মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনে পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, রোববার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Untitled-122-5c1e95ea8c968

এক সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে (সদর ও গজারিয়া) নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিনরাত নির্বাচনী জনসভা, উঠান বৈঠক ও হাটবাজারগুলোতে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাই মনোনয়নপত্র দাখিলের পর কয়েকদিন প্রকাশ্যে গণসংযোগ করলেও শেষ মুহূর্তে তৎপরতা চালাচ্ছেন মোবাইলের মাধ্যমে।

mizanur-rahman-nasir

বিএনপি নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ধানের শীষকে জয়ী করার নানা পরিকল্পনা দিয়ে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা পর্যবেক্ষণে রেখে নীরবে কাজ করছে বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারানো আসনটি কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে এবার উপযুক্ত প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

bipul-shuvro

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালাতে বাধা ও হুমকি প্রদান করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। এর ফলে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

abirpsd copy

রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মুন্সিগঞ্জ সদর আসনটি নিজেদের দখলে থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে হাতছাড়া হয়ে যায় বিএনপির। বর্তমানে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে বিগত সময়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত আব্দুল হাইকে দলীয় প্রার্থী করেছে বিএনপি।

aahar-bilas

মাঠ গোছানোর সময় কম পেলেও তৃণমূলে সমর্থন বেশি থাকাই বিএনপির মূল ভরসা। অন্যদিকে আসনটি আবারও নিজেদের দখলে রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বিকল্প নেই আওয়ামী লীগের। তবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাসকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে জনসভা অব্যাহত রাখায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সামছুল হক। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নূর মোহাম্মদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরপর বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামছুল ইসলামকে পরাজিত করে দীর্ঘ বছর পর মুন্সিগঞ্জ-৩ সদর আসনটি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করায় অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি এম ইদ্রিস আলী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আনিছুজ্জামান আনিছ দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।

নেতাকর্মীরা আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপির বিরোধ থাকলেও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর হুঁশিয়ারি থাকায় সেই বিরোধ এখন নেই। ফলে নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বিগত সময়ে পৃথক থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এখনও একাধিক প্রকল্প চলমান, তাই এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতেই ধ্যান ও মন এখন নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে ব্যস্ত। বিগত সময়ের মতো আগামীতেও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে শহর বিএনপির সভাপতি ইরাদত হোসেন মানু বলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিগত নির্বাচনে চারবার নির্বাচিত সাবেক এমপি আব্দুল হাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থী। প্রতিপক্ষ দলের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন নির্বাচনী প্রচার চালাতে দিচ্ছে না। কয়েকদিন আগে শহরের থানারপুলস্থ দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।

বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল হাই অভিযোগ করে বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট চাইতেও বাধা ও হুমকি প্রদান করা হয়েছে। তাই নির্বাচনের দিন ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. লুৎফর রহমান বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা নিতেই বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাই নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন না।

সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here