করে ৩০জন, জালাল ৩৫ জন করে ১০৫ জন করে পড়াচ্ছেন। এদের প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে সর্বোচ্চ ৪০০০ হাজার টাকা করে অগ্রিম টাকা আদায় করে ভর্তি নিশ্চিত করে পড়াচ্ছেন। তবে কেউ কেউ ৩০০০ টাকাও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে স্কুল পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা এবং দুটি সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় যার কাছে পড়লে ভর্তি ১০০% নিশ্চিত বলে কোচিং করান তিনি কোন স্কুলের শিক্ষক নন তবে সকল অভিভাবকগনের কাছে রাজু সার নামে পরিচিত। তিনি প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে ১৫০জন পড়াচ্ছেন। প্রশ্ন ফাঁস থেকে শুরু করে সকল অপকর্মের হোতা এই রাজু। প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি মহিলা কলেজের সাথে এড. মান্নান মুন্সীর বাড়ী ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে এই কোচিং ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে ভর্তি কোচিং বানিজ্যে জড়িত শিক্ষকগণ সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে হুমকি ধমকি প্রদান করে এবং কেউ কেউ পালিয়ে যায়। তারা দাবী করছে বেশী টাকা নিচ্ছেন না তারা ফ্রিও পড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) রকিব হায়দার জানান, বিষয়টি জানলাম, জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তথ্য সূত্র: মুন্সিগঞ্জ ক্রাইম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here