মাহতাব উদ্দিন কল্লোলের আনারস প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

বৃহস্পতিবার, ২৮মার্চ ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Munshiganj News Election 20-03-19 (Pic) (1)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচনে শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মাহতাব উদ্দিন কল্লোলের আনারস প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চারদিকে তারই জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

53803611_827811344230447_2539435684758814720_nদিনের পর দিন তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তার উঠান বৈঠকগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মহিলা ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া এই নতুন প্রার্থী।

এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন তার সহধর্মিণী জেলা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মোরশেদা বেগম লিপি। তিনিও এক সময় ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূল মানুষের কাছে এসএম মাহতাব উদ্দিন কল্লোলের গ্রহণযোগ্যতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আশান্বিত করছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীরাও তাকে ভোটের মাঠে পেয়ে বেশ উজ্জীবিত।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মাহতাব উদ্দিন কল্লোল মুন্সীগঞ্জ জেলা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ সালে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন। ৪ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল ও ডিটেনশন খেটেছেন।

54233715_856174051400340_3056592125639524352_n১৯৮৬ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা মৃত্যুবরণ করলে তাকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারেলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তিনি হাতকড়া অবস্থায় তার মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, সাবলীল বক্তৃতা ও সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে সহজেই মিশে যাওয়ার ক্ষমতা- তরুণ ভোটারদের আগ্রহের প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকেই তার বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় মহাকালী ইউনিয়নের মধ্যমহাকালীর মাদবর বাড়ির উঠান বৈঠকে এমনই দৃশ্যের অবতাড়না হয়। সদর উপজেলার নির্বাচনে তারুণ্যের অহংকার, সময়ের সাহসী এই নেতার প্রতি নতুন ভোটারদেরও আগ্রহের কমতি নেই। সচেতন নাগরিক সমাজের মুখপাত্রদের কাছেও সমান গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা এসএম মাহতাব উদ্দিন কল্লোল ভাইয়ের জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সদর উপজেলার ভোটারদের মাঝে নব জাগরণের সৃষ্টি ও নতুন চেতনার সৃষ্টি করেছেন। নতুন চাওয়া-পাওয়া সৃষ্টি করেছেন।

54730548_379896212865396_523282412864536576_nসাধারণ ভোটাররা তাকে পেয়ে আশান্বিত হয়েছেন। বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মাহমুদ বাবু জানান, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা পরিবর্তন চান। এদিকটা বিবেচনা করলে আনারস এগিয়ে থাকবে। এছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তাদের সহযোগিতা পাওয়ার আশা করাটা অন্যায় হবে না নিশ্চয়ই? বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান রিপন বলেন, এসএম. মাহতাব উদ্দিন কল্লোল ভাই চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন। তার মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

মানুষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে অস্ত্রবাজ, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ীদের আর দেখতে চান না। তারা একজন ভালো মানুষকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান। স্বতন্ত্র প্রার্থী কল্লোল ভাই সবদিকই দিয়ে ভালো। মানুষের বিবেচনা থাকলে আনারস মার্কার এই প্রার্থীর জয়ের সম্ভবনাই বেশি। আর যদি মানুষ ভাবে বা চিন্তা করে সমাজে যা হবে হোক- আমার কি? আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ দেখতে চাইবে না- তাহলে আর কি করার আছে?

54433297_2246479992041616_1508478435175956480_nযুবলীগ নেতা আবুবকর সিদ্দিক জানান, মুন্সীগঞ্জ সদরের মানুষের পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বলয় ভাঙতে হবে। মুন্সীগঞ্জে একটি পরিবার রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করেছে। এখন সময় এসেছে তার প্রতিবাদ করার, প্রতিরোধ করার। আমরা আশা করছি,

মুন্সিগঞ্জ সদরের মানুষ তা করে দেখিয়ে দিবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ পাভেল বলেন, আমি আমার পদ-পদবি নিয়ে চিন্তিত নই। আমি চাই আমাদের নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন। মাহতাব উদ্দিন কল্লোল ছাত্রলীগের রাজনীতি করা একজন মানুষ।

তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তার চেয়ে যোগ্য আর কাকে ভাবতে পারি। তাই তার সমর্থনে আছি- কাজ করছি। জাতীয় শ্রমিক লীগ, মুন্সিগঞ্জ শিল্পায়ন শাখার সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, আনারসের পক্ষে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

তাছাড়া প্রার্থী মাঠপর্যায়ে প্রচারণায় বেশ জোর দিয়েছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন উঠান বৈঠক করছেন। আশা করছি আনারস বিজয়ী হবে। মহাকালী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নাসির মাদবর জানান, আমরা দীর্ঘকাল প্রতিক্ষার পর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে কল্লোলের মতো ত্যাগী একজন নেতা পেয়েছি।

54433762_633737087076262_5598999262047240192_nতার প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে পেয়ে বেশ উজ্জীবিত। আধারা ইউনিয়নের শেষ সীমানা কালীরচরের বাসিন্দা মনা মোল্লা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। অনেকে নিজেদের চরের লোক বলে প্রচার করলেও তাদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। তাই এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী কল্লোল ভাইয়ের আনারস মার্কার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

উল্লেখ্য, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে আগামী ৩১ মার্চ রোববার অনুষ্ঠিত হবে মুন্সিগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলার নির্বাচন।

এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৫৪ জন। পৌরসভা দুটি হলো মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও মিরকাদিম পৌরসভা। ৯টি ইউনিয়ন হচ্ছে- মহাকালী, পঞ্চসার, রামপাল, বজ্রযোগিনী, চরকেওয়ার, আধারা, মোল্লাকান্দি, বাংলাবাজার ও শিলই ইউনিয়ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here